পদাতিক কবি: সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও জাগ্রত বাংলাদেশ

পদাতিক কবি: সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও জাগ্রত বাংলাদেশ

পদাতিক কবি: সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও জাগ্রত বাংলাদেশ
ডঃসুবীর মণ্ডল

বেশ কয়েক দিন আগে করোনার ভয়াবহ আবহে তাঁর প্রয়াণ দিবস উদযাপিত হলো নমো নমো করে। কেন এত উপেক্ষা?? সেই সঙ্গে শতবর্ষ অতিক্রম করলেন পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, অনেক খানি নীরবে এবং অনাদরে ‌। দায়সারা করে শতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বাঙালিজাতি তাকে স্মরণ করলেন।সৃজনী দক্ষতায় যিনি চল্লিশ দশকের নতুন কাব্যভুবন সৃষ্টি করেছিলেন, তাকে এত সহজেই ভুলে যাওয়া যায় কি?? শতবর্ষে তার সৃষ্টিকর্মের কোন মূল্যায়ন হলো না সেই ভাবে,এটা অত্যন্ত লজ্জা, দুঃখ ও বেদনার কথা। জীবনের মোমবাতিটা নিজের মতন করেই জ্বেলেছেন তিনি, জ্বলেছেন তিনি, জ্বলে রাঙিয়ে দিয়েছেন আমাদের মতো অভাজনের জীবনের দিগন্তগুলি, ভিন্ন এক গোধূলির মায়াবী আলোয়।রুপোলি অভ্রকুচির মতোই বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাকাব্য জগতের চারিদিকে। কথিত আছে, কৃতি মানুষের মৃত্যুর পর বিস্মরণের একটা পর্ব আসে। মানুষ তাঁকে ভুলে যায়। কথাটা অনেকখানি সত্য হলেও — চরম সত্য হলো তিনি আবার জেগে ওঠেন উত্তরসূরিদের স্মৃতিতে । বিশুদ্ধ মানবতাবাদী ,মানবপন্থী, পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় এমন একজন সৃষ্টিশীল বহুকৌণিক ব্যক্তিত্ব, যিনি মৃত্যুর পর ও মূলত তাঁর অসাধারণ সৃজন ক্ষমতার গুণে বাংলাকাব্য সাহিত্যের আঙিনায় আজও অমলিন হয়ে চিরভাস্বর। তিনি সমকাল দ্বারা বন্দিত এবং ভাবীকাল দ্বারা প্রসংশিত এক বর্ণময় কবি ও গদ্যশিল্পী।

