সুবীর সরকারের কবিতা
বিরতি
চিবুক ও মরা আলো
প্ররোচনায় পা না দিয়ে সরাসরি বিজ্ঞাপন
বিরতি
টুকরো মাঠ,গানের আসর
অদুরে হাতির ডাক।খরা কাটিয়ে
বৃষ্টি ফিরছে
বর্ষণ
প্রস্তুতিহীনভাবে শুরু করি।মূলত তার
চোখের ওপর ভরসা রাখি।গুলিবর্ষণের
মুখে,বর্ষণের মুখে শব্দ নয়;ছেঁড়া ছেঁড়া
মেঘ
জার্নাল
শস্যের দানা অপেক্ষা করছে কাঠবেড়ালির
জন্য
শীত ও বর্ষার এই পৃথিবী!
পাখিঠোঁটে বাদামখোসা
জরুরী হয়ে উঠছে নদীর
মাছ
বৃত্তান্ত
মাইলখানেক যাবো।এরপর ফিরতে হবে।
ভরদুপুর।পাতকুয়োয় বালতি নামছে।ক্লান্তি
থাকে না।আমি তো নির্জন হতে
রাজি
কাঠবাংলো
বুনো মহিষের সাথে একটা জীবন
বাতাস যখন বাওকুমটা হয়
অতিশয় ছোট পাখি
গাধার ডাক শুনি
রেঞ্জার সাহেব
হাসছেন
বরফ মাখছে কাঠবাংলো
নাচঘর
নাচঘরে শীতের হাওয়া
চেনা মানুষের পৃথিবীতে শিবির
পেতেছি
ভাগচাষিদের গ্রাম।
ঘুঘুদের একটানা ডেকে
যাওয়া
ইঁদুর
প্রাচীন জলযান দেখতে চলে
যাই
কখনো ঘোড়ার গাড়ি
বেড়ালের ভয়ে লুকিয়ে থাকছে
ইঁদুর
কলাবাগিচা
কলাবাগিচায় যাচ্ছি গার্সিয়া মার্কেজের
সঙ্গে দেখা করতে।ফ্যাকাসে হাসি।ঘর
জুড়ে ট্রাইবাল নকসা।আভিজাত্যে মিশে
যায়
বন্যতা।পোড়খাওয়া শিকারী তার চেনা
বধ্যভুমিতেই
গ্যাব্রিয়েল এগিয়ে দিচ্ছেন কফি আর
চুইংগাম
গল্প/১
বাতাসের ভিতর থাকতে থাকতে শরীরে
পুলক
ছবিতে গল্প নেই
চরিত্রের সাহচর্য নেই
বাতাসের ভিতর থাকতে থাকতে ঝিনুক
কুড়োই
চশমা
ভাঁজ করা চশমা।চশমা কি নির্জন
হতে জানে!আদতে আগ্রাসন,
যেভাবে লোকদেবতা নাগরিক হয়ে
ওঠেন।
ভাষাদিবস
চুমু নয়।চুমু বদলাচ্ছে চুমুকে।
মেঘ এসে বৃষ্টি দিয়ে যায়
আমরা কুয়াশায় ঢেকে রাখি
যাবতীয়
গল্প/২
চাঁদের আলোয় পেঁয়াজখেত।গসপেল থেকে
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তোমাকে তুলে আনি
হাজার হাজার চা-চক্র আমাদের
সাঁতার জানি।তবু ভয়,ডুবে যাবো না
তো
উনুন
বৃত্তান্তে যাবো না বরং গন্তব্যে
পৌঁছই
ফের নীরবতা।
উনুনে গুঁজে দেব
টুপি
শিরোনামহীন
সর্ষেবনে বিকেল ডুবছে আর আমি বিকেলের
দিকেই
হাঁটতে থাকি।যেন বা স্তব্ধতা,বাঁশির শব্দ!
কান্নাকে প্রতিরোধ করি,শরীরে হলুদ মাখি
আয়নার পাশে নখ,লিখি
নখদর্পণ।
সাঁকো
সূর্যাস্তে পাখিশিকার।মজা নদীর
সাঁকো।দু’পাশে
গোলপোস্ট।ঘুঙুর
বাজে না
কতকাল!
দুপুর
আপাদমস্তক এক গমখেতের ভিতর
যখন দুপুর ঘুমায়,
দু’কুল ছাপিয়ে হাওয়া এলে
সমস্ত চিরকূট উড়িয়ে জমিয়ে তুলতে থাকো নিঃসঙ্গতা।
অধুনান্তিক কুলজঙ্গলগুলিই তো গোপন আস্তানা
যা কিনা হাসি ও হাহাকারের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।
পরবর্তীপর্বে অবধারিত আস্তাবলগুলি।
ফুটনোটে বসে পড়ে পেঁচারা
দুপুরের ভাঙা ঘুমে আমরা রাস্তা হারাই
আখ্যান
রচিত আখ্যানের অংশ হতে গিয়ে হোঁচট খাই।
আনতে পারো দূরের খবর!
লোকালয় পেরোলে
মাছের বাজার।
হাড়িয়া ম্যাঘের ছায়ায় হাঁটি।
কান্না চেপে রাখি।
কোথাও কাঠিঢোল। লিপি ও মুদ্রা।
বাহির খোলানের
পাখি পর্যটনে।
পার্বণ
এত যে পরিখা ছিল!পরিধী নির্দিষ্ট জেনেই
গীদালেরা গান ধরে।পালকে ভরা বাসা।
আদুরে বেড়ালেরা দ্রুত ছুটে আসে।তখন
বাঁশি ও বাদ্যে
ঋতুবদল!
হরিণশাবকের জন্য
সরলবর্গীয় বৃক্ষের পাশে যে প্যাঁচা রাতপাখিতে
বদলে যায়;আমরা কি তার বিড়ম্বনাটুকু বুঝতে
পারি!আকাশের মেঘ ছায়া ঢালে।মৃদু কাশির
শব্দেও ঘোর কাটে না।উঠোনের রোদে কখন
কিভাবে
হরিণশাবক!
থাবা
জানলা খোলা রাখলেই চকোয়াখেতির
রাস্তা
রাত্রির এক নিজস্ব নির্জনতা থাকে
কী কী দৃশ্য দ্যাখো তুমি!
দুরপাল্লার বাস এসে থামে
তারপর জোড়া বাঘের
থাবা