হামিদুল ইসলামের কবিতা
অস্তিত্ব
বয়েসের জলছাপ আঁকি ভাঙা দেয়ালের ভেতর
বয়েস বাড়ছে না কি কমছে বোঝা মুস্কিল
চারদিকে অন্ধকার
অন্ধকার গর্তে এখন সাপ
গিলে খায় আমার সমস্ত অস্তিত্ব। আমার সাবেকি চেতনাবোধ
ভোরের খোলস ফাটা সূর্যের গায়ে লিখে রাখি
জীবনের নাম
মস্ত সে মহীরুহ বেড়ে ওঠে আকাশ বরাবর
চেতনায় জাহ্নবী উৎসমুখ
করিমগঞ্জে এখনো দাঁড়িয়ে আছে আপ ট্রেন
ঝটপট উঠে পড়ি
সিটের উপর ঘুমিয়ে আছে হাজারো কঙ্কাল
আমরাও কঙ্কাল হয়ে পড়ি অস্তিত্বহীনতায়
ঈশ্বর
অনিকেত বৃষ্টির শব্দ শুনি এখন
ছাদের উপর আড়া আড়া জল। ফুল ফুটলে যেমন হয় জোনাক রাত
আমার আঙুলে জলছবি
বৃষ্টি !
তেতো গানের রসাক্ত কলেবরে জেগে ওঠে আমার নিকষ শৈশব
নিশানা উড়ছে হাওয়ার স্রোতে
ক্লান্ত দুপুর ঘুমিয়ে পড়েছে ইতিহাসের পাতা থেকে শব্দক্ষেতে
ঘরপোড়া মেঘে বৃষ্টির আহ্বান প্রতিদিন
নেশাচরী জন্ম সুবাস
স্বপ্নপরীরা বগলের ঘামে স্নান সারে নৈর্ঋত বিকেল
ঈশ্বরের শরীরে ভজন সঙ্গীত। আমাদের শ্বাসে প্রশ্বাসে ঈশ্বর
ঈশ্বর ঈশ্বর গন্ধ চারদিক
তবু বিভেদের কলম লেখে মিথ্যে ইতিহাস। হিংস্র কথামালা
আবার কুরুক্ষেত্র
হাসি কান্না কান্না হাসিতে ভরে ওঠে কপালের সিঁদুর
নশ্বরতা
রাত শেষে পাখিরা জেগে ওঠে
বিমূর্ত শব্দে ফেরে নশ্বরতা
জলের স্থাপত্য ভেঙে দেখি মৃত্যুর কোলাহল ।।
এখন শরীর ছুঁয়ে যায় নগ্ন অন্তর্বাস
ঝরাপাতায় বেশুমার শোকের জলছবি
ধীবর স্নান ।।
কতোকাল ধরে গুছিয়ে রেখেছি এক টুকরো মেঘ
স্মৃতির ঘাটে ফিরে আসে চিতল হরিণ
এলোমেলো রাত্রি শ্বাস ।।
আমি প্রতিদিন কাঁধে করে বয়ে নিয়ে চলি
আমার নিজের লাশ ।।