মাসুদ চয়নের কবিতা
মুক্ত কথন
আমি মরে যাবো শুকনো পাতার মতো অবহেলায় নির্গৃহীত হয়ে;
ধোয়াশার মতো ধূসর অন্ধকারে অনন্তকালের জন্য অর্থহীন রাজত্ব করবে আমার অস্তিত্ব;
মরে যাবো হাসতে হাসতে নিরেট খোশ মেজাজে_
যেভাবে পৃথিবীর পথ প্রান্তর রাঙিয়ে যাচ্ছি হাসির অনাবিল খেয়ায়-
প্রতিদিন জোয়ার ভাটার মতো আত্মার অন্তরালে দৈন্যগুলোকে লালন করি-
ঠিক যেনো শাখাবিহীন নদী বৈশিষ্টের মতন-
সেই অনাবাদি জমিগুলো নিতান্তই উর্বর উৎকৃষ্ট হয়ে উঠছে আনন্দের নামতা ফলায়-
অথচ কেউ কোনোদিন জানতে পারবে না এ আনন্দ বিমোহিত হয়ে আছে সমুদ্রসম যন্ত্রনায়-
আজন্ম দুঃখ লালন করে যাচ্ছি গিয়েছি একান্তচারী নিঃসঙ্গ পাখিদের মতো-
যারা পারে এভাবে হাসিতে মেতে নিবিড় নিস্তব্ধতায় লীন হয়ে যেতে,
আমি হয়তো তাদের মতো নির্জন কেউ-
জেনে রেখো পৃথিবীর বালুচরের সমস্ত ধূলিকণা,আমাবশ্যার নিমগ্ন অন্ধকার,শিল্পের গোধূলী রাজ্য,জরাজীর্ণ সমাজতন্ত্র,মৃতপ্রায় গনতন্ত্র,অস্থাচলের পথে ধাবিত সাম্যস্বচ্ছতা,কোনোদিন কাঁদবো না আমি কোনোদিন আর!
আমার হাসিতে মৃত্যু জ্বলজ্বল করে জ্বলবে কোনো একদিন।
দীর্ঘতম রাত্রি
প্রগাঢ়তা ঢেলে দিয়ে জেগে আছে রাত্রি আঁধার;
জ্বলছে জোনাক পোকার দল-
কৃত্রিম আলোক উদ্ভাষের মৃদু সম্ভাবনা;
আঁধারের আলপথে সমুদ্রে ভাসমান ফেনার মতো ভেসে বেরাচ্ছে হৃদয় গহীনে লালিত ক্ষতগুলো বেদনাগুলো-
শৌখিন দাম্পত্য জীবন ছেড়ে নিঃসঙ্গ নিগৃহীত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষত;
আলো ছেড়ে নীল লালসা খেয়ে বেঁচে থাকার ক্ষত;
স্বাধীন স্বকীয়তার সংগ্রামী সৈনিক হয়েও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর মতো ধুকে ধুকে বেঁচে থাকার ক্ষত;
এ জীবন এ কলম দিয়ে কি হবে আর!
কখন ভোর হবে?
মহাকালের মতো এমন দীর্ঘ অফুরন্ত রাত আর কখনো আসেনি জীবনে।
অন্ধকার সময়
পৃথিবীর গুহাবাসী সবচেয়ে নির্জন পাখিরাও ঘুমিয়ে গেছে;ঘুমায়নি নক্ষত্রের মেলা;ঘুমায়নি ফুটপাতে ঘুমন্ত শিশুর ভবিষ্যৎ পাহারা দেয়া জননী;
ঘুমের মতো করে শুয়ে আছে ফুট-ওভার ব্রিজের হাজার হাজার আলোক চক্ষু—
ঘুমায়নি সাগর নদী জোনাকি ঝিঝি পোকা;
স্বপ্নবাজের স্বপ্ন কল্প;প্রেয়সীর অশ্রু ছলছল চোখ;লাখো মায়ের বোনের পিতার নৈশব্দিক কান্না;শ্রমিকের নুয়ে পড়া মেরুদণ্ড,খয়ে যাওয়া হাড়গোড়;
মরে গেছে সময়ের গনতান্ত্রিক অধিকার—
জেগে থাকবে পৃথিবীর পথ প্রান্তর ব্যাকুল উচ্ছ্বাসে নিদারুণ হতাশায়-
একঝাঁক বর্ষ বরণ বিলাসী ককটেলের ধ্রিম ধ্রাম শব্দ;কি করে ঘুমাই আমি;ঘুম আসে না। আসে না যে!
এমনি করে কেটে যায় পালাচক্রের বছর ক্রান্তি ক্লান্তি;
এমনি করে ফিরে আসে নব উদ্যমে জেগে ওঠার নব ললিত প্রহর;
কিছুতেই আঁধার কাটে না যে!