প্রভাত শতপথীর কবিতা
একার স্বরলিপি
যে পথে গেছি তা হয়তো ছিল কাঙ্ক্ষিত বর্ণে সাজানো,
অথচ ফিরলাম যে পথে তা কেন এতো ব্যথাতুর লাগে।
তাল মেলাতে গিয়ে রাস্তা ভাঙি,
তাই চেপে যাই ভেতরে ভেতরে ভাঙার শব্দ ।
গলায় যতই উদাত্ত হওয়ার চেষ্টা থাক
তবু সে তারে ঝঙ্কার ওঠেনা তেমন করে !
কোল পাতি, তাও পাতা কোলের সুবাস খুঁজে ফেরা।
দৃষ্টি আর কোনো চোখে স্থির প্রতিকৃতি পায়না।
সহজিয়া আকাশে সাঁঝতারা একা-একার স্বরলিপি
লিখে যায়।
যোদ্ধা
প্রতিদিনই যুদ্ধে নামা,
আর আহত মোরগের মতো পড়ে থাকা,
যেন নিঝুম পাতায় বহুরোদ বয়ে গেছে আগে,
সাঁঝের ঝিঁ ঝিঁ পোকারা যেন রুদালী শোনায়।
জমে স্বেদ বিন্দু বিন্দু,
কে মোছাবে তা আশ্চর্য হাতে ?
তারারা উঠছে ফুটে একে একে ,
আকাশ গঙ্গায় ছুঁলো স্রোতের বহতা,
মীনচোখে ধরা দেয় চাঁদমুখী মেঘচল,
এ হৃদয় কবরে শুধু কবিতা মিলে দিই সোহাগ চাদরের মতো।
শব্দ-ভাব-ভালোবাসা ধূপের ধোঁয়ার মতো নিবিড়ভাবে মেখে দেয় পুরোনো শস্যের অভিঘাত।
কথা তবু ফোটে না এ বীরভূমে ,
আটপৌরে আঁধার চরিত্র নিয়েই তুষ্ট থেকে যাওয়া।
আলোয় ফেরা
স্বপ্নের বীজ পুঁতে শুধু আলো হাতড়াই,
ক্ষেতজুড়ে রঙফুল হেসে গড়ে যায়, টিটকারি করে,
অভিন্ন দিন ভাসে বিরহের অভিলাষে, তারাদের লুকায় ,
বকুলের সুগন্ধ আসে ভ’রে দিতে আঁচলের খুঁট,
একটা বিকেল তবু অপেক্ষায় বসে থাকে রাঙাতে কপাল,
আর যারা ভালোবাসে ঠোঁটগাঁথা অস্ফুট স্বরের অনুনয়ে,
তারাও অশোক- সাথি,বৈঁচিকুলের ভাগিদার,
ধুলো ওড়া বাতাসের ভাবনায় বাসিফুল।
খাল বিল শুখে ওঠে,
মাছরাঙা আর্তনাদে উড়ে যায়,
আঁকা বাঁকা ছায়ারা দীর্ঘ হয়
ঘন সোনালী হয়ে ওঠে বিস্তীর্ণ আলোর বসন,
তাতে চেপে রাখি মনের পালাগান।
বাকি সব পথেই ফেরার…