প্রবীর রঞ্জন মণ্ডলের কবিতা

প্রবীর রঞ্জন মণ্ডলের কবিতা

কতটুকু গভীরতা

কারা যে কখন হারিয়ে যায়
পথঘাট স্মৃতি ফেলে
দূরের ওই বহুদূরের আলোর পথে
তা জানিনা।

নতুন বাস্তবতা এসে ভিড় করে
নোঙর ফেলে মনের আনাচকানাচে ;
আলোর চোখ ঝলসান পথে
নেমে আসে ঝরে পড়া পাতার আস্তরণ।

হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ধূসরে
বিলীন হতে হতে বিন্দুতে পৌঁছায়;
যতই চোখ উন্মীলিত রাখি
দূরের ওই ছায়াপথে।

আমার মনের গভীরতা আর কতটুকু!
যতটুকু পরিমাপ বুঝি
তা ওই গিয়ে থামে দিগন্ত রেখায়;
সকলের বুঝি তাই হয়!

ঝড়ের বার্তা

আমাকে যারা ওই ছায়ার আঁচল ছোঁয়ায়
ঢেকে রাখে পর্দানশীন করে পরপারে
তাদের মুখে জোর করে বায়বীয় থাপ্পড়
মারতে আমার বেশি সময় লাগবে না।
ওদিকে গভীর নিম্নচাপ রেখা এসে গেছে
বৃহত্তম ঝড়ের বার্তা নিয়ে শরীরের কাছাকাছি,
নাচানাচি করে নেওয়ার যা নাও তপ্ত রোদে।
আমি থাপ্পড় কসাবই নিম্নচাপ বুকে নিয়ে
তোমার সুখের দুর্বোধ‍্য আঁচল তচনচ করব।
বুকের বারুদ শেষ হলে অঙ্গার হয়ে উড়ে যাব
কিছু পাবো না পাব ছড়িয়ে পড়ব আলোর মাঝে।

ছায়াসঙ্গী

দরজা খুললেই ছায়া নেমে আসে
আমার পিছু পিছু একেবারে বিছানায়
আড় চোখে দেখে নিই একবার।
ক্লান্ত ধ্বস্ত শরীরখানাও দেখে নিই;
তারপর তোয়াজ করি উলোট গামছায়।
ক্লেদাক্ত টোপ টোপ ঘাম মুছে ফেলি
আর ভাবনায় আঁকি আগামীর কর্মপরিকল্পনা।
ঘেঁষাঘেঁষি না শুয়ে অতপর আলো নিভাই;
বিনা আলাপচারিতায় বিদায় নেয় কখন
বিছানায় এলিয়ে দিই রাস্তায় ধর্ষিত শরীর।
অমোঘ নিদ্রায় ডুবে যাই কখন!
সকাল আসে,ডেকে দেয় আলো
ছায়াও সঙ্গী হয় আবার তখন।

প্রলেপ

সময়ের সারণি দাগ
ঘাস জমে মুছে যায় একদিন
হৃদয়েও স্মৃতির পরতে পরতে
জমে যায় অজস্র প্রলেপ।
তারপর সব স্মৃতি ধুয়েমুছে সাফ হয়
কালের স্রোতশীল সময়ের সাথে।

এইযে অগুনতি যাওয়া আসা
এপার ওপার,পরপার;
কে কার কত স্মৃতির পাতায় ধরে রাখে?
এক দুই তিন করে করে চলে যায়
চলন্ত সিঁড়ির ধাপের মতো
একদিন প্রতিদিন, দিনের পর দিন।

কেউ কোথাও স্মৃতি বিশারদ হয়ে
বেঁচে থেকেছে কখনও
বুড়ো বটের ঝুরি নামানো
পরিবর্তনশীল পৃথিবীর বুকে!

বুকেই বুলেট

সীমানা ছাড়িয়ে যাচ্ছে ঢেউ
ঢেউটা আকাশ সমান হোক
চক্ষুটা খুলে যাক সবার
জেনে যাক সব শ্রেণি লোক।

এখন তো পাথর ভাঙার দিন
পাথরে রক্ত ঘামের ছোপ
চাপা হয় কত কালের কান্না
গরাদে আঁটকে রাখা খোপ!

বুকেতে ছিল জমাট কান্না
বুলেটের মতোই ছুটে যাক
এতোকাল করল যারা শোষণ
তারা সব বুকেই বুলেট খাক।