সুবীর সরকারের কবিতা
উৎসব
ঘোড়সওয়ারদের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই!
নদীমাতৃক এই দেশে পাড় ভাঙছে নদীর!
পুরোন রাস্তার বাঁকে পালকি।
বিকেলের হাটে হাতপাখা কিনি।
আমাকে অনুসরণ করে ছাইরঙের পুতুল।
হাত তুললে দাড়িয়ে পরে এম্বুলেন্স
চারপাশে হিমঘর।
মর্গের সামনে সিগারেট খাই।
রুমালে চোখ মুছছেন আত্মীয় স্বজন।
গিটার বাজে।
চালিয়ে দেওয়া হয় গজল।
সবটাই রোমহর্ষক।
অনেক বছর পরে দেখা হচ্ছে তোমার সাথে
পাতলা হয়ে ওঠা ভুরু,কাজল হারানো চোখ।
পা থেকে খসে পড়ছে হিল।
শীতের স্টেশন থেকে ফিরি মুড়ি আর বাতাসার কাছে
মৃত্যু আসলে উৎসব,বরফের মত
ঘোড়সওয়ারদের সাথে আমি মৃত্যুর সম্পর্ক খোঁজি!
অপেরা
মৃত বেড়ালের জন্য শোকগাঁথা আমি লিখবো না
বাতাসে আঙুল চালিয়ে আমি দেশ লিখবো না
বরং মজনু ভাই আর তার ঘোড়াটির কথাই
লিখে ফেলবো
কালপানি একটি প্রাচীন গ্রাম।
সারাদিন দেখি জলের প্রহার।
ঘুমের ভেতর ঘুঙুর।নাচঘর।
মৃত বেড়ালের ছায়ায় পাখিরা তাঁবু পাতে।
হেমন্ত
ধান নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ইঁদুর একা একা হেমন্তের মাঠে
আয়না ভেঙে যায়।
নদিকুলে বসতবাড়ি।
সন্দেহপ্রবন হাওয়ায় দেখি মথ,ফড়িং ও
প্রজাপতি।
মায়াদৃশ্যে ম্যাজিক নেই!
উঠোনে ধলা মোরগ। আঙুল ফুলে গেলে হেমন্তের
নিচে বসে থাকি
বাজনা
তুমি বাজনা বাজাবে বলে খুলে এনেছি মৃতের হাড়
ঘোড়া আছে,অশ্বমেধ নেই।
ঘুঘুর ডানায় যখন রোদ
আমরা তখন কোন না কোন কর্মসূচি বেছে নিই
বিশ্রাম সেরে একটা ঘরে ফিরবার দুপুর
ঘামে ভেজা গামছা।
ধানক্ষেতে জল জমলে উপচে ওঠে
অভিমান
ডুব সাঁতারে আছি।অবসর ভেঙে
অবসাদ।
বাথান
বাথান হারানো মহিষের গল্পে কোন সূত্রধর থাকেন না
বোরলির ঝাঁক।
পুটি মাছের বিস্তারিত হয়ে ওঠা।
ভোরের আগুনের দিকে দু চারটি মহিষের এগিয়ে
আসা
বাথান মৈশাল দোতরা_এক ফ্রেমে রাখি।
এদিকে বাথান খুঁজে নিতে থাকেন গঞ্জদেশের
মাহুত