সাবানা পারভিনের কবিতা

সাবানা পারভিনের কবিতা

মানবতা

যারা কখনো স্নেহের মুখ দেখেনি
শুনেছিলাম,
তারা শুধু আগুন আর রক্ত ভালোবাসে।

ওদের তো মা আছে,
ওরা কী ওদের সন্তানদের মুখের দিকে
তাকায় নি কখনো ?
কোমল নির্মলতা কী ওদের কখনো ছুঁয়ে যায় নি ?
তবে রক্তগঙ্গায় ওদের উচ্ছ্বাস কী করে হয় ?
কী ভাবে সুখ পায় ওরা পুড়িয়ে ?
ধোঁয়ার কুন্ডলীতে হাজার রহস্য পাক খায় ।

বাড়ি ফিরে রাত্রে ঘুমিয়েছিল সেদিন ওরা ?
দাবানল ওদের তাড়া করে নি দু:স্বপ্নে ?
খেতে পেরেছিল সেদিন ?
ভাতের সাথে মানুষ পোড়ার গন্ধ পায় নি ?
তবে কী ওরা মানব প্রজাতি নয় ?
ওদের হৃৎপিন্ডে কী লাব-ডাব শব্দ হয় না ?

জানি, ওদের মেরুদন্ড পিঠ থেকে পিছলে
হারিয়ে গেছে নর্দমার পাঁকে ;
যেখানে ফিনকি দিয়ে ছুটছে ওদের মানবতা ।
কিন্তু শিকড়টা কোথায় ?
অসুখ নির্ণিত না হলে চিকিৎসা কীভাবে সম্ভব ?

পরিস্থিতি

পরিস্থিতি বলতে জমে ওঠা এক পাহাড়
আবর্জনার স্তূপ।

এমন বিশৃঙ্খল অবস্থায় কোথায় যাওয়া যায় ?
কার কাছেই বা ?
রোজ রোজ তাই আরো কোন খুঁজি ।

একদিন সব কিছু আবর্জনা হয়ে যায়।
আবর্জনা বড় বেমানান ।
আর আবর্জনার কাছে সবাই সুবিধাভোগী।

ফেলে দেওয়ার পরও সকলে খুঁজতে থাকে
কী কী পাওয়া যেতে পারে আরো তার থেকে !
ঠিক যেমন ধানের তুষ থেকে রাইসব্রান অয়েল ।
পেতে-পেতে, পেতে-পেতে
শুধু পাওয়াটাই মোক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।