মোহাম্মদ আন্ওয়ারুল কবীরের কবিতা
দৃষ্টিতে বিভ্রম
সেই কবে থেকে ঝুলে থাকা মাইলফলকে চোখ বুলিয়ে খুঁজে চলেছি পায়ের ছাপ।
অন্বেষণে অন্বেষণে বুড়ো বটগাছের শেকড় বিস্তৃতি, ঘ্রাণে ভেসে আসে অন্ধফকিরের হেঁয়ালী গানের অলীক।
টুকরো টুকরো হয়ে ক্বলব ছুঁয়ে যায় বিগব্যাংপূর্ব আজানের সুর; দৃষ্টিতে বিভ্রম, সত্য-মিথ্যে মিশে একাকার।
প্লেটোনিকে নয়
বাতাসও সংবেদী, অচৈতন্যে চৈতন্যের বীজ ঠাসা থাকে, কান পেতে শুনে যাও শিস
জড়ের ভেতরের বোধ অবোধ নয়, মাটিও বোঝে ছোঁয়াছোঁয়ির মায়া
প্লেটোনিকে নয়, পাথরে পাথরে ঠোকাঠুকিতেই জেগে ওঠে প্রমিথিউস
দিয়ে যাও তোমার ছোঁয়া
মেঘেরাও ভুল করে অফ সিজনে ঝরায় উত্তাল জোছনা, মাতোয়ারা বালিকা হয়ে যায় উচ্ছল রমণী।
পাহাড়কোটরে বিষণ্ণ বিলাপে ক্যাকটাস ফোটায় ফুল। ক্যাকটাসের সব কষ্ট বুকে পুষে মরুকবি আন্ওয়ার হৃদয় মর্মরে চলছে লিখে বিরহী কাসিদা।
বালিকা তুমি হয়ে গেছো রমণী, দিয়ে যাও তোমার ছোঁয়া, বিরহী কাসিদা উড়ে যাক আজ আনন্দ পায়রা হয়ে।
স্ত্রৈণ
আচমকাই তীব্র মায়ায় টেনে নিলো আমাকে অখন্ড এক ব্ল্যাকহোল, অতল সুড়ঙ্গের অলীক জ্যোৎস্নায় মেতে আছি, কাটছি সাঁতার হরিণীর চোখে চোখ রেখে।
কামরূপ কামাখ্যার পৌরাণিক নারীই জানে ভালোবাসা।
বেশ তো আছি! কে আর খুলতে যায় এসকেপ ভেলসিটির জটিল জট! স্ত্রৈণ বলছো তোমরা, তা বলতেই পারো, পরোয়া করি না আমি!
চেতনা
দৃষ্টিরও রকমফের আছে। খোলাচোখে কাঠামোটুকুই পাবে।
আণুবীক্ষণিক চোখ আনো, দেখবে ইলেকট্রন, প্রোটন আর নিউট্রনের খেলা। কোয়ান্টাম ভাবনায় চোখ মেলো এবার। শূন্যতা কোথায়? দেখো এবার শক্তির চমক, মৌলিক চার শক্তির বিষ্ময়কর তান।
দৃষ্টিবিভ্রম কিংবা মায়া নয়, সব দেখা্ই দেখা। এ তো হালের বিজ্ঞানেরই কথা।
যার যার মতো করে দর্শন সাজাও। বাধা নেই। শক্তিবলয়ে ভেসে থাকা ক্ষীরটুকুই কি তোমার, আমার কিংবা ঈশ্বরের চেতনা!