নাহার আলমের কবিতা

নাহার আলমের কবিতা

জড়ো করি, বড়ো করি

শরতের আড়মোড়া শেষে হেমন্ত আসে।
চারিদিকে মৌ মৌ সুবাসে নবান্নের গল্পেরা ভাসে।
কষ্ট করে নিষ্ঠা ভরে আমি জড়ো করি শুদ্ধ শ্বাসের এক আঁজলা শিশির। অনিচ্ছার সন্ধ্যায় যদিওবা সমূহ ক্ষতের ঘনব্যূহ ক্লান্তিরা জেগে আছে সহাস্যে, তবুও–
ঝেড়ে ফেলি দু’হাতে গেঁথে যাওয়া অসুখ সেসব। ঘুমের শেকড়ে লিখি অসমাপ্ত গল্পকথা।
নিষ্কলঙ্ক জীর্ণতার পাতা খুলে, হামলে পড়া হিংসের ধূলো ঝেড়ে অমোঘ মন্ত্রমায়ায় বড়ো করি একা হাতেই একটি নিটোল বসতির।

নেই আফসোস

কাকের ডানায় উড়ে চলে গ্যাছে ধানরঙ দুপুর,
শীতের পাখিরাও বেলাশেষে ফিরে গ্যাছে বহুদূর।
নিয়েছে মুছে সকল ফেলে আসা শ্বাস চলন্ত সময়
সূচির মিছিলে যোগ হয় নয়া শহিদে মিহি বলয়।
অ-লেখা বোলেরা রজনীর কোলে প্রতীক্ষায় তড়পায়;
ফাগুনের লাশে লুটানো মল্লিকারা শোকগীত গায়!

আমিও হেঁটে চলে যাই হাওয়ার মতো নির্মোহ কোলাহলে
দীঘল হৃদয়ে জমে জমুক যতো শব্দ ঝড়
ঢেকে নেবো তারে ছায়ার আঁচলে।
গৈরিকবসনা ফেরারি চাওয়াগুলো না-ই বা পেলো অবয়ব,
কী আছে আর, না ফিরে পাবার, হারিয়েছে যার সব!
আজকাল তাই আর হয় না কোনোকিছুতেই কোনো আফসোস।

একটি শব্দের টানে

আমি ছুঁয়ে আছি আজও তোমার ছেড়ে যাওয়া হলুদ ডায়রির সেই ধবল পাতা,
যে পাতায় লিখেছিলে তুমি আমার নামে একটিমাত্র কবিতা।
যেখানে শুয়ে আছে একটি বিষণ্ণ ফুলের মৃত ঝরাপাতা
যেখানে জেগে আছে গোপন কিছু কষ্টের একটুকরো নীরবতা।

জানি মনে নেই তোমার!
কতো জীবন্ত প্রেমজল মুক্তো হয়ে ঝরেছিলো তোমার আর আমার সেদিন ; যেদিন ধানিরঙ জোছনার দুপুরে বিরহী গল্পের জমিনে পুঁতেছিলাম স্বপ্নবীজ কতো ভালোবাসার!
জানি মনে নেই আজ তা-ও তোমার —
শপথের জানলায় আমি তো আজও রেখেছি পেতে কান- যদি আসো ফিরে আরও একবার!
ওই একটি শব্দের টানে ফিরি আমি বারবার খুঁজে নিতে আরও তেমনই একটি কবিতার!