শিবানী বাগচীর কবিতা
শেষ পরিণতি
অন্তঃবিহীন ভাঙা হাটে,ধ্বংসের লীলা
চলে, শূন্য থেকে শূন্যের গহ্বরে –
যবনিকা ঘিরে উঁকি মারে
চাপ চাপ অমানিশার কালো মেঘ।
পিঠে পিঠ ঠেকা বিপন্নতারা আজ শুধু
টিকে থাকতে চায় খড়কুটোকে জাপটে
জড়িয়ে; ভোগের স্বপ্নে খালিপেটে ত্যগের আক্ষেপ, ব্যর্থতার উঠানে আছাড় খায়।
অবসর যাপনের ভাঙা চেয়ারটায়,
আমার নিশাচর মন হারিয়েছে তার
নিজস্বতা; হেমন্তের বাতাসে মিশেছে
আজ নীল বিষ নিঃশ্বাস।
উদ্বায়ী শব্দে ছুঁয়ে যাওয়া প্রতিটা
প্রহরের ললাট লিখন বার বার
হাই তুলে যায় আমার বিদীর্ণ বুকে।
পরাগ সংক্রমনে ক্ষয়ে যাওয়া
সঞ্জীবনীর খোঁজে স্বপ্নের ঘর ভেঙে
ঠিকানা বদলাতে চায়।
বিদায়ী সন্ধ্যার মৃত্যু মিছিলে হয়তো জীবনের জমে থাকা সব ভুল, ছাই হয়ে ধুয়ে মুছে যাবে নিকষ আঁধারে!
স্বপ্ন বিহীন দীর্ঘশ্বাসে যেনো, স্তব্ধতারাই জীবনের শেষ পরিণতি!
তোর বিহনে
অভিসারী কিছু ইচ্ছেরা একটু একটু
করে জমা হয়েছিলো আমার স্বপ্নে,
তোর আকাশ ছোঁবে বলে!
তোর আদুরে আবদারগুলো
আলতো হাত বোলাতে বোলাতে
একদিন অজান্তেই ভেসে গেছিলাম ডানা মেলে।
আর তুই?
কতো সহজে হারিয়ে ফেলেছিস দখিনা বাতাস মাখা স্মৃতিগুলো?
এভাবে কি করে ভোলা যায় বলতো?
কতগুলো পথ চেয়ে থাকা বসন্ত নীরবে
সহ্য করেছে নির্বিকার যন্ত্রনা;কেন
ভিজিয়ে দিয়েছিলি আমার শুকনো ঠোঁট?
রাতের বিছানায় দেখেছি লুকিয়ে থাকা
কিছু অব্যক্ত শব্দের জলচ্ছবি;স্মৃতি
মেদুর চাওয়া পাওয়াগুলো আজও
অন্তহীন অপেক্ষার প্রহর গোনে তোর বিহনে –
মন খারাপি রাতের ঘাম ঝরা দুঃস্বপ্ন,
কিছু আঁধার ছোঁয়া মিথ্যে প্রতিশ্রুতি,
ছুঁয়ে যায় আমার অতৃপ্ত ইচ্ছেদের –
অপেক্ষারা এভাবেই ঝরা পাতার মর্মরদ্ধনি শুনতে শুনতে ইতিহাস রচে;
আনমনে;অজান্তে!
মৃত্যুর সাতকাহন
আলতো হাতে আমার আধবোজা চোখেই গুছিয়ে নিয়েছি সাঁঝ অবেলার মৃত্যুকে।
নিকষ নক্ষত্র রাতে মেখে আছি নীলঠোঁট শূন্যতা;যা ভাসিয়ে নিয়ে যায় নৈঃশব্দকে ছুঁয়ে, নীথর থমকে যাওয়া এক সরল রেখায়!
তবে যে নিয়ন আলোয় দেখা আমার দিবা স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়েই রইলো ভাঙা কাঁচের গুড়ো মেখে হাজারো প্রতিবিম্বে?
ততক্ষনে ধরিত্রির চাতালে শুরু হয়ে গেছে, প্রত্যাখানে খুঁড়ে ফেলা একবুক দফন পক্রিয়া!
সপ্তর্ষি মন্ডলের পাশে বাকী তারাদের ভীড়ে সন্মুখেই টাঙানো আছে চিত্রগুপ্তের খাতায় আমার জন্ম মৃত্যুর সাতকাহন –
আমি আমার স্মৃতির উদ্দেশ্যে সময় থাকতেই তর্পণ সেরে নিয়েছি স্বর্গের পথ খুঁজে পেতে; তাই তো ভেসে বেড়াই নাভিমূল পোড়া ছাই স্বর্বাঙ্গে লেপে স্বর্গের সিঁড়িতে –
ঘুম ভাঙা চোখ, শুকনো কাঠ গলা;
সহসা যেন মৃত্যুর স্বাদ পাই; শরীরের
আড়মোড়া ভাঙি অনুভবের ভাবনায় —
“মরণ রে তুঁহুঁ মম শ্যাম সমান!”