মো. শরিফুজ্জামান পলের কবিতা
পুড়েই বাঁচা
বিবর্তনের আলো অথবা প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাসের
আমি এক পুরুষ, প্রকৃতির নিয়মে…
শৈশব, যৌবন পেরিয়ে
জীবনের বাস্তব ঝড়ের কবলে আমি
আমি যে যৌবনে পদার্পন করেছি।
না, না, না, আমি ঈশ্বরের দোষ দেবো না
আমি প্রেমের দেবীকে দোষ দেবো না
আমি যে যৌবনের কাণ্ডারি
প্রেমে আমি পুড়বোই, মরবোই আমি
যুবতী তোমার যৌবনে আগুনের।
প্রেমের বাণে আমি শ্রাবণ শুদ্ধ
প্রেমিক কামুক এক পুরুষ ভ্রমর
বাগানে সব ফুলের মধু আমি চাই
আসলে কি পাই?
রাতদিন, চন্দ্র-সূর্য, আকাশ-বাতাস
জল-নদী, তরঙ্গ, পাহাড়-সাগর
জীবন-মরণ, সৃষ্টি-ধ্বংস
উত্থান-পতন, ধনী-গরিব
সব সমর্থক এবং বিপরীত জাতি
আজ সব এক হয়ে গেছে। আমি বধির
আমি একমুখী, আমি নীড়হাড়া যুবক
তোমাকে আমি চাই। চাই-ই চাই।
প্রেমই জীবন, প্রেমই শাশ্বত
আমার কি দোষ?
যদিও এক পিঠে তোমার ভালোবাসা
অন্য পিঠে ছলনা জীবন্ত বিদ্যমান।
আমি পুড়বোই, মরবোই তোমার প্রেমে
গড়বোই ভালোবাসার খেলাঘর-
জন্ম থেকে জন্মন্তরে, আমি প্রেমিক পুরুষ।
ধর্ষিতার অনুরোধ
আমি ধর্ষিতা বলছি
আমি কারো মা, বোন, স্ত্রী, খালা, ফুফু নই-
আমার কোনো লিঙ্গ নেই
আমি ধর্ষকের খাবার।
দেশ প্রেমিক, গুরু, শাষক- টকশোকারদের
গরম বিষয়- ঝড় তোলার বস্তু
সাংবাদিকদের খবরের খবর-
কাগজ বিখ্যাত হবার খবর।
আমি ধর্ষিতা, লজ্জিত নই
বেহায়াদের মারণে আমি সম্মানীত-
ক্ষমা চাচ্ছি দুঃসংবাদ বহনের দায়ে
অভিশাপ দিবো না
কামনা করি, দুয়ারে দুয়ারে লাথি পেতে থাক ধর্ষিতা…
সৃষ্টি হোক নতুন উল্লাস, উন্মাদনা।
মিনতি করি তোমরা শিক্ষা দাও
নতুন সব কৌশল, ধর্ষণের কৌশল
আর বিদ্রোহী হইও না।
যদি না পারো বিচার করতে, যদি না হয় জাগ্রত বিবেক
কবিতায় আর নারী, প্রেমিকার বর্ণনা দিঅ না।
আমি ধর্ষিতা আরো বিখ্যাত হই
কারগির আর জামদানি কাতান
বানিও না; তুলো না কোনো নকশি শাড়িতে।
কোনো সুন্দর রংয়ের শাড়িতে বুনিও না আর কোনো নকশা
শুধু একটাই নকশি তোলো-
সুউচ্চ স্তন আর নি¤œ দেহের ছবি বুনো
ধর্ষকদের চিত্র হবে প্রফুল্ল, প্রশান্তিতে ভরা।
মাতৃভূমির মাতৃত্ব কেটে ফেলো
নতুন করে নাম দাও, লিখো ‘শিশ্নভূমি’।
মতৃভূমিতে মায়ের ধর্ষণ বেমানান
শিশ্নভূমিতে ধর্ষকরা পাবে সম্মান !
