তন্ময় ঘোষের কবিতা

তন্ময় ঘোষের কবিতা

আশীর্বাদ

সূর্যের আলোতে ধরেছে শ্যাওলা
বুড়ো হয়ে গেছে আমাদের পৃথিবী,
সুগন্ধি মল্লিকা নয় মঙ্গলশঙ্খ ও পোড়া ধূপের মামলা
ধান দূর্বার আশীর্বাদ যেন প্রাচীন এক শতাব্দী।

ঘুটঘুটে অন্ধকারে যা কিছু আলোক দ্যুতি ছড়ায়
সুপ্ত আগ্নেয়গিরিতে যে পরশপাথর দেখায়,
মস্তিষ্কের নিউরন যা হাতুড়ির আঘাতকে হারায়
তা হল আশীর্বাদ অদৃষ্টের ইতিহাসে গন্ধ ছড়ায়।

ছিন্নমূল হওয়ার আগে উঠে যাক যত লঙ্গরখানা
কালচে দাগে জমাট বেঁধেছে রক্ত,
শিকল ভাঙুক তারা এতদিন যারা ছিল অভুক্ত
মৃত্যু-মিছিলে বলুক আশীর্বাদের স্লোগানখানা।

আলোর রাগে বাউল বেশে গাইছে যখন বজ্রনাদ
সবটুকু উজার করে দিলাম যত ছিল আশীর্বাদ,
উৎসব তোমায় ভরাবে আছে যত খেদ
নিত্যদিনের কোলাহলে পড়বে যখন ছেদ।

উর্বরা হোক মৃত্তিকা
মুগুর ভাঙুক শক্ত মাটির ঢেলা
বর্ষা তুমি ভিজিয়ে দাও আছে যত প্রহেলিকা
সঙ্গী হোক কাগজ-কলম আর আশীর্বাদের আঁজলা।।

তোমার জন্য বাঁচি

তুমি দেবী হওয়ার চেষ্টা কোরো
যেমন করে চেয়ে থাকে মা মুখপানে
আমাকে হত্যা করেছিল এমনই এক বসন্ত দিনে।

তারা থেকে নক্ষত্র
গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে সবার কাছে যেতে চাই
তবুও তোমার চারপাশে ঘুরে চলেছি মাধ্যাকর্ষণতাই।

হয় নপুংসক নইলে করাও গর্ভপাত
পেট কেটে দেখে নিশ্চিত হতে হবে মেয়ে কি ছেলে
মুখ লুকিয়েছে লাল পিঁপড়ের দল বালির আড়ালে।

দোলা আগমন নৌকায় বিদায়
লাগাম পরাতে পারবে না সে যে কাঠবেড়ালি
তাকে দিয়েছিলাম অফুরান নিরিবিলি।

আবারো বদলে যাবে এই পৃথিবী
নিকষ কালো অন্ধকারে পোড়া মাংসের গন্ধে
মহামারী শেষে তখনো নামেনি সন্ধ্যে।

আকাশে সে বলল শেষে
বন্ধ করো মনের যত অন্ধকার কুঠুরি
মিলে যাক সব যারা করেছে ভাবের ঘরে চুরি।

ক্যামেরার কারো অঙ্কিত হৃদয়
ফিসফিস করে আজও বলে চলে পাঁজর
চোরকাঁটাই জড়িয়ে থাকে পরশপাথর।

এখনও দেখা হলে একই রকম লাগে
এখনও বহুবর্ণের আলিঙ্গনে ধুকপুকানি জাগে
শুকনো ঠোঁটের ফাঁকে শীতল ছায়া প্রখর রোদে।

এখনো ইছামতি বয়ে চলে সময়ের স্রোতে
শীতঘুমে বসে থাকে দুই পাড়ের দুই দেশ
অনুভবে স্মৃতির ছবি আঁকি আমারই ভালোবাসার রেশ।