অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

অমিত চক্রবর্তীর কবিতা

প্রথম লাইন

প্রথম পা ফেলাটাই সরগরম, প্রথম লাইনটাই চমক।
যত্নে এড়িয়ে যত জড়তার টান, যত পাখিজাল ফাঁদ
সীমা ছেড়ে, সীমা ভেঙ্গে ভিনপথে বেরিয়ে পড়া –
এ এক ধরনের উদ্দীপনা, নিজস্ব বিপ্লব।
অথচ দ্যাখো,
পরিচিত ধ্যান, সুখী উপাসনা জাদু ওড়ায় –
রঙেতে, আবিরে বাঁধে সংক্রামক সুখ
ঢুকে পড়ে স্নায়ুকোষে, ঢুকে পড়ে
নিউক্লিয়াসে।
প্রথম পা ফেলাটাই তিনতাল, প্রথম লাইনটাই অসুখ।
সুখের সীমান্তে তাই সৈনিক রেখেছি ব্যস্ত,
মুখগুঁজে, ট্রেঞ্চ কেটে পাহারায় আছে বাহিনী।
সুখ ছায় তবু, আচম্বিতে।
দেরি হয়ে যায় আমার। প্রথম লাইনেই।

রিস্ক ভার্সাস রিওয়ার্ড

পকেট থেকে মুদ্রা গড়িয়ে গেল রেললাইনের দিকে
ভাঁড়ে চা খেয়েছিল জ্যোতির্ময়, হঠাৎ অসতর্কে
এদিকে একটি আশ্চর্য কবিতা তার মাথায়, ব্রাক্ষ্মমুহূর্তে
তোর টান নেই জামদগ্ন্য, শুধু জেতার উৎসব?
তাই রিস্ক ভার্সাস রিওয়ার্ড, মুদ্রা গড়িয়ে গেল
চিন্তার রেশ যেন না কাটে – পাগলামোতে বেচে দিয়েছে ভিটে
ভুল অর্থনীতির বর্ম পরেছে
টান কি জ্যোতির্ময়, টান কবে এল তোর শরীরে
পকেট থেকে মুদ্রা গড়িয়ে যায়
জ্যোতির্ময় বাঁচাচ্ছে কবিতা, ছেঁড়া রেশ
সময়ের কর্ষণী, চাপনল তার বর্মে হাহুতাশ …

অসম আকর্ষণে বা মোহিনী মন্দায়

তারপর একদিন তোমার রাগ পড়ে যাবে।
রাগী কবিতার মালঞ্চ দেখবে ফাঁকা তূণ।
কোন এক বার্ষিকীতে আবার
পুরো স্তব্ধ, দমবন্ধ অবিরাম অস্থির ভাব, নিশ্চুপ
আঙুলগুলোর নিশপিশানি।
মালঝাঁপে, পয়ারে তখন বিপ্রতীপ সুর
মৃদু গন্ধের টান গোলঞ্চ বা ভাঁটফুলে।
দেখবে ভালবাসা সংক্রামক হয়
দু’দিকেই
অসম আকর্ষণে বা মোহিনী মন্দায়
দেখবে সন্ধ্যা আসার প্রণালীতে একটা রসবোধ আছে
আর ওদিকে চকমকি পাহাড়ে আলোর খেলা শুরু হল
আসছ তো আজ?