জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা

সেগুন ফুল

এখানে কাজুর ঝোপে ছায়া আছে খুব
মৌমাছি নেই রিরংসা ডাক দেয় গোপনগভীর
ভাসমান চেতনায় প্রকৃত অর্থে বাজে বিরহী মাদল
ধ্বনিটানে দ্যাখো ওই দূরে দাঁড়িয়ে যে কদম একাকী
হয়তো কদম নয় আমের মুকুল ভরা ডাল সবুজ পাতায়
ফুটে অপরূপ ছবি এ কেমন রূপ দৃষ্টিও থেমে যায়
এমন মোহনে মগ্ন সে ব্যর্থ প্রেমিক

এ শ্রাবণে আম নয় সেগুনের ফুলে ভরা গা
ঘ্রাণ পায় অতিথি মৌমাছি মিলন রাগিনী বুঁদ
অপার সৌন্দর্য এই ফুলের দুপুরে বাজে ধারাপাতে পলাশের ককটেল গ্লাসে বল্লরির অহংকার
কপাল ছুঁয়ে ফিরে বসে প্রিয় মুখ চেয়ে
সে ফুলের রং মেশে বুকের গভীরে তরল ক্যানভাসে

চুইয়ে পড়া জল আর দুধের অনুপাত আজ বেহিসাবি
ফুলের সজ্জা ক্ষরণ যন্ত্রণা মধুময় মিলেমিশে যায়…….

ভাঙন

ক্ষয়ে যাচ্ছে দেহ
অস্থি মজ্জা খুলি মন ও মনন
বর্ষা অভিমুখ তবু বিশ্বাসে চিড়
ফুটিফাটা মাঠে আগাছার ঘুম

১৮০° নিরাপদ দূরত্ব নেয় চেনামুখ
নীতিবোধ আদর্শ… বোকার ঝুলিতে
বোধ ভাসে ঘোলাজলপাঁকে

প্রচণ্ড শিকল ভাঙি সামর্থ কই?
এই তো ক্ষয়ের দেহ ক্ষীণতম বাঁচা
জলের নিয়মে চলে জল
মীন ও মানুষ আপ্তবাক্য জানে
সবকিছু বীরের বিষয়

বৌদ্ধিক মান গেলে সবাই ভিখিরি
হিরা আর ছাই শ্রেণিভেদহীন
ভেঙে পড়ে সুদৃঢ় প্রাসাদ

চেনা মুখের বিদ্রুপে আস্থাহীন
গভীর প্রত্যয়

বাউল,পাজামা আর ভুবনডাঙা

তোমার জীবনে ছাপ্পান্নটা বাঁক,
পাজামায় ছত্রিশটা তালি,
দড়িতে ছাব্বিশটা গিঁট আর
রাস্তায় ছিয়াত্তরটা গর্ত……
তবু কেমন সুন্দরভাবে তুমি
ডানাতে বেলুন বেঁধে ভাসছো আকাশে
দিগন্ত ছাড়িয়ে কোন ভুবনডাঙায়
পেতেছো নাচের মুদ্রা বাউলের ছাঁদে।

প্রচলিত ফাঁদ বাঁধেনি তোমায়
বোহেমিয় মন নিয়ে নীল পাহাড়,মরু
আর জলের ভেতর সারসের ঠোঁটে
গেঁথেছো পঙ্ ক্তিগুলি শিল্পীর মতো।

হে বাউল,তোমার পথের গর্তে,
পাজামার তালি আর গিঁটে,
ডানায়-ঠোঁটে-নাচের মুদ্রায়
একতারা হাতে খুঁজে নাও
আর এক বাউলকবি রবি যাঁর নাম।