দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের কবিতা
সুসকাল
দরজার খোলা একটি অপেক্ষা মাত্র
বেরিয়ে পড়লে একটা ভোরের রাগ
সারা শরীরে বাজতে থাকে সবুজ আলোয়
আকাশ তো কাশ নয় একটা কমলায় লোভী করে তুলে নীল সাদা সেবিকা মেয়েটি কত রঙের
ওষুধ গেলায়
তার বুকের পাখিটি দেখি আর দেখি আর হাতখাঁচার আদর দিতে
গেলে কোথায় হারিয়ে হেরো করে
দুয়ো দুয়ো ওঠে
চোখ ঝোপের অজানা ফুলের কাছে
বোবা গল্পের ঝাঁপি নিয়ে ঝাঁপায়
সুন্দরের পোশাকে সুন্দরই লেখা
লাখের থেকে দামি
বাজারের ভিতর বাজতে পারি না
মাছের শরীরের কষ্ট কাঁটা বিঁধে
জানায় মৃত বন্ধুর যন্ত্রণা গলায় গলায় তাকে আর ফিরে পাবো না
তবুও সুসকাল লিখি
ব্যাকরণের বাইরে
মর্গের কাছে কোথাও তীব্র কামিনী ফুলের গন্ধ
শব ব্যবচ্ছেদ হচ্ছে
সুরতহালের সংবাদ প্রতীক্ষায়
একটা অনেক পুরনো বাংলা ছবির গান আসছে
ফুলশয্যার রাত্রিরও
পূর্ণিমার চাঁদের মেঘের সঙ্গে খেলা
মশারির শীৎকার
আর ঠোঁটের প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ
বিচ্ছেদ একটা দুর্ঘটনাই
হঠাৎ একলা হয়ে যাওয়া
পুকুরের কাছে গিয়ে দেখে
একটি মৃত মাছের চোখ
উজ্জ্বল হয়ে আছে জোছনার সহবাসে
এখানে যতিচিহ্ন নেই
আমার ঘরে
ধনেপাতার গন্ধ মিলিয়ে যেতেই মুকুল এলো
এক একটা বেছে তুমি সরিয়ে রাখছো মৌরলা শরীর
ছুটির ভেতর কোনো ভ্রূ কুঞ্চন নেই আর পা – তাড়া
লাউ এর গা থেকে কিছু ত্বক ঝরে গেলে নরম
আর রক্তের ভেতর আপাতত বিরক্ত না থাকায় সাদা চোখ
তুমি টিপে নিচ্ছো সফেদ ফেনার শস্যদানা
মাঝে উঠে আসা ঢেঁকির গল্প মেশিনে হারিয়ে গেলে
কাঠকয়লার আগুন নিভে যায় আর আঁচ বাড়ানো কমানোয়
অভ্যস্ত তুমি রেখে আসা বিছানার চাদরে আদর
এতো রঙ ছটায় গাছগুলো পেকে যাচ্ছে ক্রমশ
তেলহলুদ , পেঁয়াজ লবণে মাংসাশী করে তুলছো না তো !
পৃথিবীর অসুখকালীন লেখা
অস্পষ্ট কিছু থেকে যায়
যেন ডাকবিভাগের সীল
কোনো কিছুই খোলসা হয় না
নির্দিষ্ট বিন্দুর দিকে ধাবিত হবার পরেও
শূন্যতা গ্রাস করে
জলের শরীর ধরে চলে গেলে
অপেক্ষার দৃশ্য ভেসে ওঠে চরে
খোশগল্প করার পরও
বন্ধুর খবর নিতে ভুলে যাই
যেন কিছুই হয় নি
একমাত্র পৃথিবীর অসুখের পর
দিব্যি চলে যাচ্ছে সংসার!
অন্ধকারের গদ্য
এই একাকী অন্ধকার দাঁড়িয়ে রয়েছে
সুপারির গন্ধ ছড়িয়ে । আকাশের উপর তারারা অঙ্ক কষে রেখেছে । ধূপের ধোঁয়া দেবতা ঢেকে এক রহস্য গল্প লিখে ছম ছম করে তুলেছে গোটা পরিবেশ । ওই যে দেওয়াল ডেকে উঠলো টিকটিকির স্বরে আর ফ্যানের ব্লেডে নেমে আসছে একটা স্নান পরবর্তী হাওয়া । অন্ধকারও একটা ঘুড়ির স্বপ্ন দেখে চাঁদ স্পর্শ করে যে নেমে আসছে চাঁদ করবে বলে । চাঁদা হারিয়ে গেলে জ্যামিতি বক্সে সৌন্দর্যের অভাব দেখা দেয় । ঝোপের কাছে বসে আছে শিকারি । একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গেছে তার ইচ্ছে । তার ভিতরে ঢুকে গান লালন পাচ্ছে । তুলসী তলায় লালপাড়ের জ্বালানো প্রদীপের বুক কাঁপলেও আলো এলো । আর শব্দও শাঁখের হাত ধরে। একলা হারিয়ে গেল আবার সেই অন্ধকারেই ।