অনঞ্জনের কবিতা

অনঞ্জনের কবিতা

খুব দেখতে ইচ্ছে করে

কোনোদিন এই পথে এলে একটু দেখা করে যেও
নইলে অবশ্য স্নিগ্ধ ওই স্মৃতিগুলো আমি আকাশ থেকে
বেছে বেছে নিয়ে গায়ে মাখি, আদর করি, ঝগড়াও,
শুধু স্নিগ্ধই বা আর বলি কি করে, কাঁটা বেঁধানো
বেয়াদপ স্মৃতিও তো বড় কম নেই ডাকবাক্সে,
আজও ওই পুঁটুলি খুললে অভিমানের স্পষ্ট শব্দ
শুনতে পাই, সূর্য ডুবে গেলে ওদের আমি খুলি
একটা একটা করে, খুব শুকনো দিনেও বৃষ্টি ভিজি,
স্মৃতির অমরতায় আমি খুউব বিশ্বাস করি,
ওই স্মৃতিবিদ্ধতার মাঝেও আজ দেখতে ইচ্ছে করে
তন্বী বৃষ্টির উৎসব নশ্বরতায় চেপে কোথায় পৌঁছল?

শরীরে শরীর

শরীরে শরীর জুড়ে প্রেম হয় জেনেছে শরীর
শরীরে শরীর জুড়ে নিশীথিনী ভোর হয়ে ওঠে,
আজ তার শরীরের যত উদগ্রীব
অকারণে লাবণ্য হয়;
দরজা ভেঙে দিয়ে আজ, খোঁজ করে বিপুল বাতাস
একা ঘরে অনেক রাতে ঘেমে ওঠে চোখের তারা
কালকের গোলাপসখী আজ-বুঝি শরীর ছুঁয়ে
একফুঁয়ে ভেজায় আকাশ;
আর কি পড়ে থাকে তবে, জ্বলে উঠে নিভে যায় সোম
এ যে নশ্বর কারুকার্যে এক-বুক সাময়িক তেজ,
তারপর মধুর বিচ্ছেদ মধুরের সীমা পেরিয়ে
শরীরে শরীর দেওয়া শেষে কস্তূরী মিশে যায় মেঘে;
তবু-
শরীরে শরীর জুড়ে প্রেম হয় জেনেছে শরীর
শরীরে শরীর জুড়ে নিশীথিনী ভোর হয়ে ওঠে।

এ কোন শূন্যতা?

এই যে সহস্রাব্দের পর সহস্রাব্দ দুঃখ চেপে বসে আছ
কি লাভ হয়েছে?
পাতাল-প্রবেশে কি যমুনা-পাড়ে
এত যে চোখের জল, না দিয়েছে ছায়া, না আগুণ;
এর চেয়ে ভালো হত যদি বিদ্রোহ করতে,
কিম্বা অবজ্ঞা,
এমনকি নিষিদ্ধ জীবনেও প্রেম আসে, আসে প্রত্যাশা;
এইযে অঘোর দুপুরে একা ঘরে নিঃসঙ্গ সঙ্গীত
আর কাঁপা-কাঁপা বিশ্বাস
এরও মানে খুঁজে পাই।

তুমি আমায় বলবে শূন্যদৃষ্টিতে পাতালে প্রবেশ করতে করতে
শূন্যতার যে অর্থ তুমি খুঁজে পেয়েছিলে-
তাকেই কি রিক্ততা বলে?