প্রবীর রঞ্জন মণ্ডলের কবিতা
বুকের পাঁজরে বসে
রোদ্দুরকে ছুঁতে গেলে বড্ড ভয় হয়
সে যদি ছুঁয়ে ফেলে আমাকে
তবে সে তো আমার শরীরে বইয়ে দেবে উষ্ণ স্রোত!
বড়ো ভয় হয়!
না জানি কখন অজাতশত্রু এসে
বুকের পাঁজরে বসে হাওয়া খেতে চাইবে!
আর স্রোতহীন নদীকে টেনে নিতে চাইবে
তার দাবাগ্নির বুকে।
এতদিনে এক অস্তিত্বের সংকট
পড়ে খাবি খাব দিনরাত ;
তারচেয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি বাদ রেখে
নিজেরই সৃষ্ট স্রোতে আলো হয়ে বসে থাকি।
একদিন আমি অজাতশত্রু হবো
বুকের পাঁজরে হাওয়া খেতে নয়
নদীকে দাবাগ্নির বুকে ছুঁড়ে দিতে নয়;
আমাকে আমার নিজেকে জানান দিতে
আমি টিঁকে আছি এখনো।
কাছে যেতে
হাট করে খুলনা জানালা ভুল দিকে
ওদিকে মেঘে জল ভরা আছে,হয়নি তা ফিকে।
জলে জলে ভিজে যাবে ঘর
আপন পর না বেছে সব ভিজে যাবে।
জলেদের মাঝে খুঁজে পাবে জলবিছে
তোমার সামনে পিছে;
একাএকি এসে কামড়ে দেবে,এই ভেবে ভেবে
হয়োনা সারা,সারা পাড়া জেগে যাবে।
তোমার মতোই জেনো জানালা খুলে দেবে
তুমি কাকে নেবে?
জল নেবে?না জলের বুকে ফুল নেবে?
ফুলের বুকে দংশান কীট আছে।
ঘরের মাঝে যদি থাকে ফিটের ব্যামো
তবে ধ্যাষ্টামো না করে জানালা বন্ধ করো
তারপরে দেখা যাবে। মেঘেরা উড়ে গেলে
নীল নীল প্রজাপতি উড়ে এসে
ডানা ঝেড়ে রেখে যাবে কিছুক্ষণ ;
করব না পণ।
এখন তাই দেওয়াল জুড়ে ছবি আঁকি
ফুল আর বিলকুল তোমার মতো।
আসুক আসুক প্রজাপতি আসুক
বাগানের আশপাশ জুড়ে আছে যত;
আমিও প্রজাপতি হবো তোমার কাছে যেতে।
দহন জ্বালা
আলো শুঁকতে শুঁকতে
ছায়াটা এগিয়ে এলো আমার কাছে ;
দেহ দিয়ে আঁটকে রাখতে পারি
আর কতটুকুইবা আমার চৌহদ্দিতে!
অবয়বের আকৃতির তুলনায় দীর্ঘায়িত হলে
মানুষ নিজে গর্বিত হয় ঠিকই
পরক্ষণেই আত্মশ্লাঘায় ভোগে।
তারপর ধীরে ধীরে ছায়া জুড়ে
একটা বৃহৎ আঁধার নামে ;
তখন গভীর আঁধার একাকার করে
একটি আলোর প্রদীপ জ্বালি
আর দহন জ্বালায় পুড়ে পুড়ে খাক্ হই।
অলীক স্বপ্ন সুখ
ছন্দহীন একটা বাঁকাচোরা জীবন
ঘরের বারান্দার এপার ওপার,
ফাঁস কাটতে কাটতে এগিয়ে চলেছে।
সুদীর্ঘ ফেলে আসা উঁচু নীচু বন্ধুর সমতল সব পথ
চাওয়া পাওয়া, দেনা পাওনার হিসেবের খাতায়
অস্পষ্ট ঝাপসায় কিছু কিছু মুখ ভেসে আসে
আর ভেসে আসে অলীক কিছু স্বপ্ন সুখ।
দিন কেটে যায়
এই বারান্দার ভাঙাচোরা কার্নিশে
জমে থাকা ধুলোবালির আস্তরন
তার বুকে গচ্ছিত অজস্র লুকোচাপা
চাপে চাপে পড়ে থাকে যুগান্তর।
কত কথা ভাবনায় ভাসায়
দিগন্ত অতিক্রম না করে একদিন ফিরে আসে
তারপর একদিন ঠিক দিগন্ত পেরিয়ে যাওয়ার
ধূসর ডানা বুকে লুকিয়ে রাখে।
জলের সারণি
জলের সারণি খোঁজে
গলায় পিপাসা জাগা ক্ষুধার্ত সৈনিক
রাত কাকের ডানার গভীরে
ফুটে ওঠে একফোঁটা অমৃত আকর
গাছের শিকড়ের মতো দুটি চোখ
গভীর তলদেশে খুঁজে চলে
অমৃতকুম্ভের সন্ধান
মরুকল্প লোকে ফুটে ওঠে
একফোঁটা জলের ছবি
কবিতার মতো জেগে ওঠে বুকে।