চ্যাটার্জী অমলের কবিতা
তুমি ভালো থেকো
সেদিন বেলাশেষের শেষ আলো সাক্ষী রেখে
বলেছিলাম, অপূর্ণতার আঘাতে মনের গভীরে
কেবলি হোঁচট খাচ্ছে নানা বর্ণের নানা স্বাদের কিছু কথা,
একটু সময় দিও।
অলৌকিক নয়, বহু চেনা উপলব্ধিতে জানতাম
অগ্ৰাহ্য করবে নিশ্চুপ নিবেদনে, কেননা অনেক যত্নের
বিছানায় একটু মলমের অভাবে এতদিন ক্ষতগুলো
দগদগেই রয়েছে । বুনো অন্ধকারের দীর্ঘশ্বাস
কাঁধে নিয়ে নিবিড় ও দৃঢ়তা পায়নি সম্পর্কের দেহ ।
সময়ের হিসাবে পূর্বনির্ধারিত সবই আছে ,শুধু আমাদের
রাস্তাটা আজ অবারিত দু’ভাগে। ঘর বাঁধার পিপাসায়
বুক ফাটলেও পরচুলা খসে পড়া ঘরটার দরজা
জানালাও যে আগলহীন। মাকড়সার ফাঁদ,আরশোলা
আর টিকটিকির সাথে যত্নহীন এক কোণে বিষণ্ণ রাতের
অকপট সহবাস।
জীবনের নিয়মেই জীবন চলে, বাস্তবের সজোর ধাক্কায়
বরণ করেছি তোমার অবহেলা। তবুও বলবো
জীবনের প্রেক্ষাপটে আজীবন তুমি ভালো থেকো,
হৃদয় যতই হোক না আমার নিঃসঙ্গ ব্যথায় চূর্ণ-বিচূর্ণ।
আর কতকাল
ছায়াপড়া চুপচাপ বিকেলের কাঁধে হাত রেখে
সবুজ নির্জনতায় তোর শরীর ছুঁয়ে কতকাল হাঁটিনি ,
কতকাল গল্প করিনি বলতো ? এখনো স্মৃতির
শেকড়বাকড়ে কলাপের মতো ছড়িয়ে আছে তোর
রাগপ্রধান স্পর্শ আর ইমন আবেগ । যদিও তোর
অদর্শনে মাঝে মাঝে বন্য হয়ে উঠি, শুধু একটি বার
তোকে দেখার তীব্র আকাঙ্খায় ।
ব্যাপক সংকটের আভিজাত্যে বিকলাঙ্গ নাগরিক জীবন
ডুবে আছে বিষণ্ণতার জলজ বন্দরে । তোকে ছুঁতে না
পেয়ে পথ হারিয়ে দিনগুলো দীর্ঘ হতে দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে
বছরের গাছ হয়ে গেল। দুষ্টুমি ভরা ফিচেল মুহূর্তগুলোও
দিগন্তে বিলীন পাখির মতো হারিয়ে গেল সময়ের তলে।
এমনি করে আর কতকাল কুয়াশার বিষভাণ্ডে লুকিয়ে
থাকবে রোদ্দুর ভরা প্রমত্ত দুপুর ? আর কতকাল আর
কতকাল একটা নতুন ভোরের যন্ত্রণায় প্রহর গুনবে
স্বপ্নের বুকে স্বপ্নতরী ? জানিনা আবার কবে সেই একই
ছাঁচে তোকে ডেকে বলবো বাবু আয় আমরা আবার
পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটি প্রেমের হিজল বনে , সবুজ তুলির
আয়োজনে আবার নতুন করে প্রাণ ফিরে পাক
আমাদের ভাবনার কথামালা।