মাসুদুল হকের কবিতা
বাবা
বাবা এক জাদুকর
অভাবের পাতায়
উপযোগের লেখচিত্র এঁকে এঁকে
সংসার-যাপনে ক্লাউন সেজেছিলেন
আর আমাদের কৈশোরের
প্রতিটি রাতে
সূর্যমুখী ভোরের স্বপ্ন দেখিয়ে
ঘুম পাড়িয়ে দিতেন
জাদুকর ও শৈশবের বাড়ি
আমাদের শৈশবের বাড়িটা খুন হয়ে গেছে
জামা খোলা লাল ইট, বিপর্যস্ত সবুজ দরোজা
কাঠের হাড় বেরিয়ে গেছে সবুজে
লাল রোয়াকে তার ধূসর ছায়া
আমি দেখি সবুজের ভেতর গলগলিয়ে রক্ত ঝরছে
আমাদের শৈশবের বাড়িটা খুন হয়ে গেছে
যে বৃদ্ধটা দুপুর হয়ে বসে আছে রোয়াকে
ভারী কাঁচে রোদ খুঁজছে
সে কিন্তু এক জাদুকর আমাদের শৈশবে
তার জাদুর ছোঁয়ায় আমরাও জেগেছিলাম
আমাদের পরিযায়ী পাখা মেলবার আগে
তার আঙুল ছুঁয়ে লিখেছিলাম প্রথম অক্ষর
তারই টাঙিয়ে দেয়া পটে দেখেছি আকাশ
তেপান্তরের মাঠ, বৃষ্টি ভেজা বকুল
আজ তাকে দেখি দুপুর হয়ে বসে আছে
খুন হয়ে যাওয়া আমাদের শৈশবের খেলাঘরে
চিলমারী
উলুখাগড়ার বনে ছায়ারোদে উন্মুক্ত আমার আকাশ
বাতাসে পাতার ফিসফিসানি
সন্দেহের নিঃশ্বাসে
ভরে ওঠে বুকের পাঁজর
সরীসৃপ ভয়ে উতল আমার বিশ্বাসী পা
তবু চেয়ে আছি রহস্যময়ী চিলমারীর দিকে…
শঙ্খ ঘোষ: সৃষ্টি আর নির্মাণ
তোমাকে আচ্ছন্ন ক’রে রামধনু নির্জন সকাল মৃত্যুপালঙ্কে তুলে নিল তোমার পঙক্তি; তোমার দিনগুলি রাতগুলি
ছন্দের ভেতরে এতো অন্ধকার । বালকবেলায়, চিত্তপ্রিয় ঘোষ তুমি পদ্মারচরে দেখেছিলে শামুক
ছোট্ট একটা স্কুলে–ধ্বনিবিহীন ছন্দ নিয়ে চলে ধীরে…
আমরা কখনো শঙ্খের জীবন দেখিনি; তীব্র তমোহর ধ্বনির আবাহনে বুঝেছি সমুদ্রের অন্যরকম ভাষাছবি।
বাংলা কবিতা, যখন মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
তুমি শঙ্খ বাজাও ধ্বনি ছন্দের সমাধিক্ষেত্র জুড়ে!