তাঁর বর্ণময় জীবনের শুভসূচনা ১৯১৯,১২ফেব্রুয়ারি এবং পরিসমাপ্তি ২০০৩,৮ই জুলাই। ২০২০তে জন্ম শতবার্ষিকী।(১) একটি অসাধারণ শুভ লগ্নে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী কবিতার জন্ম বাংলা সাহিত্যের পঞ্জিকায়। সে প্রায় সাত দশকের দোলনা। কবিতার ঝুলনে দুটি সত্তা দুলেছে ৮৪ বছর –সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং বাঙালি চিত্ত। কখনো বা তাতে ছিল দিনবদলের ভয়ঙ্করের তাল, কখনও —- বিশেষ করে পরবর্তীকালে—ছিল কঠিন কঠোর বাস্তবের উত্তাল ঢেউ। বাঙালির সমকালীন ইতিহাসের সঙ্গে আশ্চর্য তাঁর সমগামী পদযাত্রা। কখনও কখনও বাঙালি মনস্কতা নূতন রাজনীতির বাঁক নেওয়ার পূর্বেই কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় নিজেই বাঁক নিয়েছেন। সমকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্হায় তিনি অসন্তুষ্ট, ক্রুদ্ধ,বেদনার্ত হয়েছিলেন, সেই কারণেই জীবনাদর্শে ও একটা বাঁক এলো। জীবন দর্শনের সঙ্গে নিজেকে কিছুটা পাল্টালেন। ফলশ্রুতিতে তাঁর দৃষ্টি বর্তমান থেকে উঠে গেছে সম্মুখের দিগন্তের ডানায়। মহৎ কবিদের মতো তিনি হয়েছেন আমাদের ঋষি, আমাদের আগামী দিনের দ্রষ্টা।(২)সুভাষ মুখোপাধ্যায় বিশ শতকের চল্লিশ দশকের কবি। তিরিশের দশকের মধ্যভাগে সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়েছিল অন্য এক মাত্রায়। তিনি সংগ্রামী কবি। প্রতিবাদী কবি। আশাবাদী কবি। সামাজিক দায়বদ্ধ কবি। সমাজমনস্ক,সমাজ সচেতন,মানবপন্থী কবি ছিলেন বলেই তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ও অগাধ শ্রদ্ধাবোধ এবং সহমর্মিতা প্রকাশিত হয়েছে।(৩) আমরা সবাই কমবেশি জানি,আজ থেকে বহু – বহু বছর আগে,সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী কাব্যগ্রন্হ ‘ পদাতিক'(১৯৪০) , একটি যুগাম্ভর ঘোষণা করেছিল। নিতান্ত কথ্যবুলি কবিতার ভাষা হয়ে আত্মপ্রকাশ করল তাঁর শানিত লেখনীতেই। ছন্দের সমস্ত নৈপুণ্যকে হাতের মুঠোয় মধ্যে রেখে তিনি তাতেই জাগিয়ে দিলেন নূতন স্পন্দন। মতবাদের মঞ্চ থেকে শুরু হওয়া লেখাকে বারবার কবিতার স্তরে উত্তীর্ণ
করে দেওয়া,ছোট ছোট কৌতুক আর ধারালো শ্লেষকে অনায়াসে কবিতার শরীরে বুলিয়ে দেওয়া,প্রত্যক্ষভাবে রাজনীতিকেই কবিতার বিষয় করে তোলা,এর ফলে ঘটলো অবিস্মরণীয় ঘটনা। সুভাষ মুখোপাধ্যায় প্রথম বই থেকে জয় করে নিলেন পাঠকদের হৃদয়কে। সাধারণ প্রান্তিক মানুষ তার নিজের জীবনকে–জীবনের সমস্যা, বঞ্চনা-ক্ষোভ আর আশামাখানো স্বপ্নকে –নিজেদের চোখে দেখতে পেল সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতায়। প্রথম কাব্যগ্রন্থ থেকেই তাঁর আবির্ভাব। প্রথম কাব্যগ্রন্থ থেকেই তিনি হয়ে উঠলেন দেশপ্রিয় ,জনপ্রিয় কবি ব্যক্তিত্ব ।

( ৪) বিশ্বের কবি ও কবিতার ইতিহাস অন্বষণে দেখা যায় কোনও বড় কবিই কখনও নিজেকে এক জায়গায় আটকে রাখেন না। সে যত সাফল্য, যত জনপ্রিয়তাই লাভকরুন,সে সবই তাঁর একসময়ে তুচ্ছ মনে হয়।’ বড় কবিরা মোড় না নিয়ে থাকতে পারেন না।নূতন পথ বারে বারে এঁকে দেওয়ার সুখ ও সাহসই তাঁদের জীবন।’ অসাধারণ সৃজন ক্ষমতার অধিকারী কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাই করলেন। যে ছন্দ তাঁর কাছে ছিল পোষা পাখির মতো, সেই ছন্দকে, তাঁর প্রত্যক্ষতাকে পরিত্যাগ করলেন তিনি। যদিও এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর দিয়ে দ্বিধাহীন চিত্তে বললেন–‘ শক্রপক্ষ আচমকা যদি ছোঁড়ে কামান/ বলবো বৎস,সভ্যতা যেন থাকে বজায়/ চোখ বুজে কোন কোকিলের দিকে ফেরাবো না কান” অথবা “চোখে তার স্বপ্নের সেই নীল মদ্য/ কাঠফাটা রোদে সেঁকে চামড়া-“- নিজের লেখার এই বিখ্যাত উদাহরণ অনুসরণ করলেন না তিনি আদোও। বরং নিয়ে এলেন আরেক রকম আপাত কোমল ছন্দ -স্পন্দন,গদ্যের শরীরে।

“কারো মুখের কথায় আর আমার বিশ্বাস নেই
আমি হাতে হাতে প্রমাণ চাইব
আমাকেও কেউ মুখের কথায় বিশ্বাস করুক
আমি চাই না
আগুনে
রক্তে

