স্বপ্না আচাৰ্জীর কবিতা

স্বপ্না আচাৰ্জীর কবিতা

ম্রিয়মাণ

আদিখ্যেতার ব্যবচ্ছেদ করার জন্য
একটা বিলাসিতা দরকার ।
সমস্ত জায়গায় শ্যওলাদের
অবাধ যাতায়াত ,
স্মৃতিও আজ ক্লান্ত ।
সব পরিযায়ীদের ভিড়ে নিজেকে হারাতে
ভালো লাগে না আর ।

রাজপথ , ফুটপাতে সব ম্রিয়মাণ ,
শুধুই ভাঙাগড়ার খেলা ,
ঘুমের শহরে রাজপ্রাসাদের অধীশ্বর যারা
তারা অগোছালো ফুটপাতের
খবর রাখে না ।
তাদের সিংহ-দরজা খোলে না
নষ্টচন্দ্রের গল্প শোনার জন্য ।

অন্য মোনালিসা

নিরন্তর তোমাকে খুঁজে চলেছি-
যেমন করে মেঘ খুঁজে আকাশের নীল ,
তেমনই উদাসীন মেঘ হয়ে উড়ে যাই
তোমার ব্যস্ততার ভান করা সময়ের কাছে ।

তোমার উপেক্ষাকে আমি ভ্রুকুটি করি,
কোজাগরী জোছনাকে পাঠাই
তোমার দুরভিসন্ধির হদিশ জানতে ।
অবিরল ঝরা অশ্রুকে-
রুপোলি রোদ্দুরে শুকিয়ে আমি
গোলাপের মতো নির্জলা রাত কাটাই।

আর তোমার চোখের তারায় তখন অন্য মোনালিসা।

ঝুলবারান্দা

খুব ইচ্ছে করে-
আমার বুকের মাঝে
একটা ঝুলবারান্দা থাকুক ।
যেখানে রাতজাগা পাখিদের সাথে
আমি জাগবো , শুনব
আজানের সুর বা শঙ্খ-ধ্বনি ।

শব্দহীন পাহাড়ের ইশারা দেখব
সেই ঝুলবারান্দা থেকে ,
আঙুলের খাঁজে খাঁজে জড়ানো
নীল আঁচলে লুকিয়ে থাকবে কবিতারা ,
আর সমুদ্রের গভীরে সাঁতার দেবে
নিবিড় মুহূর্তগুলো নিপুণ দক্ষতায়।