জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
যাবো
যাবো যখন ভেবেছি তখন যাবোই।
তুমি চাঁপারগুচ্ছ কানে বাঁধলেও নয়
কৃষ্ণচূড়ায় আঁচল রাঙালেও যাবো
যেতে যে হবেই।
যাবো বলে পিছন ফিরলে কোনো আস্ফালন
অস্ত্রের ঝনঝন রমণীধনুক টংকারেও থামা যাবে না।
অনেকেই চলে গেছে চিন্তাহীনপুরে
তারা তো ভাবেনি কেন যাবে?
তবে কেন ফুলে ফুলে কাঁটার বাঁধন!
কখনো নিশিগন্ধ অন্ধকারে সর্পিল পেষণ
সুবাসের শিকলকৌশল চোখাচোখি আবছায়ায়
সোনালি ঈগলপায়ে নকুলকুমার শালুকমৃণালে
অক্টোপাস প্যাঁচ শিউলি আঁচলে ফাঁদ
নিরীহ জলের চোরাস্রোত অলঙ্ঘ্য টান।
তবু চলে যেতে হবে মলিন পোশাকে
গাছে গাছে শপথবাক্য টাঙালেও নয়
যাবো তো যেতেই হয়!
আজ থাক বললেই শ্যাওলায় বেঁধে দেবে স্রোত
অকাজ আলস্য আর নয় আগামীর প্রতিজ্ঞা স্থির
দৃঢ় যাত্রাপথে যেতে হবে…যাবো… যাবোই…
ভেদ
দাঁড়াও জলের আয়নায় দেখো ওই কার মুখ?
তোমার বা আমার বা আমাদের মলিন অথবা উজ্জ্বল
ভেদবুদ্ধি রেখেছো জমিয়ে অন্ধকারে কয়লাসিন্দুক।
অথচ নিজের কাছে অথবা ঈশ্বর তফাত খোঁজায় সফল?
বুকে হাত দিয়ে বলো ওখানে আকাশের ডাক নীরব বাতাস
জলও দেখছে সব এসময় মিথ্যার কথাকলি নয়।
তোমাদের বানানো বিধান ডালপালা মেলে অট্টহাস
প্রতিস্পর্ধী প্রকৃতির কুলাঙ্গার জীবনের বর্জ উপজাত ক্ষয়!
সফল হবে না এই নির্জল পাপ ভেদবুদ্ধির কলঙ্কপ্রলয়।
বান্ধব
মৃত্যুকে বন্ধু বলে ডাকি।বন্ধু বললে পাথরও দুর্বল হয়…
আত্মীয়তার ইতিহাস বলে সম্পর্ক গ্লানিময় তবু বাঁচার প্রয়াস।
পরিবারের সবচেয়ে সুন্দরী কন্যাকে সন্ধির শর্ত করে কতজন….
আমি তো বন্ধুতা চেয়েছি কাছের বলে যদি কোপ না পড়ে।
মন্ত্রীকে আত্মীয় বলে পদশব্দ ভারী চৌকাঠ পেরোলেই ফড়িং নাচ
চব্বিশ ইঞ্চি স্টিলপাতি হাসি এফোঁড়ওফোঁড় করে।কেন যে বলো?কেন বলি!
এই যে নগণ্য বোধ দুর্বলতা বন্ধু বলি ফুল ছড়াই… যদি তার প্রসন্নতা
ছাতা মেলে দুর্বল মাথার উপর।ব্যঙ্গ হয় যদি দন্তরুচি।
মরণকে শ্যাম বলে ডেকেছি মাঠে কুঞ্জ নয় কুঞ্জ কৌশলে নয়
অগোছালো ভিক্ষাপাত্র হয়ে পথে তার শরীর মেলেছি পদরেণু নয়
চেয়েছি বর্ম আর রক্ষাকবচ আমার ঘরে নয় কাছাকাছিও নয়
যাও তুমি শত্রুর সন্ধানে।মার খেতে খেতে মৃত্যুকে অস্ত্র ভেবেছি
যাও তুমি তাদের সন্ধানে যারা আমার আপন বা প্রিয় নয়।
তুমি তো কতই পারো দেখাও তো মারণ কৌশল! প্রাণ নিলে ফুল দিও
আর কিছু বাছাই শব্দবন্ধ শোকের গ্রেভিমাখা পরম উপাদেয় শ্রবণবিলাস।