নীহার জয়ধরের কবিতা
কাঙ্খের কলসী
আকাঙ্ক্ষা ঢেউয়ে উত্তাল
আঁচলের জল স্বাদ পাল্টায় চোখ খুঁজে
ওপাড়েই ভেজে বাতাসী মানুষ
গুণ ছিঁড়ে আসে, পরিত্যক্ত হয় খেয়া-মাস্তুল।
প্লাস্টিকে ভাসছে পচা ফুল
জল-কলসের প্রকল্পিত গল্পে
সিরিয়াল আর বিয়ের হলুদ
গ্রামজলসখি কবিতামাত্রে এখন
পৌরসভ্যতায় জলের সময় গলে যায়
কুম্ভ নিতম্ব বুড়ি হয়ে গেছে চামড়ায়
রম্ভা ,ঘৃতাচীর কোমরে মরফিন প্রসাধন
ইটিন্ডাহাঁটের মসৃণ কলসী পাছায় নাম লিখে
শ্যামল (গঙ্গোপাধ্যায়) বাবু সেই যে ফিরে এসেছেন….
দেহ পুড়ে গেছে, ডোম নাভি খুঁজছেন
বখশিস পাওয়া যাবে অস্থিভষ্ম জলে
ছিদ্র কলসী চিতা ভ্রমণে যায়, ব্রহ্মাণ্ড ভরসায় ।
তবুও কলসী ছলকায় হৃদয়ের মাপে
না দেখা মাঝির ঢেউ ভেসে আসে
কামনার জল থেকে উঠে আসে স্বর্গের দেবী
ঘৃতগর্ভ প্রার্থনায় চেয়ে নেয় শতপুত্র শোক
হঠাৎ তোমাকে
চোখ ফেরাতে পারছি না
সোনালী ব্যাঙের জিভ ঘাস-ফড়িংয়ের পায়ে
শ্রীবৃদ্ধি গেঁথে আছে অনুদিত পাঁচ সৈনিকে
মাথা খাওয়া রোগ কোষের হিসাব কষে
অক্টোপাস যেভাবে মাংসল দাঁতে।
চোখের নির্লজ্জ কাটাকুটি ঘরে
তোমারও হরিণ থমকে যায়
দৃশ্যের খুঁটে আঙুলের খুঁটিগিরি
ইচ্ছারা ওড়ে চেষ্টার জিহ্বায়।
প্রস্তাব আনত এখন ব্যবহৃত হৃদয়ের ভারে
মৌন শরীরে জাগে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ
প্রতারিত যৌনতা পথের শরীরে, সংশয়ে টান টান,
দু’ধারে মরে আছে কিছু শ্রমিক খিদে
জেনেছি গল্পের কার্নিশে, তুমিও কম্প্রমান,
পাওনি অনেকটাই, আসলে প্রকাশ পাথুরে ।
উদ্বাস্তু
নিজের ছায়ায় কালি কিছুটা ঢেলে মুচকি
সময়ের বাতাসি ছেনালি উড়ে আসবে নিশ্চয়
চোদ্দ বছরের এঁচোড়ে যৌবন গলছে দেওয়ালে
নিরুপায় দর্শক বলেন গম্ভীর—
ভেসে যাব নিশ্চিত, জলের হিসাব এড়িয়ে।
চোখে দৃশ্যের ধারালো যাতায়ত, ত্বকে আল-শীত
প্রণয়ের অমীমাংসা লবণের স্বাদে নেমে এলে
মূলরোম ছেঁড়ার অনুভূতি, মাটিতে গভীর ক্ষত
করুন রাগ ঘুমায় বিলম্ব-কাঁথা গায়ে, কাদা ধুয়ে মাঝি উঠে যায় অন্য পাড়ে।
তিরিশোর্ধ সিঁড়ি চেটে মেরে দিলে যৌবন
ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ভারি হয়ে আসে
কুড়ি বছরের শোক ফেরত দিতে চায় রবি শস্যের রোদ
আহৃত ছায়ারা তখন শ্রমিক পিপিলিকা
বিগত-আগুন ফেরতের দায় পাখার হিসাবে
ভোগ করের বরাত লিখে রেখে ঠোঁটে
ঘন হয়ে আসে নির্দায় লাস্য পড়শী ।
এবার বিশ্লেষণে গোল হয়ে কয়েকটি অনুতপ্ত ফড়িং
আমার উদ্বাস্তু স্রোতে কারা ঢেলেছিল জল ।