সংঘাতে
সবাই আমাকে বাজিয়ে নিক।”
সঙ্গে সঙ্গেই এই বক্তব্য আর বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলো না। বাংলা কবিতার ইতিহাস জেনে নিল, বিবৃতি কেমনে হয় কবিতা। ‘যত দূরেই যাই’– পরপর তাঁর নূতন গ্রন্হে এই সাহসী নূতনত্বের পরীক্ষা,এই ঝুঁকি, একসঙ্গে আরও বিপজ্জনক, আরও দূরপ্রসারী হয়ে উঠল—-

“আপনাকে এই বলে দিচ্ছি,দেখে নেবেন
কারো বাপের সাধ্য নেই
লাথি মেরে
আমাকে এই পৃথিবী থেকে হঠায়
আমি এই মাটি কামড়ে পড়ে থাকলাম।”
ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে,১৯৫৭ সালেই বাংলা কবিতায় এত সহজ ,ঝরঝরে স্বাভাবিকতার একটা স্বতন্ত্র স্বর এসেছিল, এসেছিল বিশ্বাসের জোর।বক্তব্যের মধ্যে একটা নূতন বার্তা ঘোষিত হলো । জীবনের জয় ঘোষণার এক নূতনত্ব, মৃত্যুর গলায় পা দিয়ে হলেও আমি বাঁচব।

“আমি যত দূরেই তাই/আমার সঙ্গে যায় ঢেউয়ের মালা গাঁথা/ এক নদীর নাম।” এরপরে বললেন—
“ফুল ফুটুক না ফুটুক/ আজ বসন্ত”

( ৫) এরপর এলো সত্তরের রক্তঝরা ও মুক্তির দশক।মুক্তির দশক হয়ে উঠবে বলে,জেগে উঠতে চাইল সেই দিনগুলি।আর হত্যা,ভ্রাতৃহত্যা ও পাল্টা হত্যায় ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল সেই জেগে ওঠার সব পথ। অস্হির অগ্নিগর্ভ সেই সময় ধরা রইল ‘ছেলে গেছে বনে’ কাব্যগ্রন্থে।যেখানে তিনি বলে উঠলেন–
” আমি তবু পদাতিক/হাতে বাজছে বনবাদ্য দ্রিমিকি দ্রিমিকি/কাছে এসো রত্নাকর দূরহটো বাল্মীকি!!”
সারা জীবন ধরে বাঁকের পর বাঁক,ঝুঁকির পর ঝুঁকি নিতে নিতে চলেছে পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী কবিতাগুলি। নিজের ভালোবাসাকে নিজের মতো করে, বিশ্বাসকে বারবার পরখ করে করে চলতে হয়েছে কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়কে।আর সেই পরীক্ষায় তাঁর কবিত্ব জয়ী হয়েছে বারবার। কেননা, বাঙালিও তাঁর মনের ছন্দ এবং মোড়গুলিকে নিজের বিশ্বাসের কাছাকাছি এনে দাঁড় করিয়েছে। জন্মের তারিখ ১২ফেব্রূয়ারিতে অসামান্য সুভাষ মুখোপাধ্যায় ৮৪-তে পা দিয়েছেন(২০০৩,১২ই ফেব্রুয়ারি)।তা নিয়ে কোনও বড় হইচই হয়নি। সামান্য কিছু দিন বাদে চিরকালের মতো বিদায় নিলেন,২০০৩ ৮ই জুলাই

(৬) সাবেক পূর্বপাকিস্তানে’৫১-এর বিখ্যাত ভাষা-আন্দোলনের পরে পরেই ঢাকায়’ ‘পূর্বপাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।১৯৫৪ সালে সে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে ঢাকায় যান সুভাষ মুখোপাধ্যায় -সহ পশ্চিমবাংলার বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিকরা। সে সময়ের পূর্বপাকিস্তান উত্তেজনায় ঝড়ো হাওয়ায় কাঁপছে। ভাষা আন্দোলন তখন সফল। আওয়ামী লীগের পরিচালনাধীন ফ্রন্ট বিজয়ী ঘোষিত হয়েছে নির্বাচনে, অথচ তাকে ক্ষমতায় বসতে না দেওয়ার জন্য চলছে ঘৃণ্য চক্রান্ত। এই সঙ্গে সেখানে ঘটে গেছে আরও একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা। কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন শ্রীমতী ইলা মিত্র।পাক–স্বৈরচারী শাসকদের হাতে চরম নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হয়ে সে সময় তিনি ঢাকার সরকারী জেলে অন্তরীণ। এই দুই টি ঘটনাই আবেগ-মথিত হয়ে ‘পারুলবোন’এ ধরা পড়েছে। রূপকথা থেকে উঠে আসা এ কবিতার ‘পারুল বোন’এ মিশে আছেন একাধারে ‘স্তালিন–নন্দিনী’ ইলা মিত্র এবং জাগ্রত বাংলাদেশ।

