অণুগল্প : নৌকাবিহার

অণুগল্প : নৌকাবিহার

নৌকাবিহার
সুদীপ ঘোষাল

একদল বলাকার দল উড়ে এল রিমির মনমেঘে।তখন সে সাদাশাড়িতে সতের।দেহের সাগর ঘিরে উথালপাথাল ঢেউ।ঠিক সেই সময়ে নোঙর করে তার মনের তীরে সমীরণের ছোঁয়ায় তার শিরশিরে পানসি নৌকার অনুভব।ধীরে ধীরে পালতোলা জাহাজের মত দুজনের প্রেম তরতরিয়ে এগিয়ে চলে।শত ঝিনুকের মুক্তোর সোহাগে দুজনেই রঙীন হয়ে উঠত।
চিন্তার রেশ কাটতেই বিপিন বলে উঠল,রিমি তুমি এত কী চিন্তা করছ?
– কিছু না।এমনি করেই কাটুক সময়।
– আমাদের বিয়ের পাঁচ বছরে একটা অনুষ্ঠান করলে হয় না?
– থাক ওসবে আর কী হবে? এই বেশ বসে আছি নদীর তীরে।
– তোমার অতীতের কথা বলো। আমি শোনব।
– কেন তোমার অতীত নেই?
– আমার অতীত বর্তমান হয়ে রাজুর বউ হয়ে বসে আছে।
– ও, রাজুর বউ তোমার পূর্ব প্রেমিকা ছিল?
– হ্যাঁ ছিল একদিন। গ্রামের মন্ডপতলায় গেলেই মনে পড়ে বাল্যপ্রেম।কাঁসর ঘন্টা বাজত আরতির সময়।আমি ভালো কাঁসর বাজাতাম।আর তাছাড়া ওর মুখ দেখার লোভে ছুটে চলে যেতাম পুজোমন্ডপে। আরতির ফাঁকে দেখে নিত ওর চোখ আমাকে।তার চোখের নজর আমার দিকেই থাকত। সারাদিন তাকিয়ে থাকতাম ওদের বাড়ির দিকে।যদি একবারও দেখা যায় ওর মুখ। অসীম খিদে চোখে কেটে গেছে আমার রোদবেলা।
– আমারও অতীত ভেসে গেছে অজানা স্রোতে।এসো আজ আমরা আবার নতুন মনে এক হই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথ চেয়ে।
– হ্যাঁ ঠিক বলেছো তুমি। পুরোনো ব্যাথায় মলম লাগাব দুজনে দুজনকে।চলো আজ নৌকাবিহারে আমাদের বিবাহবার্ষিকী পালন করি।
– চলো। নব উদ্যমে এগিয়ে যাই আমরা নবসূর্যের আহ্বানে।