প্রবীর দাসের কবিতা

প্রবীর দাসের কবিতা

শিরীষের ছায়ার কালোয়

হাঁটতে হাঁটতে যেখানেই থেমে যায় কেউ
সেখানেই দেখে কোনো শিরীষের ছায়া—
বিষণ্ণ রাফখাতা খুলে খুলে পেতে থাকে
স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে থাকা মোলায়েম দুপুর …

নীচু স্বরে শুরু হয় একথা সেকথা
কবিতার বেশভূষা সাজগোজ রমণীয় সেইসব
নিশপিশ হাতের মুঠোয় উড়ন্ত পাখি
স্থবির থাকা গতায়ু সময়ে অস্পষ্ট আলো …

শিরীষের ছায়ার কালোয়
জীবনকে জীবনের পথে ডাকতে চাইলে
আবারও সময় ক্রমশ এঁকে ফেলে
আরও একটি সূর্য-বিরহী বিকেল।

ঘরে ফেরানো বাতাস

প্রতিদিন বের হও পথে
প্রতিদিন ফিরে আস ঘরে
বের হবার সময় পিছন ফিরে তাকিয়ে
যা দেখতে পাও সেটিই শান্তি, কখনো ভীষণ—
অনিঃশেষ দীর্ঘ এক কবিতার মতো …

ঘরে ফেরার পরে আবারও একটু থেমে
কিছুক্ষণে প্রাণভরে দেখে নিও চারিধার
টুকিটাকি তৈজসপত্র, সাংসারিক, উদ্বায়ী যত
প্রবহমান সময় থেকে স্পর্শ দেওয়া
অনাবিল আনন্দের হাওয়া ও বাতাস
বাইরে থেকে বহুবার এভাবেই তোমাকে
ফিরিয়ে দেবে ঘরে।

একাকী চাঁদের ছায়া

জীবন ঘুরে ফিরে কত কত নতুন জীবনে—
তবুতো দাগ কাটা হৃদয় বিদারক
কিছু কিছু অসামান্য মুহূর্ত
পায়ে পায়ে জড়িয়েই থাকে, কাঁটার মতো
ব্যথাতুর, রক্ত ঝরায়
কখনো হাসাতে চেয়ে কেবলই কাঁদিয়ে যায় …

এক একটি সন্ধ্যা, এক একটি সকাল
সংসক্ত জীবন-প্রবাহ, বিস্ময় স্ফুরণ
কোনোটিই কাব্যকথা নয়, ঘটনার সংকেত
দৃশ্যান্তরে কখনো আলো, কখনো অন্ধকার
অসম্পূর্ণ গল্পকথা কুয়াশা-চাদরে ঢাকা
সিন্থেটিক ছেঁড়া শাড়ি, উড়তেই থাকে
ওড়ে হেমন্ত-সন্ধ্যার একাকী চাঁদের ছায়া …