(৭)১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার কাজী নজরুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় কবির মর্যদা দেয় এবং সসম্মানে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট ঢাকাতেই কবি নজরুলের জীবনাবসান হয়। তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। ঢাকার মাটিতে। বাংলাদেশে কবি-কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যু এবং সেখানে সমাধিস্থ করার ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এপার বাংলার মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।গোটা ঘটনাটি পদাতিক–কবির মনে যে আবেগ নিয়ে আসে এবং তিনি যে দৃষ্টিতে ঘটনাটিকে দেখেন, তারই কাব্যরূপ ‘জাগ্রত’ কবিতা। বিদ্রোহী কবির মৃত্যু নয়, তাঁর জাগ্রত সত্তাই কবির কাছে বড়ো হয়ে দেখা দেয় ফলে তাঁর বিষয় একটাই; ‘দেখব তিনি কোথায় জেগে/কোথায় নন মৌন।’

(৮)১৯৫১-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ‘৭১-এর বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ– বাংলাদেশের জাগ্রত রাজনীতির সমস্ত উজ্জ্বল বিন্দুগুলি কবি সুভাষ মুখোপাধ্যাযকে গভীর ভাবে আচ্ছন্ন ও আপ্লুত করেছিল। তার নিদর্শন ছড়িয়ে আছে’ পারুল বোন’ থেকে’নিয়ে যাব শহর দেখাতে’ পর্যন্ত নানা ধরনের বর্ণময় কবিতায়।’লিখতে বারণ’থেকে শুরু করে ‘ ক্ষমা নেই’ পর্যন্ত তাঁর নানা গদ্যের মধ্যে। স্বাভাবিক ভাবেই মুজিবর রহমানের নৃশংস হত্যা ঠিক ততটাই করেছে মর্মহত। করেছে রক্তাক্ত ও ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ ও যন্ত্রণা থেকে উল্লেখিত তিনটি কবিতার জন্ম।

“ধানমণ্ডির মাঠে যেখানে ডহরপানি/ ডুবে ডুবে ঠেকলে হাতে ফুলদানি/ তার মধ্যে হয়ে গায়েব/
বসে আছেন ভাই সাহেব”(দিক ভুল) । কবির এই ‘ভাই সাহেব’ই ইতিহাসের বঙ্গবন্ধু। তাঁর হত্যাকারীরা পুত্রহন্তা তান্তালসের চেয়েও, কবির চোখে,
‘। আরও বড়ো নরান্তক খুনী'(সাজা চাই)‌‌‌‌‌‌এদএর জন্য কবির উথলে ওঠে ক্রোধ: ‘আন্তালস যা পেয়েছে/আততায়ী যেন পায় তার চেয়ে আরও বেশি সাজা'(সাজা চাই)।১৪ইআগস্ট মুজিব -হত্যার সেই কালান্তক রাত :’ নরকের মতো সেই রাত/ সাপের মত বুকে হাঁটা ট্যাঙ্কের চাকা/ বৃষ্টি ধোঁয়া ঘাসের ওপর শেয়াল/ নিহতদের শব’।(বাঘের আঁচড়)।এই মর্মান্তিক ছবিকে স্মরণে রেখে ঘাতকদের বিরুদ্ধে সীমাহীন ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে।’আমি আমার ছেলেবেলার মতন/ মাঝের আঙুলটা তর্জনীতে তুলে দিয়েছি/ হাঁটুর নিচে কেটে রেখেছি/বাঘের আঁচড়/রাতে ওরা ছুঁতে না পারে’।(বাঘের আঁচড়)। কখনোবা আগামী দিনের উজ্জ্বল ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন—-
‘ফুরদানিতে ঠিক ফুল/ হবে না দিক ভুল’।(দিক ভুল)

