সমিধ গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা
মৃত্যু উপত্যকা ৩১
যেখানে-সেখানে পড়ছে ঘোড়ানাল
একে চন্দ্র পাঁচে প্রশ্বাস
সার্চবাতি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে,
পুণ্যবান খুঁজে নিচ্ছে পূর্ণ আত্নীয়ের দেহে
প্লাবনক্ষমতা
বুড়ী পিঁপড়ে
ক্লিন্ন শকুন দেখলে যার মোটামুটি আন্দাজ পাওয়া যেত
সেই গল্পে ঠাকুরমার মস্ত ভুল টের পাওয়া যাচ্ছে ইদানীং
ইচ্ছাকৃত ঝোলা হাতড়ে জোরালো বাদাম,
বানানভুলের দিকে ছুঁড়লেও জুতসই বাতিক
ফেরত আসে না
একবেলার বিসর্জনে তিনবেলার আগমনী
উল্টে নিয়ে জড়ো করতে হয়
ভাঙাচোরা দাঁত
গর্ভনষ্ট ফুল দেখে কেউ কিছু বুঝতে পারে না
মানুষের মতো দেখতে অবিকল চিতাকাঠ
গরিব কবর আর রাজসিক সার্কোফেগাস সারী সারী
মাথা নিচু,
ভণিতায় সতর্ক শ্বাস ফেলে টেনে নিচ্ছে
ভণিতায় অসতর্ক শ্বাস টেনে ফেলে দিচ্ছে
আন্দাজের মর্চে পড়া অনভ্যাসে
সেইটুকু ধরে ফেলার মতো পায়ের জোর
এখন আর কোনো দৃশ্যে নেই…
মৃত্যু উপত্যকা ২৮
তখন অনেক দূরে ভেজা অথবা শুকনো স্মার্টফোনের
স্ক্রিনশট, আটকে যাচ্ছে বালির বস্তায়
আকাশের রাজার দুটো ডানা, প্রকান্ড অট্টহাসির মধ্যে হারিয়ে ফেলছে সাম্রাজ্যের স্মারক
আলপথে হাতের তালু ধোওয়ার শব্দে কান পাতা
যাচ্ছে না আর
একটা হাওয়া উঠতে গিয়ে ঘুরে পড়ে যাচ্ছে বারবার
অক্ষাংশের কয়েকহাজার কিলোমিটার দূর থেকে
ফিরে যাচ্ছে উপমাশরীর
মন্থর বিদ্যুৎ চমকহীন ঢুকে পড়ছে দধীচির অবাক পাঁজরে
চটুল বিষণ্ণতা জুড়িয়ে এলো কবিতার কাছে…
মৃত্যু উপত্যকা ১৩
সাম্রাজ্য এবং আন্তর্জাল
একে দুয়ে খাদের ধার দিয়ে যেতে যেতে
নেই, হুশ
তোমার সামনে একটা গোটা টেবিল
আমার সামনে একটা গোটা চেয়ার
আমাদের সবার সামনে একটা আস্ত মরুভূমি—
চতুর গেরস্থালী সম্ভাবনা
আক্কেল গজালেই যখন তখন “গুরুম”
শব্দ হতো পাড়ায়,চাতালে
শেকড়বাকড় নিয়ে মাথা ঘামানো চলবে না
আগবাড়িয়ে বলে দেওয়াই হতো
সব ভ্রূণের কানে কানে
এখন গাদাগুচ্ছের বাড়তি তথ্যসংলাপ
নিয়ে করুণ বসে থাকা
খেই তো প্রচুর আছে
মুশকিলগুলো শুধু নিজেদের চিনতে পারছে না কোনোমতে…
মৃত্যু উপত্যকা ৪২
মাত্র শব্দের মধ্যে আঁকড়ে রাখার মতন
মাত্র মুঠোপরিমাণ ছাইয়ের মতন
মাত্র কয়েকহাত মাটির শেকড়ে আর
কেঁচো ইঁদুরের ভেজা চামড়ার মতন
গ্রীষ্ম ঢেকে নেওয়া মগ্ন লেপের মতন
ছন্নছাড়া শবাসনগুলো,
নিম্নচাপের সমতলে একটিবার ডাকলেই
ফরমাশের চেহারা বড় লোভনীয় মুহুর্তের
অনুবর্তন শিখে নেয়
একটুর জন্য প্রত্যেকটা এবরশন আইনি
বিষণ্ণতা পেয়ে যায় আজও
শুধু এইফাঁকে,
উপত্যকায় আরো কয়েকটা সেলুন ঝাঁপ খোলে
দল ভারী হয়…