আমি ধর্ষিতা বলছি
অনুরোধ করছি
ভেঙে ফেল সব ইতিহাস-ঐতিহ্যের স্থাপনা
গড়ে তোলো মোড়ে মোড়ে উলঙ্গ নারীর মূর্তি
শোভা পাবে সুউচ্চ স্তন আর যোনি
তোমরা ধর্ষক খুঁজে পাবে আত্মার শান্তি
পূর্ণ হবে তোমাদের শিশ্নভূমি
অভিশপ্ত হবে তোদের মাতৃভূমি।
নির্বাসনে মন
ভালোবাসায় আবার বিতৃষ্ণা হয়?
সমুদ্র, নীল আকাশ এমন কী
এই বিশ্ব পায়ের কাছে এনে
আমি বলেছিলাম, ভালোবাসি।
তুমি বলেছিলে- কিছুই চাই না।
শুধ, শুধু তুমি আর আমি একটি গোলাপ।
জীবনের সর্ব শ্রেষ্ঠ উপহার আমার তুমি।
তবে কেনো কালের ব্যবধানে
ভালোবাসা সব হারালো? কালো হলো
জীবনের প্রতিটি ক্ষণ অমাবস্যার মতো।
তীব্র ঘৃণা আর অসহ্য বিতর্ক সর্বক্ষণ?
ভালোবাসা হলো তুচ্ছ, মন আজ নির্বাসনে…
পথ
পথই আপন, পথই ভালোবাসা।
অর্থের টানেই শৈশবে আমি ঘর ছাড়া।
সবই পেয়েছি পথের মাঝে-
আবার হঠাৎই নামলাম এই আমি
সাঁইত্রিশ বসন্তই খুঁজছি তোমায়
জীবনের প্রেয়সী আর স্বার্থকতার প্রেম
পেয়েছি পথে আবার হারিয়েও ফেলেছি
প্রাণের প্রিয়তমাকে।
চলন্ত পথেই ভালোবাসার জন্ম
আবার পথেই যৌবন, বাড়ন্ত ডুব সাঁতার
পথেই ঘুরপাক খাই বারবার।
পথেই মুক্তি। পথেই যুক্তি। পথেই ষড়যন্ত্র।
পথেই আবার পরম মৃত্যু।
পথেই স্বপ্ন দেখি হেঁটে হেঁটে
আমি এখন বনে ফোটা বকুল- যেনো হাঁটছি পথে
জন্ম হোক জন্মন্তরে
বংশ থেকে বংশ পরম্পরায়
সবার জীবনই কাটে এই পথে।
জীবন মানেই জীবনের পথে চলা
পথ ছাড়া জীবন, যেনো লক্ষ্য ছাড়া নৌকা।
ভাটির তরী
ভাটির তরী আমি
সাগরে হারাই বারংবার
অথৈ ঢেউয়ের মাঝে
প্রলয়ঙ্কারী ঝরে ফেলে দেয়।
ধ্বংসের মাঝে মিলিয়ে যেতে
তাল হারিয়ে বেতাল তরী।
নোঙর ফেলতে মানা
দিগি¦দিক করি ছুটোছুটি
সব জায়গাতেই সংশয়
সমাধান পাই না কোথাও-
তাই উজান বাই না।
খুঁজে পেয়েছি অবিরাম চলা
ভাটিতেই সুখ-স্বপ্ন- ভালোবাসা।
তোমাকে চাই
ভালোবাসা আজ পণ্য
দরদামও হয়- ওঠে বাজারে।
প্রেয়সীর লোলুপ দৃষ্টির ছলনায়
আমি আজ স্বপ্নের মায়া-মরীচীকায়।
আমাকে আকাশ উড়িয়ে প্রেম
নীল সাগরে ভাসিয়ে প্রেম-
বিদায় দিয়ে বলে, ‘ভালো থেকো।’
আমাকে সাজিয়ে, বানিয়ে, কাঁদিয়ে-
কাটলেটের মতো কেটে- বুক চিড়ে
জ¦ালিয়ে, মচমচে করে ফুরিয়ে দিলে।
শূন্যতায় আজ আমি ভাসি
বানের পানির মতো…
একা আমি কাঁদি-
তবুও তোমাকে চাই
যদি ওই পারে পাই
হুর-পরী চাই না সখি, আমি চাই ভালোবাসা।
তোমার ভালোবাসায় আসক্ত, অন্ধ আমি…