অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

আরেকটি উত্তম শেষ কবিতা

আর একটা মিনিটও যদি দিতে আমায়
আমি চাইতাম আরো একটা, আরো একটা মিনিট
কবিতাটা আমার শেষ হোতো না।
সেই বুঝেই আমায় নিষিদ্ধ করেছ তুমি,
“বড্ড রুগ্ন অস্থির তুই, বয়সেও কত ছোট আমার থেকে”।

আলাস্কার কাঠব্যাঙের মত সাতমাস হিমায়িত থাকি আমি,
তপস্যায় কোনো মন নেই আমার
সব তপস্যা তোমাতে;
বাকিটা সময় শব্দমায়ার জাল বুনতে থাকি,
দুঃখের দলিল থেকে সমর্পণের ম্যাজিক সবই ছন্দে,
তোমার সাংসারিক বুদ্ধি, বিবেচনা সবই মধ্যমিলে
কবিতা চলে গড়গড়িয়ে, নিপুণ, ধূসর অশ্বমেধের ঘোড়া।

আর একটা মিনিটও যদি দিতে আমায়
অপরিমিত দেরী হয়ে যেত
কবিতাফল পচে টক হয়ে যেত খোসা থেকে শাঁস,
সমাপ্ত হোতো না, পূর্ণ হোতো না সেই বিধুমুখী মাস্টারপিস।
শেষ প্রেমটাই আমার সবথেকে বড় ধাক্কা
শেষ লেখাটাই সবচেয়ে প্রিয়, সব রচনার উৎকৃষ্ট,
সেটাই তোমাকে পাঠিয়ে দিই এখন।
আবার লিখব কাল, ভোর থেকে মাঝরাত, আরেকটি উত্তম শেষ কবিতা
তোমারই জন্যে।

গন্ধের নির্ভুল স্মৃতি

কথামালা চলে গেছে সন্তর্পণে, ভোর ফোটার আগে।

প্রথম বারোটা মিনিট আমি শূন্যে থতমত খাই,
অনস্তিত্ব শূন্যে,
তারপর স্পষ্ট হয় দরজার মসৃণ ষড়যন্ত্র,
মেনে নেওয়ার পাঁচ পর্ব।

তবে রইলো কি আর? স্মৃতি?

স্মৃতিরাও গোঁজামিলে তথ্য বানাচ্ছে ইদানীং
বাঁছিয়ে রাখতে হবে শরীরে তার গন্ধ,
নাভির সুবাস, জোড়া পায়রা বুকের ঘ্রাণ।
আমার সুখের মধ্যে গন্ধবাহার ভেজা
রয়েছে এক স্বপ্ন, সাবধানে উপস্থিত
হয়ত নির্ভুল স্মৃতি হবে কোনোদিন, আগলে রাখতে পারি যদি।
আজ আর কোনো শ্যাম্পু নয়, দাড়ি কামালে নিষ্পাপ জিলেট,
সাদামাটা লোশন দিয়ে ঘাবড়ানো হাতের কাটাছেঁড়া ঢাকা।
আজ গ্ল্যাডিয়েটরের মতন রক্ষা করা
ফেলেযাওয়া লাভিয়ে বেল, শ্যানেলের কিঞ্চিত ছোঁয়া
জোড়া পায়রা বুকের ঘ্রাণ।

কথামালা চলে গেছে সন্তর্পণে, ভোর ফোটার আগে।
আমার বুকের মধ্যে গন্ধবাহার ভেজা
রয়েছে এক স্বপ্ন, সাবধানে উপস্থিত
হয়ত নির্ভুল স্মৃতি হবে কোনোদিন, আগলে রাখতে পারি যদি।