দেবী আচার্য্যের কবিতা
একটি গাছের আত্মকথা
মৃত্তিকার বুকে আমার মূল
প্রশান্ত মনে দেখ আমি খেলা করি গাছ
দুপুরের সূর্যের ঝাঁঝালো আঁচে
মানুষের অনুভবে মৃদু বাতাস।
এই মুহূর্তে আমার কাছে ফুল নেই ,ফল নেই
আছে কেবলই ছায়া
যে ছায়ায় তুমি দাঁড়িয়ে আছো
প্রাণে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অকরুণ ভঙ্গিতে
ধারালো অস্ত্র হাতে কাঠুরিয়া!
জানি কিছুক্ষণ পর
অসীম দুর্নিবার বিষাদ
গ্ৰাস করবে আমার ভ্রুণ
তুমি ছেদন করবে আমার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ;
দীর্ঘশ্বাস ফেলবে আমার শেকড়,বাকল।
যে বিষাদ সঞ্চিত আছে
আমার ওষ্ঠ, চিবুক, চোখে
সে বিষাদের ঘ্রাণ
তোমার উপলব্ধির থেকে বহুদূরে কাঠুরিয়া!
নীল নকশা
এই যে এখন এই মুহূর্তে
তুমি স্থির হয়ে বসে আছো
অথচ তোমার মস্তিষ্কে ধাবমান নীল নকশা
তোমার আভ্যন্তরিণ বোধকে সঞ্চালন করে
মৌনতায় আকৃষ্ট করে রেখেছে।
তোমার এই আহৃত সময় কি দিতে চাইছে
তোমার অস্তিত্বকে!
সুখ না দুঃখ?
কোন নকশার দিকে
ক্রমশ তুমি এগিয়ে যাচ্ছ !
যদি উত্তর হয় সুখ
তবে পুষ্পবৃষ্টি তোমাকে জানাবে অভিবাদন
থৈ থৈ জলে পূর্ণ হবে শান্তির কূপ।
যদি উত্তর হয় দুঃখ
তবে অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করে দাও
তোমার জমে থাকা বিষাদের বিষন্ন স্তূপ।