শুভ্রাশ্রী মাইতির কবিতা
খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার
খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার পর্যন্ত বিছানো এই যে এঁটোকাঁটার জঙ্গল
এইটুকুই এখন আমার ঘর, আমার পৃথিবী…
জানালার নীল পর্দায় শাসন করে বেঁধে রাখা দুষ্টু মেঘছানাগুলোর
কাজল চোখে চোখ পেতেছি তাই বহুদিন।
মেঝের সবুজ কার্পেটে নক্ষত্রকুচির মতো ছড়িয়ে দিয়েছি
মুঠো মুঠো রঙীন ঘাসফুল, আনন্দের…
ভোরের নরম আলোর মতো অনন্ত অবসর মেখে গড়িয়ে নিয়েছি নরম স্নেহকোলে।
আমার বুকের ওপর খোলা বই-এর অফুরন্ত পাতা থেকে
এইমাত্র উঁকি দিয়ে গেল অপু আর দুর্গা, বনকলমী আর ভাঁটফুলের গন্ধ মেখে
রবিশঙ্করের সেতারের সুরে সুরে তারা আমাকে হাতে ধরে
ঠিক নিয়ে যাবে কাশবন আর উলুখাগড়ার মাঠ পেরিয়ে
দিগন্তরেখার একেবারে পাশে, রেলগাড়ী দেখাতে, জীবনের…
সমস্ত তেল-হলুদের কাহিনীকে বুকে চেপে হাত রাখি ওদের হাতে স্হির বিশ্বাসে…
ভালোবাসা
লাজুক হাসি হেসে সদ্যফোটা গোলাপী ফুলটা
ফিসফিস স্বরে ‘ভালোবাস আমায়’ বলে প্রশ্ন করতেই
একটা দস্যি যুবক মৌমাছি মাতাল ভালোবাসায়
ফুলের স্তন থেকে শুষে নিল অমৃতের শেষ বিন্দুটুকু।
বসন্তবাতাসে কেঁপে কেঁপে উঠল নীরব পাতা
কোন্ সে অজানা আশঙ্কায়, কে জানে!
রূপকথার এই নরম গল্পটি শেষ হতে না হতেই
নদীজলের মতো বয়ে গেছে দিন আর রাতের বিবর্ণ মিছিল।
কত রাক্ষস এল আর গেল, হাতীশালে হাতি মরল, ঘোড়াশালে ঘোড়া।
নটেগাছটা পাতাসহ মুড়িয়ে গেল কতবার…
ফুল এখন সস্তায় ঘর নিয়েছে নিষিদ্ধ পাড়ার দুনম্বর গলিতে
তার গায়ে এখন সময়ের শীত শীত গন্ধ…
হাজার মৌমাছি মধুর লোভে রাতদিন গুঞ্জন তোলে তার ঘরে
প্রেমিক দস্যি মৌমাছিটা হারিয়ে গেছে কবেই
তবু চলটা ওঠা দর্পণটা কোন অলস দুপুরে ভালোবাসার কথা শুধালেই
বিষণ্ণ পরাগস্বরে ফিসফিসিয়ে ওঠে ফুল…
‘ভালোবাসলে ভোলা কি যায় কোনদিন !’