শীতল চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
পোড়ো বাড়ি
গায়ে প্লাস্টারের পোশাক নেই
একান্তের পোড়ো বাড়িটায় ৷
দেওয়াল কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে
নোনাধরা -খোবলানো ক্ষয়া ইঁটে৷
বিবর্ণ জানলায়
উই লাগা কাঠের শেষ জীর্ণতা ৷
দরজার আপন আড় কপাটিতে
উঁকি দেয় মানুষ বাসের স্মৃতি ৷
একদিন এ বাড়িতে মানুষ থাকার স্মৃতিকে
ধরে রাখছে কিছু মাকড়সা,
ঝিঁঝি রূপ উত্তর প্রজন্ম আর
সরীসৃপদের জীবন্ত কিছু বক্ররেখা ৷
কে জানে , সত্যিই এ রূপে
বিগত বাঁচার স্পন্দন কী না !
সমার্থক
রাতেরও সকাল ফোটে
রাতকে সকালে খুঁজলে ৷
খুঁজলে রঙ বদলানো রূপোলিতে
সূর্যের রূপান্তর ৷
রাত্রির মতো রোদ্দুরে জাগা যে শরীরের
পার্থক্যহীনের সুস্পষ্টতায় দৃশ্যমান ৷
রাতের আলোতেই
যা বিচ্ছুরিত জীবনের
একটা অনুভবী উচ্চারণ
ভালোবাসা ৷
যে অনুভবে-
অনুরাগী, বৈরাগী এবং নিষ্ঠাচারীর
ভালোবাসার জন্য –
রাতও সকাল হয় ৷
ঘুম আর জাগা অপার্থক্যে মূল্যায়িত হয়
ভালোবাসায় ৷
রাত-দিন আর জীবন-মরণ সবই যেন সমার্থক
একটি ভালোবাসা শব্দে ৷