কাঞ্চন রায়ের কবিতা

কাঞ্চন রায়ের কবিতা

একটি নষ্ট বৃষ্টির গল্প

আমবাগানটা নষ্টামির গোড়া ।
ঢোকার আগে পর্যন্ত, আমি
রোদ্দুর দেখেছিলাম বড় রাস্তায় ।
এখানে হঠাৎ ভিজে যেতে হবে
বুঝিনি তখনও…

বানীপুরের এই জঙ্গলটায়, আগে
মস্তানরা ছুরি-চাকু, গোপন অস্ত্রে
সান দিতো ।
আরো কত কিছু করতো…
এখন নির্জনতা ছাড়া আর কিছুই নেই ।

যাইহোক বৃষ্টিটা আমাকে গাছ তলায় দাঁড় করিয়ে
প্রবল হতে লাগলো ।
প্রথমে চোখ, মাথা, তারপর
একটু একটু করে জামা-গেঞ্জি-প্যান্ট সবকিছুর মধ্যেই মাছেরা খেলা করতে লাগলো ।

হঠাৎ দুটো তাল পড়ার শব্দ শুনলাম ।
দেখলাম! যা দেখলাম— তাতে
ঠান্ডায় নিমুনিয়া হওয়ার আগেই
কোত্থেকে একটা উষ্ণ বাতাস এসে,
বরফ গলিয়ে গঙ্গা প্রবাহের উপক্রম করেছে বুঝলাম…

মেয়েটি চুপচাপ দাঁড়িয়ে ভিজে যাচ্ছে !
একটা কণারও আশ্রয় নেয়নি সে…
ভিজতে যখন হবে, দ্বিধা বাড়িয়ে লাভ নেই
সে বুঝে ছিল ।
তারপর সেখানে বৃষ্টি ছিলো না ঝড় উঠেছিল,
আঁছাড় খেয়েছিল কেউ না আম কুড়িয়েছিল, জানিনা !
শুধু বুঝেছিলাম, বাজ পড়ে একটা গাছে ফাটল ধরেছে …
মেয়েটি ফাটা গাছটিকে দেখেছিল কিনা বলতে পারব না ।
তবে, চুলগুলো তার পিঠ থেকে সরে গিয়েছিল,
চোখের কাজল মুছে গিয়েছিল
বৃষ্টি ফোঁটা গুলি স্রোত থাকা সত্ত্বেও;
তার ঠোঁটের ওপর দাঁড়িয়ে গিয়েছিল— পদ্মফুলের মত !

সাদা ক্যানভাসটিতে
পাহাড়-পর্বত, গিরিখাত, বনস্পতি
সবকিছুই আঁকা হচ্ছে এ সবই
সে টের পেয়েছিল ।
ভয় পেয়েছিল কিনা জানি না,
তবে এই জঙ্গলে ডাকাতি হতো
সে মেয়েটি অবশ্যই জানতো…..
তার প্রস্তুতি কি ছিল—
একথা তোমাদের সেই বলতে পারবে একমাত্র ।
তবে আমার চোখে তখন
“নিরীহ” শব্দরাই ছোটাছুটি করছিল মাত্র।

কল্পনায় ছিল অন‍্য কেউ

কল্পনায় ছিল অন্য কেউ !
যখন তুমি সামনে এসে দাঁড়ালে—
আমার শ্বেত-শুভ্র তাজমহল খানি,
একটা চুনকাম করা ইটের দেওয়াল;
খসে পড়ল ! একটা—
জিনিয়া ফুলের গন্ধ মাখা বরফের আঁচড়ে।