(৯) কবির মনভূমি জুড়ে জাগ্রত বাংলাদেশঃ কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবি হিসেবেই আমাদের সবার কাছে বেশি পরিচিত। তবুও বাংলা সাহিত্যে গদ্যশিল্পী হিসাবে তাঁর উজ্জ্বল অবদান কোন অংশেই কম নয়। তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ’পদাতিক'(১৯৪০) আর প্রথম গদ্যগ্রন্হ’আমার বাংলা'(১৯৫১)। ‘পদাতিক’ কাব্যগ্রন্হে মে দিবসের কবিতায় তাঁর দীপ্ত ঘোষণা–
“প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য
ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,
চোখে আর স্বপ্নের নেই নীলমদ্য
কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।”
কোন রোম্যান্টিক ভাবনায় ভেসে যাওয়ার নয়, মানুষের দিকে তাকিয়েছিলেন তিনি। সেজন্যই কবি ‘মিছিলের মুখ’–এ মুষ্টিবদ্ধ একটি শানিত হাত দেখতে পান, গর্জে ওঠেন শোষণের বিরুদ্ধে। মানুষের কথা বলার জন্য তিনি যে একদিন গদ্যকে হাতিয়ার করবেন সে ইচ্ছেটি তাঁর কাব্যভাবনার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল। তাঁর গদ্যলেখায় মানবতাবাদের জয়গান ঘোষিত হয়েছে, আলোচিত হয়েছে সাধারণ প্রান্তভূমির মানুষের দুঃখ-কষ্ট এবং গুরুত্ব পেয়েছে তাদের উপর সংঘটিত শোষণ-অত্যাচারের কাহিনী। তাঁর গদ্যভাষা ঝরঝরে, গতিশীল। একটা গল্প বলার ভঙ্গি আছে সেখানে। লেখকের বলা কথা গুলো ছবির মতো ভেসে ওঠে পাঠকের মনে। বাংলাদেশের লোকজীবন ও সংস্কৃতির এক নিখুঁত ছবি পাই তাঁর রিপোর্টাজধর্মী লেখা গুলিতে। সুগভীর দায়বদ্ধতা,পর্যবেক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা না থাকলে এই ভাবে লেখা যায় না। ‘আমার বাংলা’প্রবন্ধগ্রন্হে পাঠক তাঁকে নূতন ভাবে আবিষ্কার করেন। বাঙালি ও বাংলাদেশের প্রতি তাঁর অসীম মমত্ববোধ ও ভালোবাসার ফসল হলো ‘আমার বাংলা’।ডঃ নীহাররঞ্জন রায় এই গ্রন্হের ভূমিকা লিখেছিলেন ” সুভাষ পদাতিক হ’য়ে বাংলার পথে ঘাটে মাঠে বেরিয়েছিলেন দেশের অগণিত মানুষের পরিচয় নেবার জন্য, তাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ -বেদনা, আশা আকাঙ্ক্ষাকে হৃদয়ের মধ্যে গ্রহণের জন্য, নিজের যথার্থ পরিচয় পাবার জন্য। সে-সুদীর্ঘ কয়েকটি বৎসর সুভাষের অজ্ঞাতবাস,নগরসাহিত্যের মুখর কোলাহল থেকে আত্মনির্বাসন। এ-অজ্ঞাতবাহ,এ-নির্বাসন ব্যর্থ হয় নি; পদাতিক জীবন তাঁকে নতুন ঐশ্বর্যের সন্ধান দিয়েছে, দেশের মাটির পরিচয় সাধন করিয়েছে। এই তো যথার্থ আত্মপরিচয়।’আমার বাংলা’ এই পরিচয়-সাধনার ইতিহাস এবং সাধন -অভিজ্ঞতার আনন্দময় কাব্য। দেশের ও দেশের মানুষকে জানা,হৃদয়ের মধ্যে গ্রহণ করা— এর চেয়ে গভীরতর জীবন– উৎসের কথা আমি জানিনে।”
‘আমার বাংলা’ গ্রন্হ বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় সেই সময়ে যথার্থ ভাবেই লেখা হয়েছিল,
“সুভাষ মুখোপাধ্যায় কবিখ্যাতি অর্জন করেছিলেন ছাত্রজীবনেই। কিন্তু তিনি যে একজন সার্থক গদ্যশিল্পী তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল কিছু কাল পরে’আমার বাংলা’ প্রকাশিত হওয়ার পর।”( ৮) সাহিত্য জীবন ও বর্ণময় সৃষ্টি সম্ভারে অনন্য:– ১৯৫১ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায় ‘পরিচয়’ পত্রিকা সম্পদনার দায়িত্ব নেন। কয়েক বছরের জন্য সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে ‘ সন্দেশ ‘পত্রিকার যুগ্ম-সম্পাদনাও করেন। তিনি একজন সৃষ্টিশীল মানুষ এই শুধুমাত্র কাব্য নয় , রিপোর্টাজ,ভ্রমণ কাহিনী,উপন্যাস, শিশু সাহিত্য, অনুবাদ সাহিত্য — সাহিত্যের সব শাখাতেই তাঁর সমাজ পাণ্ডিত্য।

