পল্লব রায়ের কবিতা
আমার ফেরা হয়নি ঘরে
নীড়ে ফেরার সবটুকু প্রত ̈য় রেখেছিলাম যে পাখিটার ঠোঁটে
যে পাখির সোনালি বুকের উপত ̈কা জুড়ে ছিল আমার প্রেম ও প্রার্থনার হরিৎ অরণ ̈ যে পাখি জীবনের ক্ষয়িষ্ণুতা ভুে ল গাইতে শিখিয়েছিল
বেঁচে থাকার গান,
সে পাখি উড়ে চলে গেছে- দূরের আকাশ ছেড়ে বহুদূরে আরও; অন ̈ আকাশে। কবরের কূি পর মতো কাঙ্খিত রঙের ভিড়ে ডুবে গেছে মধূপেয় জ্বলজ্বলে চোখ আমার শুশুষ্র া মনে রাখেনি তার দুঃখ খোদাই করা বুকের পাথর;
আমার ভালোবাসা ভুলে গেছে-
তার অহংকারি ডানা, ডানার প্রতিটি অকত… জ্ঞ পালক।
বিশা¦ সের সুতো ছিঁে ড় গেছে, তাই পিছুটান কমে গেছে ধীরে
আমার ফেরা হয়নি ঘরে;
অথচ, আমি পাখিটাকে একবারও বিশ্বাসঘাতক বলতে পারিনি।
একা একা অনন্ত শূন ̈তায় নিভে যেতে যেতে আবিষ্কার করেছি
মানুষ নিজেই নিজের কাছে নিরাশ্রিত প্রমাণিত হলে-
অন্ধকার আরও গাঢ় হতে ওঠে জীবনের দুটি তীরে।
তুমি এক ঔষধি বনস্পতি
আমি ভালোবাসায় মমুর্ষূ এক রোগী
হে প্রিয়তমা,
তোমার বেসামাল চুমুর আয়ুর্বেদিক ঢেলে দাও,
আমার বিষাদের পাকস্থলিতে।
ওগো সুদূর আকাশের বুক চিরে বয়ে চলা
রমণীয় শূন ̈তা নদী
তুমি অসংযত আঁছড়ে পড়ো বুকের তল্লাটে
আমি জেনে গেছি-
তোমার বেপরোয়া প্রেমই আমার অসুখের একমাত্র ঔষধি।
পবিত্র পাপ
আমি ছুঁয়ে দিলে যদি তোমার মনে আগুন না ধরে যায়
বন কপোতির মতো যদি তোমার শরীর কেঁপে না ওঠে,
যদি শিহরণে নেচে না ওঠে বুকের হরিৎ উপত্যকা
যদি ভাবনার মেঘমালা তুমুল আলিঙ্গনে না চায় মাটির বাসর নিজেকে প্রেমিক বলবো না কখনো।
আমি তোমার চোখে তাকালে যদি তোমার চোখের পলক না থেমে যায়
যদি না-ই জাগে অন্তরে অকূল তৃষা, নিষেধ প্রাচীর যত না-ই ভাঙে তুমলু ঝড়ে; যদি দেহের প্রতিটি ভাজে না-ই খোলে পিরিতের প্রাচীন কিতাব
আর কোনোদিন তাকাবো না তোমার চোখে।
তোমার চুলের সুগন্ধে নেমে আসা নিকষ অন্ধকারে
আমার অবাধ ̈ আঙুল খেলিয়ে
যদি না ফুটাতে পারি আগুনের শত কোটি ফুল;
আমি চুমু খেলে নেশাতুর তোমার ঠোঁটে,
যদি তোমার দুচোখ বন্ধ হয়ে না আসে মৃত্যু আবেশে;
যদি তোমার মুঠো শক্ত না হয়ে যায়,
যদি তোমার রক্তে ডানা না ঝাপটায় কামনার দূরন্ত বুলবুল
তুমি আমাকে অভিশাপ দিও,
আমি ফিরিয়ে নেব উদ্যত ত্রিশূল।
আফিম
তুমি আমার প্রথম প্রেমিকা নও
আমিও তো নই তোমার প্রথম প্রেমিক,
কিন্তু তোমার সাথে এ আমার প্রথম প্রণয়
আমার সাথেও তোমার হৃদয় স্লেটে লেখা প্রথম গণিত।
তুমিও ছুয়েছ কারো গভীরে নিবিড়
যেমন আগুন ছোয়ঁ জল,
আমিও খুঁজেছি কারো সুডৌল বুকে, নিষেধের গন্ধম ফল।
স্মৃতির পাঁচালি আজ নাই বা খুলুক, পিছু পড়ে থাক পিছুডাক
ফুরিয়ে গিয়েছে যে দিনের আলো, তার করোটিতে জন্মাক মানব সমাজ। আদিম আঙুলে জ্বলুক হোমের আগুন, দেহের খরিপে আসুক নবান্ন দিন নগ্ন আদরে গলুক পাথুরে প্রলাপ, কানকো ভিজাক জলে স্বপ্নের মীন। চুমোর আষাঢ় নামুক কামুক ঠোঁটে, নিজেকে উপুড় করে ঢেলে দাও অনন্ত প্রেমের আফিম।
ঝড় ও একটি অশ্রুমতি পাখি
যখন রাতের গহীন অন্ধকারে গাছে গাছে নাচে মাতাল ঝড়, পাখিরা কি আকঁ ড়ে ধরে বাঁচে কেমন করে বাঁচায় নীড়ের খড়?
কেমন করে শোকের সমুদ্দুর লুকিয়ে রেখে দুটি চোখের তারায়, পালক ছেঁড়ার জখম ভুলে হেসে হোচঁট খেয়ে আবার উঠে দাঁড়ায়?
একলা পাখি সব হারানোর ঝড় কেমনে ভাঙা পাঁজর পেতে সয়, কেমনে হেলায় মাড়িয়ে যায় পা আলোর পথের ভীষণ দুঃসময়।
কেমন করে শ্মশান পাড়ায় বসে কণ্ঠ ছাড়ে বেঁচে থাকার গানে, বুকের ব্যথা গোপন করে বুকে সবার চোখের রৌদধ বয়ে আনে?