সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতা

সুদীপ্ত বিশ্বাসের  কবিতা

আহ্বান

গুমরে মরেছি শুধু মনের গভীরে।
অস্ফুট আর্তিতে আর অপেক্ষায় -অপেক্ষায়
বয়ে গেছে রক্তধারা এই যমুনায়।
রুধিরের স্রোত-জল বৃথা, সব বৃথা।
অনেক মায়াবী রাত ঝলমলে দিন,
নিতান্ত নিস্ফল তারা, অপুষ্পক স্মৃতি।
এখনও গোলাপবাগে আধফোটা কুঁড়ি,
ভ্রমরের স্পর্শ পেতে প্রচণ্ড উন্মুখ।
প্রতীক্ষা,প্রতীক্ষা নিয়ে রাত ভোর জেগে
সরিয়ে রেখেছি পাশে বরমাল্য খানি।
তারার জন্মের পর তারার মৃত্যুতে,
চুপচাপ কাল স্রোতে বয়ে গেছে কাল।
নিঝুম দুপুর থেকে ধূসর বিকেলে
অলিন্দে একাকী বসে দেখেছি জগত।
লুকিয়ে রেখেছি কত চোরাবালি স্রোত।
লুকিয়ে রেখেছি কত পক্ষবিধূনন।
আগ্নেয়গিরির সেই উদ্গিরণের মত
আজ আমি অভিসারী, রোমাঞ্চ পিয়াসী।
তুমি এসো,
মুগ্ধতার সে প্রাচীন আধিকার নিয়ে এসো,
রুদ্ধদ্বারে বার বার কর করাঘাত।
তোমার উদ্ধত ফনায় আমাকে বিদ্ধ কর,
মুগ্ধ কর, কর শিহরিত, বাজিয়ে তোমার বীন
নিয়ে চল জ্যোৎস্নার মায়াবী জগতে।
তোমার ডানার স্বেদ বিন্দু
গড়িয়ে পড়ুক আমার ডানায়।
কানায় কানায় উপচে উঠুক রসস্রোত।
পিয়াসী তৃষ্ণার্ত বুকে ঢেলে দাও অমৃত তোমার …

একলা আমি

সেই নদীটার কাছে আমি যেই গিয়েছি
সে তো শুধু চুপটি করে শুনল কথা
সেই পাহাড়ের কাছে আমি যেই গিয়েছি
তার তো তখন বুকের ভিতর নিরবতা ।
এই আমিতো এরও আগে কয়েকশ’ বার
এদের কাছে এসেছিলাম তোমায় নিয়ে
তখন তাদের সবার কত প্রগলভতা
খিলখিলিয়ে হাসত শুধু সমস্ত দিন।
এখন তুমি যেই গিয়েছ আমায় ছেড়ে
এদের সবার গোমড়া মুখে কুলুপ আঁটা।
তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি হাওয়ার গায়ে
তোমায় ডেকে দিলাম চিঠি ঘুড়ির বুকে পাখির ডানায়…
সেই পাখিটা উধাও হল,স্তব্ধ হল বাউল বাতাস
সেই ঘুড়িটা গোঁত্তা খেয়ে পড়ল খসে মাঠের পাশে
ক্যালেন্ডারের দিনগুলো সব থমকে আছে মুখ বেঁকিয়ে
আকাশ জুড়ে অন্ধকারে একলা আমি… একলা আমি…