তৈমুর খানের কবিতা
উদ্বেগ
প্রত্যাশার হাত পেতে আর দাঁড়াব না
চারিদিকে সাপ ও সাপিনী ফণা তুলে আছে
ওদের দংশনের কাছে যেতে ভয় করে
গর্তময় এ-জীবনে কোথায় দাঁড়াব?
সংশয়ের শিস দিচ্ছে অদৃশ্য মনোহর
উদাসীন হতেও পারি না
কোনো হাত নেই এই হাতে
কোনো অভিমান আর দগ্ধ করে না
নিকট ও দূরের সমুদ্র হতে উত্তাল হুংকার আসে
আমি সংকটের কোলে মাথা রাখি
এক একটি গর্ত দিয়ে গর্জন বের হয়
গর্জন মানব নয়, সংহারের নৃশংস বোধ
হয়তো এখনই ডেকে নিয়ে যাবে
অন্তিম দৃশ্যের দিকে
অন্ধকার, আড়াল করো, এ সময় চুপচাপ থাকি।
মৌসুমি
মৌসুমি ডেকেছে তাই কর্তব্যের মেঘ হয়ে আসি
বৃষ্টি আছে, অনেক বৃষ্টি-কথাও
হেসে হেসে বলব সব বকুলবেলার কাছে
পানপাতা, ভিজবে তুমি?
তোমার ফ্রকে নদীর ঘ্রাণ লেগে যাবে
শস্যময়ী নীলবর্ণার কাছে আমিও দাঁড়াব
তার বিষাদকাঁচুলি ধুয়ে দিতে
অনেক সাদা বক, ধূসর ফড়িং
উড়ছে
লাফাচ্ছে মনে মনে
চেতনার আকাশে ফালাফালা রোদে
ঝরে পড়ছে আনন্দ ঝিলিক
মৌসুমির নূপুর বাজছে
বৃষ্টিহার পরাব ওকে
চুলে আর মুখমন্ডলে অলীক চুম্বন বসে
অনুভূতিগুলি আরো মসৃণ হবে।
মরীচিকা
এপাশে খুঁজে দেখি : কেউ নেই
ওপাশে খুঁজে দেখি : কেউ নেই
এপাশ ওপাশ জুড়ে শুধু মরীচিকা
ঘরকন্না করে
আমি তবে কার গর্ভে জন্মালাম?
একখণ্ড আকাশ বৃষ্টির অক্ষরে চিঠি লেখে
এক ঝলক বাতাস উড়িয়ে দেয় ধুলো
আমি খুঁজে পাই ফাগুন মাস
আমার নিগূঢ় ধান, আমার নিগূঢ় চাষ
মাঠ আর মহিমার সূর্য, নিগূঢ় পাখির গান
রোজ ফিরে আসে মরীচিকার মেয়ে…