স্বপ্নীল ফিরোজের কবিতা

স্বপ্নীল ফিরোজের কবিতা

তিনটি বাঁশি

লাল,সাদা এবং কালো গোলাপের মিশেল
একটি তোড়া তোমাকে দিলাম। তোমার
হাতে লন্ডন, প্যারিস এবং নিউইয়র্ক শহরের
আলো জ্বলে উঠলো।

চাঁদের মতো আলোকিত তোমার চোখ।
চোখের ভেতর আগুন, রক্ত এবং বোমারু
বিমানের ফসিল ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে
বেঁচে আছে।

কালোগোলাপ তোমার পছন্দ নয় তুমি ছুঁড়ে
ফেলে দিলে। সাদাগোলাপ তুমি ঘৃণা করো,
তুমি পায়ে দলে মুছে দিলে তার অস্তিত্ব। এবার
তোমার হাতে শুধু একগুচ্ছ লাল গোলাপ।

বেদনায় নীল হয়ে ঝরে পড়লো সবুজ পাতা।
সমস্ত শহরের আলো নিভে গেল। ঘুমন্ত
আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলো।

নিরু,কৃষ্ণ এবং হ্যামিলনের তিনটি বাঁশি পড়ে
আছে। তুমি তুলে নিতে পার এখান থেকে যে
কোন একটি।
…….………………..

ধুলোকথা
…….স্বপ্নীল ফিরোজ

যে কাকটি বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আর উড়তে
পারলো না তাকে নিয়ে কথা হয়। কথা হয় সুযোগ
সন্ধানী মাছরাঙা পাখি নিয়ে। অথবা কথা হয় জল
থেকে আকাশে বিশাল ডানা মেলে উড়ে যায় যে
মরাল তাকে নিয়ে।

বোকামি, চতুরতা অথবা কৌশল নিয়ে আমরা
অনর্গল কথা বলি। বলতে বলতে ভুলে যাই
নিজেরই আঙুলের ফাঁকে পুড়ে যাচ্ছে ব্যানসন
সিগারেট।

আমরা সবাই নিউটন অথবা ভ্যানগগ। নিজের
কান কেটে প্রেমিকাকে পাঠাচ্ছি জন্মদিনের
উপহার। তবে রিডিং গ্লাসের উপর যে ধুলো
পড়ে থাকে এ-সব কার অস্তিত্ব?

ফুঁ দিলেই উড়ে যাচ্ছে অথবা মুখের গরম ভাপ
দিয়ে জামার আস্তিনে গ্লাসটি মুছে হিসেবের জের
টানছে ছা-পোষা কেরানি।