কুমকুম বৈদ্য’র কবিতা

কুমকুম বৈদ্য’র কবিতা

নামহীন কবিতা

বহুদিন পরে তুই যখন বৃষ্টি হয়ে ঝরে যাচ্ছিলিস টুপটাপ
এক পৃষ্ঠা সাদা আমি
লাষ্ট ট্রেনের হুইসিল শুনছিলাম মনোযোগ সহকারে
ডিসেম্বর মাসের শীত এসে লাগছিল গায়ে
এই প্যাচ প্যাচে ঘাম ভরা মে মাসের দিনে
স্পষ্ট শোনতে পাচ্ছিলাম ঝরাপাতাদের হরিনাম
তুই কিছু বলছিলিস বোধহয়
শব্দ গুলো তোর প্রথম লেখা চিঠির অক্ষর হয়ে উড়ে যাচ্ছিল বাতাসে
কুয়াশার্ত আমি তোর শেষ চিঠিটা মনে মনে ফেলে দিচ্ছি আস্তাকুঁড়ে
হুইসিল টা আরো তীক্ষ্ণ স্বরে ডেকে যাচ্ছে
গন্তব্যে বিবাহযোগ্য কোনো অরণ্য
জঙ্গলি ফুলের সহবাসে সহস্র প্রজাপতি
আর আমার সাদা খামে মোড়া রঙ মিলান্তি হলুদ চিঠি

প্রকৃতি প্রেম

পাড়ি দেবে দিগন্ত জোড়া নিশিথিনী
মনের গহীন নীলে জলপাই রঙা কিছু সন্ধে
নিবিড় অরণ্যে চাতকের জন্য জলসত্র
নেকড়ের নখে লেগে থাকা ধুলোঝড়
আমাদের সাথে অরণ্য় রাত জাগবে
প্রকৃতির সাথে মেলামেশা করা সঙ্গম
জাহ্নবী তুমি আদরের কোল পাতলে
পবিত্র হবো আকন্ঠ জলে ভাসমান
ধ্রুবতারা শুধু দিক নির্দেশ করবে

শূন্যতা

মাঝে মাঝে শূন্যতা চলে আসে
দাঁড় করিয়ে দেয় সেই তেঁতুল তলায়
যেখানে গলায় ফাঁস দিয়েছিল মাতু গোয়ালিনী
আর তার পাশের জোড়া নারকেল গাছ
যেখানে শঙ্খ লেগেছিল কাল নাগিনীর
আর তার পরে ভাদ্র মাসে আচমকা বাজে
ঝলসে গিয়েছিল যারা আশ পাশে কচি ঘাস সমেত
তারপর রডোড্রেন্ডনের বনে ফেনিল তুষার পাতে জমে যাই আমি
বরফ গলনের লীনতাপটুকুর আশায়
শুয়ে থাকি সারা শীতজুড়ে শীত ঘুম নিয়ে
শরীরের সব সাড়া কেড়ে নিয়ে যায় পূণ্য কলস
শূণ্যতে জমা হয় বাইনারি সংকেত

তোমাতে করিব বাস

কেনো চেয়ে থাকো মুখ পানে
নিঃশব্দ সকরুণ নয়নে
আমাদের যা যা ছিল
জমা তো রেখেছি ওই প্রাচীন বটের কোটরে
আরো যদি বাকি থেকে থাকে
জমানো কষ্টের খাতে
যদি পারো উপহার দিও নিঃশব্দ নিঃশর্ত ক্ষমা
আমাদের কান্না যত জমানো সুখের মত
মাঝে মাঝে দিয়ে যাবে নাড়া
মনের গভীর গোপনে
তোমাতে করিব বাস