কুমকুম বৈদ্য’র কবিতা
সময় টা ফাল্গুন
পাশের ফ্ল্যাট তিনতলার চার নম্বর রান্নাঘরের আলোটা তেরচা করে এসে পড়ে বারান্দাতে
রাত বারোটার পরে আমি বসে থাকি সাথে অলস চেয়ার
রাত ক্রমে গাঢ়তর রাত, নিবে যায় সব আলো যে যার বাড়িতে
শুধু গলির মুখে জ্বলে নিয়নের আলো দুএকটা রিকশা অথবা অটোর জন্য
গ্রীষ্মের শুরুতে শিরশিরে বাতাস মনে করিয়ে দিয়ে যায় সময়টা ফাল্গুন
কি জানি , এখনো কি তোমার হাতে আছে সময়
দোল খেলবে বলে গোটা এক সপ্তাহ প্রস্তুতি নিতে জ্যোতির্ময়
মনে আছে শেষ এক ফাগুন দোলের দিনে, এক মুঠো গোলাপী আবির হাতে দিয়ে
বলেছিলে বাঁচা যেন যাচ্ছে না আর, তারপর আমরা কেউ ই আর আমাদের খবর রাখি নি
স্মৃতি আর দারিদ্র তোমাকে পুড়িয়ে দিয়েছে বারংবার
আমিতো বরাবরই নীরব, তার থেকে বোবা হলে হয়ত খুঁজে পেতে আমার উচ্ছ্বাসের প্রকাশ
আমার সেই সাধের হারমোনিয়াম এখনো অলস দুপুরে রোদে দিয়ে ঝেড়ে মুছে তুলে রাখি
আমি কেমন দিনে দিনে কুনো ব্যাঙ হয়ে যাচ্ছি ,বারন্দা আর এই আরাম চেয়ার
ভাবি বুড়ি হবার আগে ঠিক এক দোলের দিন রং মেখে দুজনে বেড়াতে বেরবো কলকাতায়
আমি বাম দিকে চলি
১
চাষী ভদ্রলোক বললেন : সব সময় কেন আমাদেরই ভাতে পড়বে টান
গেরস্ত রবিরারের মাংস ভাত খেয়ে ঢেকুর তুলে ঢুলু ঢুলু চোখে টিভিতে খবর দেখছেন
শীতের বাতাসে নলেন গুড়ের গন্ধ
রাজনীতি এখন লাল থেকে নীল হয়ে গেরুয়া রঙের মিছিলে
তরুন পরিচালক একরাশ হাসি হেসে বলে গলেন হরর আর প্রেমই তার পছন্দ
2
আমি যখন সন্ধ্যা বেলার তিতির পাখি
গলায় সেনাবাহিনীর প্যারেডের গান
বেসুরো গলায় গলা মেলায় পাড়ার রকে বসে সিটি দেওয়া বখাটে ছেলে
ওরা সব বেকারের দল গত আট কিংবা দশ বছরে আটকে গেছে সময়
তবুও ওরা আত্মহত্যা করেনি,সব হতাশা উড়িয়ে দেয় চায়ের ধোঁয়া
ওর মধ্যে যেটা লম্বা ঢ্যাঙা, আজও খোঁজে প্রেয়সীর বাড়ির গলি
ঘণ্টা খানেক কিম্বা ঘণ্টা দুয়ের নগদ প্রেমে আজকাল আর ওর মন ভরে না
খালি পেটে আজকাল আর কবিতাও আসে না
ওর মা আর বোন দিনরাত টিভিতে ঘ্যানঘ্যানে সিরিয়াল দেখে
আর বেটে বিশে কিছুদিন আগেও সিনেমা র টিকিট ব্ল্যাক করে দিব্বি রোজগার করত
মাল্টিপ্লেক্স আর তারপর মহামারী দুজনে মিলে ওর পকেট কেটেছে
ও তাই এখন রোজ সকালে বেরিয়ে পড়ে গোটা কলকাতা কিনতে
ভাবছি ওদের সব নিরাশা গুলো খামে পুরে পাঠিয়ে দেব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে
আর আশা গুলো টাইম কলের জলে ধুয়ে পুঁতে দেব
বাঘাযতীন বস্তির বাছাই করা দশ বছর বয়েসি ছেলেদের নরম মনে
দ্বন্দ্বী
আমার ভাগে গোলা ভরা ধান
রাত চরা জ্যোৎস্না
চোখ জোড়া জারুলের ফুল
আর এক চিমটি ভালোবাসা
স্মৃতিতে টান দেবার বিচ্ছিরি অভ্যাস
কথা ছিল
পরিযায়ী পাখিদের মতো খুঁজবো না বসন্ত
ঝলসানো চাঁদের টিপ কপালে
সিঁথিতে দেব চন্দনের লাল
অথচ
এখন দরকার ছিল একমুঠো শীতার্ত রোদ্দুর
দিনের কাজের শেষে মুছে ফেলা টাটকা ঘাম
আর কিছু প্রতিশোধ মূলক বিরহ
আজ বৃষ্টির রাত
আজ বৃষ্টির রাত
মেঘ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছি জলীয়বাষ্প
তিন দিন ধরে জমা অভিমান দিয়ে ঘনীভূত
একটা ফোঁটা টুপ
টুপ টুপ টুপ
ঝমঝমিয়ে নামবে এবার
চোখ তুলে দেখি
এক মুখ গজ দাঁত হাসি
ছোট্ট একটা কাগজের নৌকা বাড়িয়ে দিচ্ছে আমার দিকে