লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের কবিতা

লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডলের কবিতা

গতিপথ

বৃষ্টির ফোঁটা পান করতে ঠোঁট ফাঁক করি , আমার পিঠে
হাত রাখে কেউ
পেছনে দেখার সময় নেই – তখনও আসছে জোয়ারের শব্দ
আমার প্রসারিত হাতে মেঘের পিঠে ধাক্কা খেয়ে জমাচ্ছে
কনকনে ব্যাথা
ধুলো উড়তে চাইছে
কয়েকটা কয়লা বোঝাই ট্রাকের ব্রেক ফেল
নাবালে নেমে যাচ্ছে মাতাল চাকার বেগ
গুনগুন গানের দেশ থেকে গড়িয়ে যাচ্ছে প্রকাণ্ড উনুনের কাছ
চিমনি দিয়ে গলগল বের হবে ধোঁয়া
প্রকাশ পাচ্ছে অন্ধকারের গতি পথ
একবিন্দু জলের জন্য ঠোঁট ফেটে রক্ত পড়ছে টপটপ –

নগ্ন ত্বক

কিছুটা বাতাস এলে মশাগুলো চলে যায়
বসে থাকা ভাবনার গালে অকারণ চড়চাপড় মারতে হয় না
এত মশা উড়ছে চারদিকে – যত সব আড়াল করা রক্ত চোষক
উন্মুক্ত শরীর পেলেই হুল ফুটিয়ে লেজ নাড়তে থাকে
যেন নেতৃত্ব দিচ্ছে আর শুষে নিচ্ছে সুখ
আজকাল বাড়িতেই তাক করে আসে একদল হুল নিয়ে
বাড়িতে উন্মুক্ত থাকে উরু কব্জি ঘাড় – খোলামেলা এলোমেলো
আর মশার উৎপাত ততই ,
একা একা অন্ধকার উপভোগ করার উপায় নেই গামছা গায়ে –
পোঁ পোঁ আওয়াজ আর তুলে নিয়ে যাচ্ছে সব স্বপ্ন দেখার সময় টুকু
লাল মানে রক্ত – তাই শুষে নিচ্ছে মশা এবং বাড়ি বয়ে এসে – নগ্ন ত্বকে শুধু দাগ
দেখে যাও এবার, ওরা কেমন ঢুকিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধ কালিন অবস্থা

ছাতিমগাছ

নিমপাতায় আটকে গেছে সূর্য –
একজোড়া কাক সামনে পেছনে উড়ছে কেন এটা জানতেই
আমি তাকিয়ে আছি গোবিন্দের দোকানের দিকে
ওখানের গুটকা পিঁয়াজ রসুন বিখ্যাত
ভিড় জমায় কাকলি মিতালি দের বাজারের ব্যাগ ; তাদের স্বামী হায়দ্রাবাদে ভাস্কর
যেটুকু জীবন সেটুকুও তারা বেঁচে নিতে গাছের পাতায় শিশির খোঁজে
আমি বলি কাজ দিতে পারে না সরকার , পরিবর্তে কেড়ে নেয় যৌনতা
সেই দোকানের সামনে মোবাইল যুবকরা শান্তিনিকেতন কায়দায়
লাগিয়েছে একটা ছাতিম গাছ –
ঝুলিয়ে দিয়েছে ‘ তোমার কাছে এ বর মাগি –‘
আমি বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি নিমপাতা রোদ
আসন্ন যুদ্ধের শব্দ স্পষ্ট হয়ে আসে একটা বিপন্ন সাঁকোর কাছে

মাধুরি

আর কোনো বিরোধিতা থাকার কথা নয় ; নিরাশার মাঝে ছায়া পেরিয়ে
বাঁশ ঝাড়ের নিচে খুঁজে দিয়েছে অগাধ পাতাবাহার
তারপর রোদের দিকে তাকিয়ে ছাতা বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রেকিং নিউজ
কাকলি ম্যাম : নয়নতারা রঙের নেশায় ঢুকে পড়ে পিচ রাস্তার ভীড়ে
একদিন ট্যাপের জল আনতে গিয়ে খুলে গিয়েছিল কোমরে জড়ানো কাপড়
জল ঝরছে ফুটিফাটা মধুময়ের শরীরে ; তাতেই দেখি
চটি পেরিয়ে মাটি লেগেছিল ; সদ্য ফাটা গোড়ালির সিক্ত মাধুরি
তারপর আমার চোখ আগলে রাখা বাঁশ বাতার বেড়া : এত বিচুটি গাছ তাতে
দেখে ভুলে গেছি কেতাবি পথ চলা – একটু সহজ ভাবে নিয়েছি রোদ
ঘাম ঝরে স্নিগ্ধ এই ছায়াতলায় , যখন দিনটাই দিনে চলে যায় –

গ্রীষ্মের ডালপালা

যারা কয়েকবার আমাকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে
তাদের মধ্যে কেউ কেউ খালের জলে ছিপ ফেলে বসে আছে
কেউবা ভাঙা সাকোর টুকরোগুলো জোড়া লাগাতে দড়ি বাঁধছে বাঁশের খুঁটিতে
বটপাতায় বাতাস লেগে মৌমাছির ঝাঁক উড়লেও তাদের কোন হুঁশ থাকে না
কেউ কেউ আকাশটাকে আঁধার করে দেয় : মৌমাছির নাম নিয়ে
তখন হনুমান মন্দিরে ঘন্টা বাজে : তারপর গ্রীষ্ম এবং গ্রীষ্মের মাঠ এবং গ্রীষ্মের ডালপালা
আমি শুনতে পাচ্ছি – তারাও শুনতে পাচ্ছে ধান ভাঙতে ভাঙতে
নিশ্বাস প্রশ্বাস নিয়মিত চলে যাচ্ছে একটা লতাপাতাময় খালের স্রোতে
আমিও বাঁচছি – তারাও পুনরায় লাঙল ধরতে চাইছেন ; ওদিকে তাকিয়ে আছেন
সুধা দিদি আর সমস্ত জলজ শালুক –