জয়ন্ত মিশ্রের কবিতা
মায়ানিশি
সূর্য তলিয়ে গেলে বসি তার পাশে
আঁধারের আড়ালে আর্দ্র বাষ্পে আদর করে, ভাসি তার বুকে জোছনার পানসিতে,
জল তরঙ্গ ভেঙে ভেঙে নিয়ে যায়
বালুচরির গোপন বাঁকে, জ্যোৎস্না মাখা
রোমাঞ্চিত ঝাউয়ের ফাঁকে।
উচ্ছ্বসিত সজল লিপি ছিটকে আসে
মুখের পরে বুকের পরে ভালোবাসার ছলাৎছল।
নেশার পাত্র ভরিয়ে আনে ছাতিম-বাস,
আষ্টে-পৃষ্ঠে গড়াগড়ি একঘেঁয়ে শৃঙ্গারে।
চাঁদ ডুবে যায় ঝাউয়ের নীচে গভীর ক্ষতে।
নিশাচরের সাইরেন ফিরতে বলে শমে
ভাঁটায় আবার আসি ফিরে জমাট কালো দ্বীপে।
ভাঙন
দুটি থাম ঝুঁকে আছে বিপরীত পানে
পতিত প্রসাধন প্রলেপ
ফাটল জাগে এক মাঝ বরাবর।
সোহাগের দীনতায়
ঢুকে অযাচিত শিকড়-বাকড়
মরচে বাতাস যত লৌহ শিরায়।
বিকেলর রোদ সরে গেলে মাঠে
ক্ষয়া চাঁদ জাগে কখনো বা
রোগা স্মৃতি দুর্বল সেতু বেয়ে হাঁটে।
একদিন ভেসে যাবে অন্ধকার বাঁকে
শুধু পায়ে পায়ে লেগে থাকা লতা
ভাঙনের পথ বেঁধে রাখে।