কাব্যঃ–‘পদাতিক'(১৯৪০),’অগ্নিকোণ'(১৯৪৮),’চিরকুট'(১৯৫০), ‘ফুল ফুটুক'(১৯৫৭), ‘যত দূরে যাই'(১৯৬২), ‘কাল মধুমাস'(১৯৬৬),’ছেলে গেছে বনে’ (১৯৭২), ‘একটু পা চালিয়ে ভাই’, ( ১৯৭৯),’জল সইতে'(১৯৮১),’যা রে কাগজের নৌকা'(১৯৮৯), ‘ধর্মের কল'(১৮৯১)।
অনুবাদ সাহিত্য :–‘ নাজিম হিকমতের কবিতা'(১৯৫২), ‘দিন আসবে'(১৯৬১),’পাবলো নেরুদার কবিতাগুচ্ছ'(১৯৭৩),’রোগা ঈগল'(১৯৭৪),’ হাফিজের কবিতা'(১৯৮৪),’চর্যাপদ'(১৯৮৬),’ অমরু শতক'(১৯৮৮), ‘ গাথা সপ্তসতী'(১৯৯৮)।

উপন্যাস:–‘হাংরাস'(১৯৭৩), ‘কে কোথায় যায়'(১৯৭৬), ‘হ্যানসেনের অসুখ'(১৯৯০),’কাঁচা -পাকা’,(১৯৮৯), ‘কমরেড’,’ কথা কও’,(১৯৮৯)
অনূদিত কথাসাহিত্য:– ‘কত ক্ষুধা'(১৯৫৩),’রুশ গল্প সঞ্চয়ধ (১৯৬৩),’ইভান দেনিসেভিচের জীবনের একদিন”তমস’,(১৯৮৮)।
রিপোর্টাজ,ভ্রমন কাহিনী, প্রবন্ধ ও আত্মজীবনী:—‘আমার বাংলা'(১৯৫১),’ডাক বাংলার ডাইরি'(১৯৫৪)’ভিয়েতনামে কিছুদিন'(১৯৭৪),’নারদের ডাইরি'(১৯৭৬),’কবিতার বোঝাপড়া'(১৯৯৩),’টানাপোড়নের মাঝখানে'(১৯৯৪),’ঢোলগোবিন্দের মনে ছিল এই'(১৯৯৪),ইত্যাদি।

ছোটদের জন্য লেখা বই :–‘অক্ষরে অক্ষরে'(১৯৫৪),’কথার কথা'(১৯৫৫),’জগদীশ চন্দ্র বসু'(১৯৫৫),’বাঙালির ইতিহাস'(১৯৫৯),’টোটো কোম্পানি'(১৯৮৪), ‘রূপকথার ঝুড়ি'(১৯৮৮), ‘জানো আর দ্যাখো জানোয়ার'(১৯৯১)
সম্মাননা প্রাপ্তি :–‘যত দূরে যাই’ কাব্যগ্রন্হের জন্য সুভাষ মুখোপাধ্যায় ১৯৬৪ সালে ‘সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার’পান।১৯৯১ সালে ‘জ্ঞানপীঠ’
এবং ‘আনন্দপুরস্কারে’ (১৯৯১) ভূষিত হন তিনি ।

