নাহার আলমের কবিতা
বন্ধন- এক দুর্মূল্য আলো
সেই অলীক সন্ধ্যে…আবছা নয়, স্পষ্টই মনে আছে…দীর্ঘশ্বাস পোড়া অনার্য ক্ষত- অযুত শত, তবুও বিশ্বাসের উষ্ণতায় ছিলো যযাতি বন্ধনের দুর্মূল্য আলো… বেগানা বাতাসে সে-সবই উড়ে গ্যালো!
কিছু ঋণ– সেইসব আলোভরা দিন
অনিরাপদ উৎসবে ফিকে হয়ে গ্যাছে ততদিন
স্মৃতির শর-কাদায়…আহত সময়েরা ডুবে যায়
কিছু বন্ধন বুঝি আলগোছে এভাবেই দূরত্ব বাড়ায়
আঁচলবাঁধা মায়ারা, ডিজিটাল ফরমালিনে কী অবলীলায় ছেয়ে যায়!
শেষকথার গল্পগুলো
নিঃসঙ্গতার স্বরে বিরহের লাবণ্যগন্ধে এঁকেছি শব্দময়ী স্ব-রূপ। উদ্বেল স্পর্শে চেতনার আকাশে কার সান্নিধ্যের জলধারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে বয়ে যায় মাঘ-রজনীর মায়াঞ্চল?
এখানে নুনজলের বৃষ্টি হয় বারোমাস
এখানে শ্বাসকষ্টে ভোগে প্রতিটি গৃহবাস
এখানে শনিলাগা হাওয়ায় কাটে রাত্রি-দিন
এখানে অভিনীত অভিযানে সুদিনেরা বর্ণহীন
তবুও, ভুলে থাকার গল্পে ভুলেই থাকি সব…
ভুলে থাকতেই হয়…
আমাদের চুপকথা গল্পদের এটাই শেষকথা;
জেনে থাকবে নিশ্চয়…
মায়ের কথা মনে এলে
বৃক্ষের সঙ্গীতে স্নাত হই যতোটা
হিংসাজাত শব্দের আঘাতে ভীত হই ততোটা
চেনা পথের রেখা মুছে দেয়ার উন্মুক্ত আয়োজনে আশ্রয়ের আদরেরা নাম লেখে গাছের বল্কলে।
কখনো সে-সব কথা মনে এলে…
আত্মজ পাখি আর জল-পাহাড়ের গান শুনে শুনে ঘর হারানোর দহন ভুলি।
মায়ের কথা মনে এলে, কুয়াশাচোখে
বন-দুয়ার খুলি…
পড়ি, জলকাব্যের ভাষা আর ভীষণ অবাক হয়ে গড়ি আনমনে মৃৎ-ভাস্কর্যের ভালোবাসা।
আঁচলে কুড়োই মুঠো মুঠো আশা, ভুলি মন খারাপের সমূহ ব্যথা। পাশে এসে জড়িয়ে থাকে আমার প্রিয় থেকে প্রিয়তম একলা নীরবতা।