অয়ন ঘোষের কবিতা
আমি
অস্তিত্ব সংক্রান্ত একটা প্রবীণ প্রশ্ন
দ্বিখণ্ডিত রাস্তার সামনে
নীচুমুখ দাঁড়িয়ে দাঁতে নখ কাটছে। এরই নেপথ্যে
একলা পাপিয়া টানা ডেকে যায় বুক ফাটিয়ে।
বিরুদ্ধ স্বপ্ন বেয়ে ঘুম নেমে এলো
কিশোরী রাতের ভালে, পালা সাঙ্গ হতে ফিরল রসিকজন। চন্দ্রাহত নগর বা নাগর দুই-ই মুগ্ধ
বিষন্ন রূপটান বৈভব নামক শব্দ সরিয়ে রাখল আলগোছে
বাতায়নে ক্লান্ত দীপাধার, বাতাস মূলত অলৌকিক।
পাহাড়ের শানুদেশে একলা দেবালয়, ততোধিক
একলা দেবতা শয়ন আরতির প্রতীক্ষায়
সহসা ঘণ্টা বেজে উঠল,পঞ্চইন্দ্রিয় নাচে প্রদীপ শিখায়
ঘুমের অতলে হারিয়ে যেতে যেতে, দেবতা দেখলেন
এক বিরাট আমি সব প্রশ্নের উর্দ্ধে স্থির
অবয়ব, লিঙ্গ ও অস্তিত্বহীন।
চালচিত্র
স্নানের জন্য জল স্পর্শ করতেই প্রতিবিম্বে
শুরু হলো কম্পন, উচাটন ঢেউয়ের
গভীর নিয়োজনে বিস্মৃতি ক্রমশঃ ক্লান্ত
তার চেয়ে এসো মন রাখা যাক
দিকচক্রবালে উল্লসিত ঘর খুঁজে পাওয়া ডানা জোড়ায়
কিংবা অনন্ত বিন্দু যেখানে হারিয়েছে সাধকের অহং
দৃষ্টি নামিয়ে আনলে দেখা যাবে হতোদ্যম বোকা
আয়ুধ ব্যস্ত নিজেকেই কাটতে, প্রাজ্ঞ শমীবৃক্ষের নিচে
আরো বেশ কিছু সিঁড়ি অবতরণ পরে
চেনা বাতায়ন, অপেক্ষমান কুর্শি। অতি চেনা ইশারা ইঙ্গিত বুদ হয়ে আছে হিং ফোরনের গন্ধে
গন্ধ সাবান, সদ্যস্নাত জলের ফোঁটা, যুগল ছবি
নির্বানের পক্ষে আপাতত এই যথেষ্ট
বৃষ্টির পরে মেঘের ভূমিকা মনে রাখে না আকাশ
হোক না সে আষাঢ়ের প্রথম দিন।
মোক্ষ
উর্দ্ধাচারে ঘুম স্থির, দর্পণ মুখোশে ক্লান্ত
প্রতিবিম্ব, নশ্বর ছিল সেই নখর আয়োজন।
ডাক স্থিতধী। পল্লবিত কুসুমিত ভুল বিভাজন
অন্তের আগে সর্বনামের আখর আগুন
শস্য লগ্নে প্রতিষ্ঠিত বীজ, গর্ভমতী ধরিত্রী
সুন্দর ও শাশ্বত।
পরিত্রাণ ভুল শব্দ বারবার, সময়ের দেহ
চক্রাকার কালের কথায়। আদিতেই অন্তের লয়
বিরাচারী প্রস্তুত, প্রস্তুত অগ্নিলেখ
সোহাগের পাশে জাগে নিকষিত হেম। ভাসাও
মোক্ষ-গান থিতু হোক নির্বাণ, জলের বিছানায়
পঞ্চভূতের ঘর সংসার কাঁপে বিধুর মায়ায়।