শেষ কথঃ ‘আমার বাংলা’ নামকরণটি শুনলে প্রথমেই মনটা অদ্ভুত এক শান্তিতে ভরে। আমাদের প্রত্যেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে রূপসী বাংলার ছবি,মে দেশ আমাদের প্রত্যেকের মাতৃভূমি। পবিত্র জন্মভূমিও।এই গ্রন্হের ভূমিকা ও ১১টি রচনায় সুভাষ মুখোপাধ্যায় এক জাগ্রত বাংলাদেশের বাস্তব নিখুঁত ছবি তুলেছেন পরম মমতায়। প্রতিটি রচনায় তিনি দেখাতে চেয়েছেন, মে বাংলাকে আমরা প্রত্যক্ষ করি, সে বাংলা সত্যকারের বাংলা নয়। সাধারণ মানুষ বাংলাদেশের মানচিত্র দেখে যে বাংলাকে অনুভব করেন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের দেখা বাংলা সেই পর্যায়ে পড়ে না। কেননা, আমাদের এই বাংলার মানুষেরা ভালো নেই। তারা সবাই সুখে নেই। তাদের জীবনে স্বপ্ন নেই। মে মানুষ নগরসভ্যতা থেকে দূরে থাকে,যাদের অধিকাংশই না খেয়ে থাকে।তারা প্রতি মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে চলে —তারা আজ মে সত্যিই ভালো নেই তা ফুটিয়ে তুলেছেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়।বিংশতাব্দীর মানুষ আসলে মে বাংলাকে চেয়েছিলেন, সেই বাংলায় দুর্ভিক্ষ,মন্বন্তর, খাদ্যাভাব ছিল, এখনও একুশ শতকের বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি সত্ত্বেও অনেক জায়গায় মানুষ না খেয়ে থাকে। আসলে ‘আমার বাংলা’গ্রন্হটি আক্ষরিক অর্থেই বাংলাদেশের লোকজীবনের জীবন্ত বাস্তব ইতিহাস।
“এদেশ আমার গর্ব/এ-মাটি আমার চোখে সোনা/ আমি করি তারি জন্মবৃত্তান্ত ঘোষণা”–
এই উক্তির অন্তর্নিহিত আবেগ এখনও একই অভিঘাত আনে।
সুভাষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বিংশ শতাব্দীতে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কবি এবং গদ্যকার। তিনি তার জীবনে কাব্যচর্চার পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার দীর্ঘ জীবন ছিল অত্যন্ত বর্নাঢ্য এবং বিতর্কের কন্টক দ্বারা সুসজ্জিত। তার সেই জীবনের সমুদ্রসম গভীরতায় সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার উদ্দেশ্যে এই নিবন্ধটির অবতারণা।
ভারতবর্ষের বুকে পশ্চিমবঙ্গে আধুনিক বাংলা কাব্য আন্দোলন যে মানুষগুলোর চিন্তায় প্রাণ পেয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হলেন কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়। দর্শন, কাব্য ও রাজনীতি নিয়ে বর্ণময় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জীবন। এই জীবনে বারবার তিনি মতাদর্শগত দিক পরিবর্তন করেছেন, কখনো কবিতার জগতে হারিয়ে গিয়েছেন, কখনো বা রাজনীতিতে গা ভাসিয়েছেন।

তাঁর জীবদ্দশায় তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য অগণিত বিতর্ক। কিন্তু সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এই বাঙালি কবি ও গদ্যকারের খদ্দরের পাঞ্জাবি পাজামা পরা মাথাভর্তি ঘন কোকড়ানো চুল, বুদ্ধিদীপ্ত চোখ, চোখ চশমা, মুখের বাম দিকে একটা বড় আঁচিল- এই প্রতিচ্ছবি সকল বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়ে গিয়েছে।
সমগ্র জীবন জুড়ে অসংখ্য রাজনৈতিক আন্দোলন এবং কাব্য রচনার মধ্যে দিয়ে জীবন অতিবাহিত করলেও বিতর্ক কোনদিন সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পিছু ছাড়েনি। আধুনিক যুগে বাংলার এই উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক যকৃত এবং হৃদপিন্ডের সমস্যার কারণে দীর্ঘকাল অসুস্থতার পর ২০০৩ সালে কলকাতায় পরলোকগমন করেন।

