রানা জামানের কবিতা

রানা জামানের কবিতা

ধারাপাত হাতে আসে না কখনো

বৃত্তের বাইরে জীবনের রঙে
মিশে দূষণের পশ্চিমিয় ছাপ

চলার পথের গর্তগুলো হাস্যমুখর
ভরপেট খাদ্য পেয়ে নিত্য
নিষিদ্ধ লোবানে হাবুডুবু থেকে
অদ্ভূত অভ্যস্ত গর্ভপাতে

খেয়ে মুখ মুছে ফেলার মতোই
শয্যাক্রিয়া শেষে
প্রকাশ্যে অধর মেহন থোড়াই
কেয়ার বিরক্ত চক্ষুগুলো

কোন কোন চোখ কি হয় না
লোভাতুর এজাতীয় দৃশ্যে

ধর্মের বাঁধন ছিড়ে স্বেচ্ছাচার
শিল্পীর তুলিতে জীবন-ক্যানভাস

সোনায় সোহাগা হয়ে আছে ধন
বেসুমার রেনেসাঁর ছাপে

বাবা-মায় ভালোবাসা কচুপাতা
জল সময়ে টুপুস

বাবা-মা’র বাকি জীবন কুকুর বা
বেড়ালে খুঁজে সন্তানের ছায়া

হিসেব নিকেশ হবে কোন ঢঙে
ধারাপাত হাতে আসে না কখনো।

ভুলে যায়

যেতে চায় নিত্য নদীর ওপারে
স্রোতের হিংস্রতা বিক্রমে গুড়িয়ে
যাবেই এমন পণ থাকে
ছ্যাকা খাওয়া প্রেমিকের
প্রেমিকার স্মৃতি কচ্ছপের জেদ হয়ে
বীজ বুনে খরগোশ গতির
ওপারের শঙ্কা প্রকৃতি উড়ান ছু হয়ে
লাগায় অভিযানে নয়া মাত্রা
মনের আকুলি বিকুলি পালক লেগে অনুরাগে
ভুলে হিসাবের কড়া ক্রান্তি
ফরহাদের পাহাড় কাটার পরিশ্রম
অন্তে মিথ্যে খবরের মৃত্যু
ওপারে বিরাগ খর্গ হাতে লাল চোখ
দেখানোয় সিদ্ধহস্ত হোক যতই না
প্রেমিকের যাত্রা থাকে দৃঢ় নোনা জল
অশ্রু ঝরে বানায় বিমূর্ত প্রচ্ছায়া গত সঙ্গমের
জলধির রাগ পায়ে দলে বিজয়ের
ডঙ্কা হাতে সন্মুখ সমরে
ভুলে যায় ময়না অপরের বাহুলগ্না
হয়ে গেছে অনেক আগেই
ভুলে যায় বিশ্ব বিপরীতে চলে গেছে
প্রেমিকার কক্ষ বিচ্যুতির সাথে
ভুলে যায় আইন এক্ষেত্রে
আপন গতিতে চলে খুব সহজেই
ভুলে যায় আগাপাশতলা ভুলে যায়।

সাধারণ থাকি না কেনো সবাই

সাধারণ থাকি সাধারণ-ই থাকি না কেনো
জিলাপির রসে কুটিলের ঘরকন্না বেরসিক

তেল ছেড়ে দিলে খাবি খায় জলে
নটে গাছ কেঁপে কেঁপে হামাগুড়ি চলে লক্ষ্যস্থলে
সাধারণে জলপাই-এর রেশ খোঁজে পান্তা-ঝালে

মাকালের মোহে আটকে গেলে জল
ঘোলা গাধার চরিত্রে
সাধারণ থেকে আরো সাধারণ ধরতে
প্যাঁচালো রাস্তায় থাকি হাবুডুবু
সাধারণে ঢুকে থাকে ক্লেদাক্তের নাড়িভুড়ি
অন্ত্রে দূর্গন্ধ বাগিয়ে
প্যাঁচের মর্মার্থ পেতে আঁকাবাঁকা দরিয়াতে
নামতে হয় না এখন।

সোজাপথ বাঁকাপথ

সোজা পথে থাকে অদৃশ্য বাঁকের হিসাব বিহীন অস্তিত্বের চাঁই
প্রতিপদে শঙ্কা ফণা তুলে থাকে হিংস্রতায় খুব
দৃঢ়তায় ঘুণ ঢুকে থাকলে ভড়কে গিয়ে রণে ভঙ্গ
দেবার সমূহ সম্ভাবনা হাসে
স্বপ্নলোক কাছে আসে দূরে যায় খেলে ছুপাছুপি
প্রত্যয়ে ইস্পাত লেগে থাকলে ছায়াশত্রু
প্রতিপদে হতে থাকে পিষ্ট
কচ্ছপ চরিত্র ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে
অব্যাহত রাখে অভিযান বিজয় নিশ্চিত না হওয়া তক
আঁকাবাঁকা পথ মানে পুরোপুরি শ্বাপদসংকুল
ফাঁকে-টাকে থাকে আলোর ঝিলিক
রণ-প্রস্তুতির ঘাটতি না থাকলে তো

জয়ের কিঞ্চিত সম্ভাবনা থাকে ভীষণ ঘায়েল হয়ে শেষতক
সোজাপথ কিংবা বাঁকাপথ কুসুমাস্তীর্ণ না কোন রুগ্ন ক্ষণে।

অর্থমন্ত্রী

আমাদের সংসারের অর্থমন্ত্রী
রাবিশের খৈ কখনো ফুটান না
অর্থমন্ত্রী নিয়মিত বাজারের
গলিঘুচি ঘেটে ঘেমে বাড়ি আসে
প্রতিদিন ছা-পোষা অর্থের গা
ক্রমান্বয়ে হতে থাকে ক্লিশে
বাজারের প্রতিবাঁকে পদ্মাসনে
থাকা জোঁক কিভাবে যে
রক্ত টানে তা ছা-পোষা
সংসারের অর্থমন্ত্রী জানে

হিসাবে টাকার অংক বৃদ্ধি
হয়ে যত লম্বা হতে থাকে
তত কমে দ্রব্যের পরিমাণ
টাকা আর পণ্যের এ
পুনঃপৌণিক খেলায় নাভিশ্বাস
খোঁজে ফৃ ফ্রাইডে ক্লিনিক

বাজেটের ঘোষণায় চিত্র
সত্যমিথ্যা যা-ই থাক
জয় অর্থমন্ত্রীর বিজয়

জনতার স্বপ্নচূড়া ভেঙে
ভ্যাট বিকাশের নৈপুণ্য হিরন্ময়

আমার দেশের অর্থমন্ত্রী
রাবিশের যাদু অব্যাহত রেখে
খেলে যাক বাজেটের খেলা।