কানুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
সরিসৃপ
মন পড়ে আছে চিলেকোঠায়
এক ইঞ্চি পুরু ধূলোর বরাসনে।
দরজার ছিদ্র দিয়ে হামা দিচ্ছি
ভিতরে প্রবেশের প্রত্যাশায়।
শরীরের নরম আঁশ
চামড়া ঠেলে বেড়িয়ে আসে আর্তনাদ নিয়ে।
তুমি তমসাবৃত হয়ে
বন্ধ ঘরে অপেক্ষায় কত কাল!
শ্রাবণের একবজ্ঞা চাঁদ
দিয়ে যায় লন্ডভন্ড ঝড়ের পূর্বাভাস।
আমি শীতঘুমে যাবার আগে
আরও এক প্রস্থ তুফান তুলতে চাই।
চিত্রকর
একটা ফুটফুটে ক্যানভাস
মেঘ ছেঁড়া বুনন তুলি
কয়েক ফোঁটা লাল নীল চোখের জল,
তোমার গভীর সমুদ্রের
পালতোলা জাহাজের ছবি-
এ টুকু কি যথেষ্ট নয়?
বাকি যে টুকু হৃদয়ের গল্প,
তার জন্য অফুরান স্বপ্ন- কল্পনা-
চিত্রকরের স্টুডিয়োর দেওয়াল
প্রতিদিন বিমূর্ত আর্তনাদে ভরে ওঠে।
বনপথ
জল খুঁটে খাওয়া বাগান বাড়ির উঠোন থেকে
ছড়িয়ে পড়ছে কাঠচাঁপার বংশ
হাওয়ার শরীরে পুরানো অভিশাপের দাগ
মেঠো চাঁদ হাতছানি দেয় ছাইচাপা মেঘের স্তূপ থেকে
অনিমেষ চেয়ে আছে
রাত্রির শেষ প্রহরের চোখে চোখ রেখে
বনপথ ফাঁকি দিয়ে ছোটে উলঙ্গ সনেট।
ইস্কুল বাড়ি
মাটির তলায় ইস্কুলবাড়ি
আটমাস ঝাপসা ক্লাসঘর
মাস্টার ডুবুরি সেজে রত্ন খোঁজে
নীলবোর্ড ভরে ওঠে
যোগ বিয়োগ গুনিতক
লগবুক
আর মাহাত পাড়ার
বারোমাস্যার গল্প।