অভীককুমার দে’র কবিতা

অভীককুমার দে’র কবিতা

জলপতাকার শব্দ

তারপর আবার শ্বাস নিতে হবে, তাই
নিশ্চিন্তে ছেড়ে দিতে হয় বুকের বাতাস

সাময়িক জমিয়ে রাখি আড্ডা,
চাপ বেড়ে গেলে
জলপতাকার শব্দ শুনি-

ভেতর খুঁড়ে
চাঁই ভাঙে
নিশ্চিত ঘুমের জন্য
নদীটি…

ঠিক এখান থেকেই-
চোখের মালভূমি,
হাওয়াঘরের আপাত- আলোয়
শ্বাস নিতে হবে, যদিও
আকাশ এক

অজ্ঞাত শরীর,
বিপদসীমা টপকাতে পারে না।

নীলিকার প্রতি

তুমি গভীরতার মতোই স্থির,
অনুভবের অতলে ডুবে থাকা জল
আমি মাছের মতোই
ভেসে আছি শূন্য বুকে।

তুমি বাতাসের মতোই সচেতন,
পাখির ঝরে পড়া পালক জানে-
দুলে দুলেই নেমে আসতে হয় মাটির কাছে
ভেঙে যাবার কারণ থাকে না কোনো।

তুমি আকাশের মুখে রঙের হাসি
মিশে আছো শরীরবিহীন গায়ে
আনুমানিক চেনা হয়ে যায় পথ
পায়ে পায়ে, শূন্য আমার ঘরে।

তুমি আলোর প্রতিফলন, ছবি
অদৃশ্য থেকে ছুঁয়ে দাও অলিন্দ আমার
রাত দিন জেগে থাকে স্পন্দন
ঘরের কোথাও, ঝুলে আছে ক্যানভাস।

তুমি প্রাণের মতোই প্রিয়
মনের দুয়ার ঠেলে দখল নিতে চায় মেঘ,
চোখের জলচক্র রঙধনু এঁকে দিলে
সব কষ্টই কুয়াশা শিশির বৃষ্টি।

তুমি খামের ভেতর লুকোনো চিঠি
স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে ভেতরে জেগে
আমাকেই জড়িয়ে থাকো
দূরপথ হেঁটে যাও একসাথে।

তুমি দৃষ্টির মতোই সুন্দর
ধ্যানস্থ বিন্দু জানে, চোখের মণি কালো
আমি জল লুকানো ভেতর নদী
মাটির জন্য উল্টো দিক ভেসে।