ফারাহ্ নাজের কবিতা
অটাম দিনের গল্প
অটাম এলেই গাছে গাছে
রঙ ধরে যায়,
সব পাতারা ফুল হয়ে যায়,
তোমার আমার ভুল গুলো
সব সুর হয়ে যায়।
মনের কোণের জমা গ্লানি
এক নিমিষে দূর হয়ে যায়।
অটাম এলেই নির্জলা মেঘ
ভেসে বেড়ায় আকাশ জুড়ে
কমল কিরণ দ্যুতি ছড়ায়
মনের গহীন গোপন ঘরে।
অটাম এলেই শুকনো পাতার
মর্মর বীণ বাঁজে প্রাণে
শূন্য হৃদয় পূর্ণ করে
নাচে আলো পাতার সনে।
অটাম এলেই ঘুঘু ডাকা
দুপুর নামে বুকের পরে
হুহু করে সুখ গুলো সব
কড়া নাড়ে রুদ্ধ দ্বারে ।
অটাম এলেই শুভ্র মেঘের ভেলা
ভাসে নীল ক্যানভাসে
মেঘবালিকা ছবি আঁকে
নীল পটেতে সৃষ্টি সুখে ।
অটাম এলেই তোমার কাছে
ইচ্ছেরা মোর ডানা মেলে
তোমার তোরেই চায় যেতে মন
সকল বাঁধা ছিন্ন করে।
ইচ্ছে করে তোমার গালে
পরম স্নেহে হাত বুলাতে
ভিড়ের মাঝে আলতো করে
লুকিয়ে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াতে ।
গা’এর সাথে গা’ লাগিয়ে
শুঁকনো পাতায় হেঁটে যেতে ।
হাতের মুঠোয় হাত রেখে
ভালোবাসার ওম পেতে ।
অটাম এলেই আমার যত আবদার
সব তোমার কাছে।
তোমার মাঝেই চাই হারাতে
আমার আমি, এই আমাকেই।
তোমার মাঝে খুঁজি আমি
বিশুদ্ধতার নিবিড় ছোঁয়া ।
যেমন করে হিমেল হাওয়া
গা ছুঁয়ে যায় ভালো বেসে
তেমনই করে তোমায় আমি
চাই পেতে চাই আমার কাছে ।
অটাম এলেই যেমন করে
সব পাতারা ফুল হয়ে যায়
তেমনই করে আমার মনের
দুঃখ গুলো দূর হয়ে যায় ।
শেষ বিকালের আলোকছটা
যেমন রাঙ্গায় ভুবন গোটা
তেমনই করে তোমার আলোয়
রঙ পেতে চায় আমার এ মন ।
তোমার রঙে রাঙ’বো বলে
সব টুকু রূপ আঁচল ভরে
জমিয়ে রাখা তোমার তরে –
তোমার দেওয়া জামদানীটা
খুব যতনে আছে রাখা
আবার তুমি আসবে যখন
পরম স্নেহে পরব তখন ।
অটাম এলেই তোমার আমি
খুব যতনে স্বপ্ন বুনি
কাজল চোখে যা ‘ই দেখি
তাতে তোমার প্রতিচ্ছবি ।
তোমার আলোই খেলা করে ভিতর বাহিরে ।
অটাম এলেই ভিনদেশি এই নদীর পাড়ে,
ঘরের কাছের বাগান জুড়ে,
চলতি পথের বাঁকে পরে,
কাশ ফুলেরা সাঁজায় মেলা
স্নিগ্ধতার আবেশ ছড়ায়
সকাল, দুপুর, সাঁঝের বেলা ।
আমি না হয় তেমনই করে
শরত আলোয় প্রহর গুণে
অপেক্ষাতেই কাটাবো
আমার সারা বেলা ।
অটাম এলেই তোমার হবো
তোমার আশায় নাও ভাসাবো
মোহ কালিমা জলে ধুয়ে
নির্মল হবো তোমায় পেয়ে
আমায় তুমি একবার বন্ধু
কর গো নিমন্ত্রণ
অটাম এলেই তোমার তরে
দিবো বিসর্জন ।।