কবি সুভাষ ছিলেন অশান্ত সময়ের দৃপ্ত কণ্ঠস্বর। তিনি কোনদিন সময়ের স্রোতে গা ভাসাননি। সব সময় নিজের যুক্তি দিয়ে যেটাকে ঠিক বলে মনে করেছেন, সেটাকে নিজের সবটুকু দিয়ে পালন করেছেন। যেমন সত্তরের দশকে যখন অসংখ্য বাঙালি বুদ্ধিজীবীরা নকশাল আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল, তখন সুভাষ মুখোপাধ্যায় সেই প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে গিয়ে এই উগ্রপন্থী আন্দোলনের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু তা বলে তাতে তার বামপন্থী রাজনৈতিক মনোভাবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তার কলম থেকে উচ্চারিত হয়েছে-

“বাঁয়ে চলো ভাই,
বাঁয়ে-
কাল রাত্রির বুক চিরে,
চলো
দুহাতে উপড়ে আনি
আমাদেরই লাল রক্তে রঙিন সকাল।”

সুভাষ মুখোপাধ্যায় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের চল্লিশের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। তার লেখায় বারবার ফিরে ফিরে এসেছে বঞ্চিত, বৈষম্য লাঞ্ছিত মানুষের দুর্দশার কথা। ১৯৪০ সালে তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ পদাতিক -এ মানুষগুলোর কথাই তিনি বার বার উল্লেখ করেছেন।

মানবিক বোধ তথা রাজনৈতিক বাণী ছিল তার কবিতার অন্যতম প্রধান অভিমুখ। তার কাব্যভাষা ছিল সাধারণ মানুষের ভাষা, যা আড়ম্বরহীন। এই আড়ম্বরহীন ভাষাতেই তিনি রচনা করেছিলেন চিরকুটের মতন ফ্যাসিবিরোধী বাংলা কাব্য। কবিতার ছন্দে সাধারন মানুষের ভাষায় তার দৃপ্ত বলিষ্ঠ ঘোষণা জনমানষে অদ্ভুত জোয়ার সৃষ্টি করত। তাঁর অসাধারণ সৃষ্টিকর্ম শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও সমাদৃত হয়েছে সময়ের হাত ধরে।
সাহসী পুরুষের মতো, বীর নাইটের মতো বেঁচেছেন। যেন প্যারাফিনে গড়া এক অন্য মানুষ—– একই সঙ্গে অতি দাহ্য,আবার কুসুমাদপি কোমল।জীবনের মোমবাতি নিজের পছন্দ মত করেই জ্বেলেছেন তিনি ,জ্বলেছেন তিনি, জ্বলে রাঙিয়ে দিয়েছেন আমাদের মতো অভাজনদের জীবনের দিগন্তগুলি,ভিন্ন এক গোধূলির মায়াবী আলোয়।রূপালী অভ্রকুচির মতো বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে চারিপাশে।

আমরা শুধু সেই দীপ্তিটুকু দেখেছি, অন্দরমহলের দহনের খবর শুনিনি, শুনতে পাইনি(১৯১৯–২০০৩) এখানে পঁচাশি বছরের চির তরুনের জন্য , আমাদের বিনম্র প্রণামখানি রইলো । প্রয়াণ দিবসে মোমবাতির আলোয় উজ্জ্বল হবে তাঁর গর্বিত পঁচাশি বছরের সমৃদ্ধ রাত।আজ না ফেরার দেশে মানুষ, দুঃখ এটাই কবে আরও বেশি আলোকপ্রাপ্তা হব আমরা। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাঁর জীবনাদর্শ আমাদেরকে নিশ্চিত নিয়ে যাবে গ্লানিহীন অমলিন ভোরের আলোয়। আমাদের হৃদয়ের মানচিত্রে চিরজীবী হয়ে থাকুন,পরম মঙ্গলময় ঈশ্বরের কাছে এইটুকুই প্রার্থনা

তথ্যসূত্র:
(১) সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও সাহিত্য: সম্পাদনা,সন্দীপ দত্ত,
(২) সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতা সমগ্র,
(৩) আনন্দবাজার পত্রিকা।