চম্পা ভট্টাচার্য্য

চম্পা ভট্টাচার্য্য

নীল হয় পাল্কী

হুঁন হুনা হু হুম না না ,ছয় বেহারার ছন্দে দুলে
বাজিয়ে দিয়ে উথাল উথাল ভাংড়া বোল
দূরের মিনার এক লহমায় কাছে এলো
আবছায়া মন সময় ভুলে ছোঁয়া পেলো।

অলিন্দে বেজে ওঠে লহরার স্পন্দন।
গভীর অন্ধকারে প্রথম সূর্য্যের
রোদ্দুর গলা সোনা মেখেছিলাম
অহংকারের অলংকারে ।

ক্রমে ক্রমে ঘটে যুগান্তর ,
ফোঁটা ফোঁটা নীল বিষে
রুদ্ধগতি গলানো সোনা ,
আমার ভেতরে সাপের শীতলতা।

নৈঃশব্দের মুখরতা

নৈঃশব্দ কথা বলে চুপিসারে
নিয়ে যায় তেপান্তরের মাঠের পাড়ে
খোলা তরবারি হাতে অচিনপুরের ছেলে খুঁজে বেড়ায় দানবের প্রাণভোমরা
আপনভোলা অবুঝ রাজকুমারী উদ্ধারে,
লালকমল, নীলকমলের দেশে, দুধ পুকুরে।
নিস্তব্ধতার মুখরতা বুনে যায় গভীরে
যুগের ওপার থেকে চলমান ছবি –
বটের ছায়া , নির্ভরতার দুটি হাত ,
আতস আলোর ফুলঝুরি,রঙীন রাত ।
নিঃশব্দ রাতের ভাষা দেয় স্বান্তনা
কষ্টের ভাঙা যাপন , নিষ্ফল আস্ফালন
নিপুণ ভাবে সেলাই করে ছেঁড়া টুকরো ।
অসুখের বিপরীতে উড়ে যাবার উৎসাহ ।
নৈঃশব্দের ভাষাও কথাহীন ক্লান্তিতে-
কালো গহ্বরের ভেতরে একেবারে
তলহীন খাদের কিনারায় অতলের ডাক
” এসো , এসো “, নেশাগ্রস্ত পদবিক্ষেপ
নৈঃশব্দ তুমি মুখর হও আরও একবার
আমি নীরবেই বাঁচি তোমায় নিয়ে।

শুনতে কি পাও কাস্তের কান্না

কত ডিগ্রী উষ্ণতায় রক্তে স্ফুটন আসে
শিলীভুত শীতের টুকরো বাষ্পীভূত হয় !
জঠরাগ্নির লেলিহান শিখায় ঝলসে যায়
সোনার ক্ষেত , আউশের গন্ধ বাতাসে হারায় ।
মাইল মাইল ক্ষোভ ও ক্রোধের আগুন বুকে জড়িয়ে, নিস্পন্দ আজ হাজার রাম সিং , নিরঞ্জন ও গুরলভ সিং এর দীর্ঘ শরীর
হেলায় পড়ে থাকা কাস্তে , লাঙ্গল এর কান্নায়
জোয়ার আসে , উত্তাল হয় জনসমুদ্র গুঁড়িয়ে দিতে চায় ঔপনিবেশিকতার কালো আইন ।
লাখো কন্ঠ ডাক পাঠায় আকাশে বাতাসে ,
কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা, কচ্ছ থেকে কোহিমা ,
অগণিত ধূলিধূসরিত রক্তাক্ত বলিষ্ঠ পা
ধেয়ে আসে জীবনের গান গেয়ে-
জয় কিষাণ ..
” হাম ওয়াতন কে রাখওয়ালে ,
হাম ভুখে মরনেওয়ালে “।

আমাদের সম্রাট ‘ মন কি বাত বলেন ‘
মন কি বাত শোনেন না ,
নিরোবাবু বেহালা বাজান, স্বপ্ন দেখেন।
হায়রে স্বচ্ছ ভারত।