গৌরাঙ্গ মোহান্তের কবিতা

শ্রীপর্ণের স্পন্দন
নদীতীরস্থ জুঁইকুঁড়ির ভেতর থেকে কামনার কম্পাস খুলে নিয়ে পেছনে যেতে যেতে কোনো বাকমগ্ন শিক্ষকের ক্লাসে ঢুকে পড়ি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী বেরিয়ে যাবার পর ক্লাসে যে থেকে যায় তাকে আমি চিনি; ব্রিটিশ কাউন্সিলের সবুজ লনে বসে আমরা একদিন ঘাসের শেকড়ে কবিতার আরক ঢেলে দিয়েছিলাম। অকস্মাৎ তার শুভ্র কুর্তা বাতাসে মিশে যায়; আলেকসন্দ্রা-জ্যাক চ্যান্ট্রনের আঁকা ড্যানের স্তনে শ্রীপর্ণের স্পন্দন জেগে ওঠে। সুবর্ণ বৃষ্টিপাতের আগে অনুধাবন করি উত্তেজনার উদ্বৃত্তি আনন্দকে হ্রস্বতর করে।
ডিব্রুগড়ে সিমর্গ
ভরলির জলে তামাটে পালকের অন্ধকার ধুয়ে উড়ে যেতে যেতে ডিব্রুগড়ে নেমে পড়ে সিমর্গ; কবির গোপন দীর্ঘশ্বাস থেকে বিচ্ছুরিত সাক্য মনাস্টেরির সুবর্ণ-অক্ষর-উজ্জ্বলতা তার চিন্তার ভেতর উসকে দেয় দ্বন্দ্বতত্ত্ব, স্বর্ণচাঁপার রঙে রঞ্জিত হয় তার পালক। উজ্জ্বলতার নিষ্কর্ষ অনুধাবনের জন্য হুপো পাখির দল সাতটি উপত্যকা পেরিয়ে আসে; লুক্রিশাস জীবনকে অনালোকের ভেতর দীর্ঘ সংগ্রাম বলে অভিহিত করেছেন–এ কথা তারা জানে এবং বিশ্বাস করে শব্দের উদ্ভাস সংগ্রামকে বোধগম্য করে তোলে।
সোনালু ফুল
জ্যোৎস্নারাতে অনার্য অরণ্যচারিণীর নৃত্যে সোনালু বৃক্ষ কর্ণিকাপ্রসূ হয়ে ওঠে। পথের দুধারে শটিপাতা ছুঁয়ে সোনালু ফুলের দিকে তাকিয়েছি অনেক বার; এর দোলকপুঞ্জ যে তারঙ্গিক পথ সৃষ্টি করে সিমোসার পক্ষে তা অনুগম্য নয়। সোনালু উৎসবে মেতে ওঠার জন্য আমাদের বিদ্যুৎহীন বাড়িতে এক বালিকা এসেছিলো। সোনালু পাতার মুখোশ থেকে কালিদাসের স্বর ভেসে আসে, ‘আজ গন্ধহীন কর্ণিকার কোনো বেদনা সৃষ্টি করে না।’ বালিকার শরীরের সৌরভে সোনালু অনুরঞ্জিত হয়ে ওঠে। আমাদের বাড়ির সম্মুখবর্তী সোনালু ফুল সৌগন্ধ্যে পূর্ণ।