সুমিত্রা পালের কবিতা

সুমিত্রা পালের কবিতা

আশ্বাস

ইমনের রোমান্টিকতাকে ছুঁতে চেয়েছি
কিন্তু শিবরঞ্জনী’র দীর্ঘ আলাপের মত
বুকের পাঁজরে গেঁথে বসে প্রতিটি না-পাওয়া।
বিন্দু বিন্দু স্বেদ জমে সারা মুখমণ্ডলে
চোখের কোণায় চিক্ চিক্ অশ্রুকণা,
জীবনের অলিখিত চুক্তিগুলি এসে জমে সন্ধিপ্রকাশে।

অপ্রাপ্তি আছে বলেই
চাওয়ার আকাশে শ্রাবণী পূর্ণিমার চাঁদ
কদম্বকাননে রাসলীলা।

দূর থেকে ভেসে আসা অশ্বক্ষুরের ধ্বনি
এখনও বদলে দিতে পারে
আমার গোটা জীবনটা।

জন্মদাতা

ভালোবেসে গাছে গাছে
প্রতিদিন তিনি জল দিয়েছেন
প্রয়োজন মতো মাটি ও সার।

ফুলগুলি তো আজও ফোটে দেখি
তিনি নেই;

ফুল হয়ে প্রতিদিন জন্ম নেন
আমাদের জন্মদাতা।

সমীকরণ

জমাখরচের হিসেবের খাতায়
ভারসাম্য যখন টালমাটাল
অনৃতভাষণ ঘটায় ছন্দপতন।
উন্মুক্ত বাতায়ন,তবু ঘুরপাক খায়
না মেলানো সমীকরণ,
প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্বাসে একটু একটু করে
জমে উঠতে চায় অবিশ্বাসের গন্ধমাদন…

ভারবাহী হয়ে ওঠার আগেই
হিরণ্ময় ন্যায় দণ্ড তুলে নিয়েছি হাতে,
দক্ষ বিচারকের মত করি সুবিচার-
জীবনখাতায় ফুটে ওঠে তাই
সাতজন্মের সংসার।