এ কে এম আব্দুল্লাহ’র কবিতা
জলের নখ কিংবা আয়না বিভ্রাট
মাথাটা কেটে বুকপকেটে রেখে হাঁটতে হাঁটতে দাঁড়াই এসে সাগরের পাড়ে। আর জলের বুক ভেঙে পা কাটা হাঙর কেড়ে নিয়ে যায় বর্ণদানা। আমি চোখগুলো খুলে ছুঁড়ে দিয়ে জলে— তার চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখতেই থাকি। দেখতেই থাকি।
এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে— একদিন আমার পা ফেটে গজিয়ে ওঠে বিশাল বৃক্ষ। শাখায় শাখায় ঝুলে ফল।ফলগুলো অবিকল চাইনিজ সিনেমার মাছের মতো।গ্লোবাল ইমেজ নিয়ে অনেকেই বৃক্ষের পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে যায়।
এইসব দৃশ্য কেউ কেউ মাছিচোখে শুষে নিলে স্যাটেলাইটের দেহে— বৃক্ষটির মৃত্যু হয়। আর আমি ভেনগগের কানের ডানায় ভর করে,সাগরে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করি।
এখন আমার রেখে যাওয়া সুইসাইডনোট নিয়ে— অন্ধ ডলপিনসগুলো থিসিস লিখছে।
হয়াইটক্রাইম ও আশ্চর্যবোধক চিহ্ন
ক্যামেরাল্যান্স ভেঙে যখন নেমে আসে উঁচুদরের শান্তহাসি— আমাদের ভেতর মধ্যবিত্ত সংসারগুলো কেঁপে ওঠে। আমাদের বস্তিগুলো আগুনে পোড়ে। আর ধার করা যে বিশ্বাসগুলো ল্যাপটেছিল কপালে— রক্তজলে ধুয়ে-মুছে হয় পবিত্র।
এরপর সংবিধান আর আমাদের মধ্যখানে— কারও মুখ থেকে নেমে আসে তেলমাখা-সাপের মতো বণিকপংক্তি। আমাদের ঠাডাপড়া চোখের সম্মুখে ঝুলে— অলিম্পিক ম্যাডেল। আর তাদের তৈরী স্ট্যাডিয়ামে দৌড়াতে দৌড়াতে ফেটে যায় আমাদের দেহ। আমরা টাইম-আউটের ইশারায় দূর্বাঘাসের ডগায় বসে দোয়া-এ ইউনুস পড়তে পড়তে নিজের রক্ত,নিজেই শুষে খাই।
এখন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ফুটপাতে আমাদের চোখ থেকে কেবল ঝরে পড়ে — অতীত সংস্কার।