অসীম সাহার কবিতা
সতর্ক-সংকেত
তুমি সেই দুর্বিনীত বাতাসকে বলো, যে আমাকে কেবলি
পশ্চিমের দিকে উড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়;
তাকে বলো, এই শরীর কোনো হালকা তুলোর আবরণ নয় যে,
ইচ্ছে হলেই তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে সুদূর আকাশে।
আমি জানি, ঐ দুরন্ত বাতাস আমাকে এক ঝাপটায়
উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে বঙ্গোপসাগরে;
হয়তো তাতেই আমার চিরকালের উপশম।
তবু তুমি ঐ দুর্বিনীত বাতাসকে প্ররোচিত করো না,
আমাকে তুমি একটু-একটু করে বুঝতে দাও…মাতৃস্তন্যের চাইতে
মধুরতম আর কিছুই নেই।
মৃত্তিকার শেকড় থেকে উপড়ে ফেলে আমাকে তুমি পুঁতে দিয়ো না
অন্য কোনো সোনালি টবে…
তাতে আমার মুক্তি নেই…সত্যিই কি মুক্তি নেই আমার?
ডুবন্ত মানুষ যেমন করে গভীর নদীতে খড়কুটো আঁকড়ে ধরে
বেঁচে থাকতে চায়,
আমার এই দেহের খোলশ নিয়ে হয়তো-বা সে-রকমই বেঁচে আছি আমি!
শুধু তুমি দুর্বিনীত বাতাসকে বলো…সে যেন
পশ্চিম নদীতীরে উড়িয়ে নেবার আগেই আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় বঙ্গোপসাগরে;
যদি সেখানে থেকে ভাসতে পৌঁছে যাই অন্য কোনো প্রার্থিত বন্দরে,
তা হলে আমার শেষ পরিণামের জন্যে আমি কাউকে দায়ী করবো না।
তবে আমার ভেজা দেহের পরতে-পরতে জমে থাকা ঘৃণার বুদ্বুদ
যদি কখনো উপচে পড়ে অচেনা মাটিতে,
আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় কোনো সুপ্ত আগ্নেয়গিরি…
তার জন্যে তোমরা আমাকে অভিশাপ দিও না।
কেননা যার নিজের দেহের ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই,
অন্য কোনো অনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের জন্যে
তাকে তোমরা কিছুতেই দায়ী করতে পারো না।